২:২৪ পিএম, ২ জুন ২০২০, মঙ্গলবার | | ১০ শাওয়াল ১৪৪১




অবজ্ঞায় না যাক জীবন - আর নয় সচেতন

২৩ এপ্রিল ২০২০, ০৯:৫৫ এএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলম: শিরোনামে " আর নয় সচেতন"-দেখে হয়তো চমকে গেলেন। কেন এমন হলো লিখার ধরণ?কারণ আমার আগের একটি কলাম "বাঙালি মানুষ হবে কবে? এই কলামটিতে বাঙালির স্বভাব কেমন তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি,যখন  করোনা ভাইরাস নিয়ে এই দেশে অতি মাত্রায় মাথা-ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি। 

সাধারণ জনগণকে সচেতন থাকার জন্য-পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।  যেইমাত্র সরকারী প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে দেশের সকল শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান একযোগে বন্ধ ঘোষণা করেছে তখন দেশের জনমনে ভাবনার জাল বুনে। 

কি হতে চলেছে দেশে? কারণ এদেশের মানুষ বড়ই অদ্ভুত, কেউ ভালে পরামর্শ দিলে সেখানেও কারণ খুঁজে সেটা নিয়ে পেটের নাড়িভুড়ি বের করে আনার চেষ্টা করে নেতিবাচক মনোভাব মাথায় ভর করে। 

বিশ্বে যখন কোরোনায় আক্রান্ত রোগীদের বাঁচাতে না পারার কারণে হাজার হাজার লোকের মৃত্যু মিছিলে পরিণত হয় আর চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় তখনও বাঙালির মনে একটুও ভয়ে কাজ করেনা। 

প্রবাসী বাঙালিরা যখন তাদের জীবন সংশয় নিয়ে প্রিয়জনকে বার্তা পৌছায় আর মিডিয়ায় ভাইরাল হয় যে, তাদের জীবন ঝুঁকিতে একমাত্র তাদেরকে প্রধানমন্ত্রীই পারে এদেরকে দেশে ফিরে আনতে কারণ ঐদেশের সরকার কেনোভাবেই দেশত্যাগ করতে দিবেনা তখনো বাঙালির মনে সংশয় বলতে কিছুই নেই অথচ হাজার হাজার বাঙালি দেশের বাহিরে পরিবারের মায়া ত্যাগ দিয়ে। 

আর এই মৃত্যুর যন্ত্রণা আর কতে ভয়ানক হতে পারে সেটি সেখানকার ডাক্তাররা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছিলো না,বিশেষজ্ঞদের মতে এই ভাইরাসের সংক্রমণে লক্ষ লক্ষ লোকের মৃত্যু হবে। 

সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারকরণ মাসজুড়ে লকডাউনের আওতায় নিয়ে আসা সত্যিই কাজে কোনো গাফিলতি ছিলোনা। আর আমাদের দেশে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম-কীট না থাকা সত্বেও,হাসপাতাল সংকট নিরসনের অপ্রতুলতা তারপরও এই ভাইরাসের ভয়াবহতা সম্পর্কে সজাগ না হয়ে, সচেতন না হয়ে উল্টো তড়িৎ গতিতে বিরূপ মন্তব্য করে বসে।  একদিকে সরকার জনগণের জান-মাল রক্ষা করতে সকল পন্থা অবলম্বন করছে অন্যদিকে ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল নির্মাণের সুযোগ হলেও আসছে জনগনের বাঁধা উভয় সংকট মোকাবেলা করতে গিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। 

একদিকে নিরাপদ থাকার জন্য মাইকিং-লিফলেট বিতরণ -লকডাউন করা এমনকি বিনাকারণে রাস্তায় ঘুরাঘুরি করার অপরাধে তুলে নিয়ে যাওয়া এর পরও এই জাতির সুসন্তানদের ঘরে রাখা যায়না ঠিক তখনই ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় হুজুগে বাঙালিরা সরকারের আইন অমান্য করে, পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতে জানাজায়  হাজার হাজার লোক সমাগম করা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখা নয় কি? অথচ অন্যদিকে রাষ্ট্রের প্রায় সকল নাগরিককে ঘরে থাকুন নিরাপদ থাকুন বলে আজ অব্দি হোম কোয়ারান্টাইনে থাকা নিরীহ লোকের প্রশ্ন জাগা খুবই স্বাভাবিক। 

মসজিদে মসজিদে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে ৫-১০জনের অধিক লোকের নামাজ না পড়া সেটা আমাদের স্বার্থে, সেটা কি ব্রাক্ষণবাড়িয়ার জন্য নয়? তাহলে এতোদিনের হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান করার কোনো অর্থই হয়না।  তার পরিণামে সেই এলাকার ওসি-কে দায়িত্ব থেকে অব্যবহিত দেয়।  আশপাশের কয়েকটি এলাকা লকডাউনের আওতায় নিয়ে আসে।  তখন সেনা টহল দেওয়া লোকদের অবগত করতে পারতো।  আমাদের চোর পালালেই বুদ্ধি বেড়ে যায়, তাদের এই অধিকার দিয়েছে কে? নিজে মরবে আবার দেশের হাজার হাজার জনগণকে হুমকির মুখে ফেলবে সেটাতো হয়না। 

এখন আর সচেতন করা নয় এখন মৃত্যুকে কিভাবে আলিঙ্গন করা যায়, আর সে মৃত্যু যেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে না হয় আল্লাহর দরবারে এই ফরিয়াদ ছাড়া আর কিছুই নেই।  এখনো আমাদের মাথায় আসছেনা যে মানুষগুলো এই ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে আক্রান্ত হচ্ছে তাঁরাতে সুস্থ লোক ছিলো আজ তাদের প্রতি যে অবহেলা করা হচ্ছে-আক্রান্তের খবর শুনে আশপাশের লোক নিকট আত্নীয় কেউ কাছে আসার সাহস করে না তাতেই কি আমাদের বিবেককে নাড়া দে না? আমরা প্রতিনিয়ত সোস্যাল মিডিয়ায়-ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় দেখতে পাচ্ছি আর শুনছি যে জায়গায় করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে তাদের কাছেতো যাওয়া প্রশ্নই উঠে না বরং তাঁর সঙ্গে থাকা লোকদের এবং তাঁর স্বজনরা পর্যন্ত মহা বিপদে থাকে।  তাদের প্রতি ১৪ দিনের অথবা তা অধিক সময় সম্পর্ক ছিন্ন করা হয় কেউ সুনজরে দেখে না। 

মনেহয় মহাপাপের ফল, তখন চোখে জল আসে নাজানি কখন এই পরিস্থিতির স্বীকার হতে হয়! আল্লাহ আমাদেরকে সেপথ থেকে রক্ষা করুক,জাতিকে মহামারীর হাত থেকে রক্ষা করে সুন্দর জীবন গড়তে, সবাইকে সুস্থ মনমানসিকতা দান করুক।  কারো জীবন যেন এই অবজ্ঞা নিয়ে না যাক। 

"যত তোমায়
ডাকি আমার কাছে কাছে
ততই আমি
ঘুরি তোমার পাছে পাছে"। 

লেখক:কলামিস্টঃচিত্রশিল্পী,মুহাম্দ   শাহীদুল আলম।     
            সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা ।  


keya