১২:৪৭ পিএম, ২৬ মে ২০২০, মঙ্গলবার | | ৩ শাওয়াল ১৪৪১




অনিয়মের বেড়াজালে-স্বদেশ বন্দী" অতঃপর..

১৪ এপ্রিল ২০২০, ১০:২৭ এএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলমঃ আমাদের নিয়মনীতির বালাই নেই , সুযোগ সন্ধানী এই আমরাই দেশটাকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছি। 

কান্ড জ্ঞানহীন চলাফেরা-অযৌক্তিক কথাবার্তা-সমালোচনা-অহংকার-অসৎ উদ্দেশ্য-উশৃঙ্খল জীবনযাপন-চরিত্রহরণ সবকিছুই গ্রাস করে রেখেছে আমাদের।  

যেখানেই যায় সব জায়গায় অনিয়ম বাসা বেধে রয়।  রাস্তায় পুলিশ বসিয়ে দিয়েছে যেন নগরে অবৈধ গাড়ী ও অবৈধ মালামাল কোনো অবস্থায় প্রবেশ করতে না পারে।  

বছরে বছরে সরকার বিভিন্ন আন্দোলনের মুখে পড়ে অথবা নিয়মতান্ত্রিক মাসিক বেতন বৃদ্ধিও করছে তারপরও কি রাস্তায় দূর্নীতি বলেন আর ধান্দা বলেন এখনো কমেছে? ভালো কিছু করছেনা সেটা বলছিনা,ভালোর পাশাপাশি যে গুটিকয়েক কনস্টেবল কিংবা এএসআই, এসআইয়ের কারণে কেন এই ডিপার্টমেন্টের বদনাম হবে? 

আজকের চরম দূর্দশায় পুলিশের যে ভুমিকা তাও তো অস্বীকার করার উপায় নেই।  যেখানে নিজের আত্নীয়স্বজনরাও জানাজায় উপস্থিত হতে পারছেনা,লাশ দাফম-কাফন করার জন্য ভয় সেখানেতো পুলিশেই কাজ করছে।  

সামান্য কিছু টাকার জন্যে পুরো পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে কলঙ্কিত করার যৌক্তিকতা খুঁজে পাইনা।  ডাক্তারদের কথা কি আর বলবো, তারাতো রীতিমতো অনিয়মের মধ্যে ডুবে আছে।  

সরকারি চাকরি ফেলে ক্লিনিকে ক্লিনিকে চেম্বার খুলে বসে আছে অথচ যেটা কর্তব্য পালনে আগে জরুরি সেটাই সপ্তাহে দুই দিন যায় কিনা সন্দেহ আছে আর উপস্থিতি বেশি হলেও উপযুক্ত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়না আর নিজের চেম্বারে দেখা করার সুপরামর্শ দিয়ে থাকেন।  

তাহলে কি করে একটি অস্বচ্ছল বা সাধারণ জনগণের উপকারে আসছে? এক ডাক্তারের দেয়া  ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এক্সরে রিপোর্ট আরেক ডাক্তার সেটা একসেপ্ট করেনা বরং সেটা একটি বার দেখাও প্রয়োজনবোধ মনে করেনা সাথে সাথে আরেকটি করে নিয়ে আসার জন্য প্রেসক্রিপশনে লিখে দে।  

সরকারের কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য পদে পদে বিকল্প পথ খুঁজে বসে থাকে আর জায়গামতো ধরা খেলে অতীতের সমস্ত আয়-উপার্জন বেরিয়ে আসে এমনকি সম্পদ বাজেয়াপ্তও হয়ে থাকে।  চাকরি ক্ষেত্রে আরেক অনিয়মের কারখানা বলা যায়, মেধার জোরে নয়, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে বরং গায়ের জোর-মামার জোর-ফোনের জোরে চাকরি প্রদান যা জাতি ধ্বংসের অন্যতম কারণ। 

 অনিয়মের বেড়াজালে বন্দী মোরা, যেখানে বঙ্গবন্ধু বলেন আমার দোতলা বাসা থেকে একতলায় যেতে যেতে ১০০টাকা ৫০টাকা হয়ে যায় তাহলে আমার জনগণের হাতে যেতে যেতে সে টাকা কতো টাকা হয়ে যায় জানিনা।  

দেশের চলমান পরিস্থিতিতে হতদরিদ্রের মাঝে চাল বিতরণে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাঘরা ইউনিয়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠে।  

কক্সবাজার চকরিয়ায় নিন্ম আয়ের মানুষ  যাঁরা করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে তাদের জন্য যে ত্রাণ বিতরণ সেখানকার ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাফর আলমের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠে। 

 ঠিক তেমনি অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে গত ০৬ এপ্রিল ২০২০ চট্টগ্রাম হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে,শেষমেশ তাকে এই অভিযোগের ভিত্তিতে বরখাস্তও করা হয়।  নাটোরের সিংড়া উপজেলায় ৬নং ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহীন শাহ্, নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের৮ নং ওয়ার্ডের  সদস্য কবির হোসেন প্রত্যেকেই সরকারের অধীনে থেকে সরকারি বরাদ্দকৃত ত্রাণ লুটপাটে নিয়োজিত যার ফলে নিজের এলাকায় এবং নিজের মানসম্মান সবকিছুই নষ্ট হয়েছে।  নষ্ট হয়েছে সরকারের ভাবমূর্তি কারণ এমন পরিস্থিততিতে এই অবস্থা নাজানি দেশের উন্নয়নে যেহারে কাজ চলছে তাহলে কি পরিমান লুটপাট করছে আল্লাহ মালুম।  

বাংলাদেশ বিমানে বলেন বিমানবন্দরে বলেন অনিয়মের খবর লেগে আছে।  ভাড়া বেশি আদায় করার জন্য যাত্রীদেরকে টিকিট নেই বলে হয়রানি করা হয় অথচ দেখা যায় বিমানের অসংখ্য সীট খালি নিয়ে দেশত্যাগ করে, ফলে সরকারের টাকার বিশাল একটা অংশ নষ্ট করছে।  বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে আতাত করে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ চোরাচালানের পথকে গ্রীনরোডে পরিণত করছে।  

আর দেশে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে বড় বড় ব্যবসায়ীর খাতায় নাম লেখায় সবই অনিয়মের কুফল ছাড়া আর কিছুই নয়।  আমরাতো আসলে দেশকে ভালোবাসতে পারিনি তা নাহলে কেমনে দেশেকে অনিয়মের বেড়াজালে ফেলে ধ্বংসের দিকে ফেলে দিচ্ছি? সেজন্যই মহাজ্ঞানীদের মহা বাণী থেকে একটি উক্তি মনেপড়ে নাম তাঁর-রোনাল্ড রিগ্যান তিনি বলেন, "আমরা যদি আমাদের দেশকে ভালোবেসে থাকি,তাহলে আমাদের উচিত দেশের মানুষকে ভালেবাসা"। 

" If we love our country, we should also love our countrymen ".
লেখক:কলামিস্টঃচিত্রশিল্পী,মুহাম্দ   শাহীদুল আলম।     
            সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা ।