১০:৪২ পিএম, ৩ জুন ২০২০, বুধবার | | ১১ শাওয়াল ১৪৪১




করোনা পরিস্থিতিতে

অনলাইন কার্যক্রমে ঝুঁকছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

০২ মে ২০২০, ১০:২২ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কমঃ করোনাভাইরাসের প্রভাবে দীর্ঘ ছুটির কারণে অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। 

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই কার্যক্রমে বেশি যুক্ত হলেও সরকারি বা পাবলিক প্রতিষ্ঠানও অনলাইন ক্লাসে মনোযোগী হচ্ছে। 

গত ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সন্ধান পাওয়ার পর গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার।  সর্বশেষ ছুটি বাড়িয়ে আগামী ৫ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও থাকছে এই ছুটির আওতায়।  এদিকে পরিস্থিতি খারাপ হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটি থাকতে পারে এমনটাই জানান দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর মাধ্যমিক পর্যায়ের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগ্রহী হয়ে ওঠে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায়। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণার পর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দু-একটি ভার্চ্যুয়াল ক্লাস শুরু করে।  একে একে বাড়তে থাকে এই সংখ্যা।  আর যারা ভার্চ্যুয়াল ক্লাসে যেতে পারছে না তারাও অনলাইনে ভিডিও ক্লাস আপলোড করছে ছুটির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে। 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনলাইন শিক্ষা তাদের কার্যক্রমে যুক্ত হয়।  প্রাথমিকভাবে বিদ্যালয়গুলোকে অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে নির্দেশনা দেয় অধিদফতর।  তবে তারা ভার্চ্যুয়াল ক্লাসে নয়, ক্লাস রেকর্ডিং করে তা প্রচারের ব্যবস্থা নিয়েছে।  সংসদ টিভির মাধ্যমে ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়।  রেকর্ড করা ভিডিও ক্লাস ইউটিউব চ্যানেল খুলে সেখানে আপ করা হচ্ছে। 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম বিষয়ে বলেন, ‘করোনার কারণে দীর্ঘ ছুটির কারণে আমাদের ভিন্ন মাত্রায় যেতে হয়েছে।  সংসদ টিভির পাশাপাশি অনলাইনে ভিডিও ক্লাস আপলোড দিচ্ছি।  ইউটিউবে যাচ্ছে এসব ক্লাস।  করোনার এই পরিস্থিতির পরও অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত রাখা হবে শিক্ষার্থীদের। ’

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ্ বলেন, ‘সংসদ টিভিতে প্রচারের জন্য যেসব ভিডিও ক্লাস করা হয়েছে সেগুলো “ঘরে বসে শিখি” ইউটিউব চ্যানেলে যাচ্ছে।  এছাড়া আমরা “ঘরে বসে শিখি” আলাদা পোর্টাল করছি।  সেখানে ক্লাসগুলো আপলোড করা হবে।  যেকোনও সময় শিক্ষার্থীরা অনলাইনে এগুলো দেখতে পারবে। ’

করোনা পরিস্থিতির কারণে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিডিও ক্লাস এবং ভার্চ্যুয়াল ক্লাসে মনোযোগী হয়।  রাজধানীর নামকরা বিদ্যালয়গুলোতে শুরু হয় ভার্চ্যুয়াল ক্লাস নেওয়া।  রাজধানীর মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ চতুর্থ শ্রেণি থেকে একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ভার্চ্যুয়াল ক্লাস নিচ্ছে আগে থেকেই।  প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা  বলেন, ‘চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু করেছি।  তার এক সপ্তাহ পর থেকে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি এবং ২০ এপ্রিল থেকে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে ভার্চ্যুয়াল ক্লাস নিচ্ছি।  করোনার কারণে ছুটি বেড়ে যাওয়ায় এই ব্যবস্থা নিয়েছি।  ছুটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরোপুরি সব ক্লাস চলবে। ’ এক্ষেত্রে কলেজের ক্লাস সবচেয়ে ভালোভাবে হচ্ছে, অংশগ্রহণ খুবই ভালো বলে জানান অধ্যক্ষ। 

সরকারি ছুটির পরপরই ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজে রাজধানীসহ দেশের ১৫টি ক্যাম্পাসে ভার্চ্যুয়াল ক্লাস পরিচালিত হচ্ছে।  করোনা পরিস্থিতির আগেও জরুরি প্রয়োজনে এই প্রতিষ্ঠানটি ভার্চ্যুয়াল ক্লাস পরিচালনা করেছে।  এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসবি-ক্যামব্রিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান লায়ন এমকে বাশার বলেন, ‘প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত ক্যামব্রিয়ানের সব শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের কনটেন্ট প্রস্তুত করা আছে।  আমরা সব সময়ই ভার্চ্যুয়াল ক্লাসের উপযুক্ত অবকাঠামো প্রস্তুত রেখেছি।  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটির সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ভার্চ্যুয়াল ক্লাস পরিচালনা করছি।  আমাদের কোনও সমস্যা নেই।  প্রশিক্ষিত শিক্ষক যেমন রয়েছেন, তেমনি শিক্ষার্থীদেরও আমরা আগেই থেকেই প্রস্তুত রেখেছি। ’

উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘আমরা এক সপ্তাহ থেকে ভার্চ্যুয়াল ক্লাস শুরু করেছি।  ইংরেজি মাধ্যমেও ভার্চ্যুয়াল শুরু করা হয়েছে।  করোনার সময় ছুটিতে যাতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি না হয় সে কারণেই ভার্চ্যুয়াল ক্লাস শুরু করেছি। ’

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফওজিয়া রেজওয়ান বলেন, ‘আমরা ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকে অনলাইনে ভিডিও ক্লাস দিচ্ছি।  শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমরা আগে থেকেই এই ব্যবস্থা নিয়েছি।  খুব শিগগিরই ভার্চ্যুয়াল ক্লাসে যাবো। ’

শুধু প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়েই অনলাইন ক্লাস শুরু করা হয়েছে তা নয়।  বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আগে থেকেই অনলাইন ক্লাস এবং ই-ভ্যালুয়েশন চালিয়ে আসছিল।  করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি হলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইন ক্লাস পুরোপুরি শুরু করে।  গত গত ২৩ মার্চ অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উৎসাহিত করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।   গত ২১ এপ্রিল সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে চিঠি দিয়ে তথ্য চায় সংস্থাটি।  চিঠিতে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে কিনা, কতগুলো বিভাগে নেওয়া হচ্ছে এবং ক্লাসে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার কত– এসব বিষয় জানতে চায় ইউজিসি।  ইউজিসির প্রতি সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।  ইউজিসির বৈঠকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।  বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এক সপ্তাহের মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার নতুন একটি গাইড লাইন তৈরি করবে। 

ইতোমধ্যে ৬৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে।  আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অনলাইনে ক্লাস চালাচ্ছে সাতটি। 

ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখতে আমরা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে একটি গাইডলাইন তৈরি করবো।  বর্তমান পরিস্থিতিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে সে বিষয়েই এই গাইডলাইন তৈরি করা হবে। ’

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন দেশের ৫ কোটি ৯০ লাখ শিক্ষার্থীকে ভার্চ্যুয়াল ক্লাসে যুক্ত করা সম্ভব নয়।  এছাড়া সরকারি প্রাথমিকে এটি এখনই সম্ভব নয়।  তবে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চলবে।  আর সরাসরি ভার্চ্যুয়াল ক্লাসেও মোট শিক্ষার্থীর বড় একটি অংশ যোগ করা সম্ভব হবে। 


keya