৯:৩৪ পিএম, ২৩ আগস্ট ২০১৯, শুক্রবার | | ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০




অবশেষে প্রাণ ফিরে পেতে যাচ্ছে জীবনানন্দ দাসের সেই মরা ধানসিঁড়ি নদী

২৪ এপ্রিল ২০১৯, ০৪:৫৬ পিএম | জাহিদ


মো.রাজু খান, ঝালকাঠি : অবশেষে দীর্ঘ দুই যুগ প্রাণহীন থাকার পর প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাসের সেই মরা ধানসিঁড়ি নদীতে।  বহুল প্রতিক্ষিত ধানসিঁড়ির খনন কাজ শুরু হওয়ায় নদী পাড়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছাস শুরু হয়ে গেছে। 

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা সদরের বাঘরি ও ঝালকাঠির সদর উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ছত্রকান্দা এলাকা থেকে একযোগে খনন কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।  ধানসিঁড়ির খনন কাজ শেষ হলে দুইযুগ ধরে বন্ধ থাকা ঝালকাঠি-রাজাপুর নৌ পথের যোগাযোগ আবার শুরু হবে।  ফলে খুব সহজে ও অল্প খরচে জেলা সদর দিয়ে ব্যবসায়ীরা পন্য পরিবহন করতে পারবেন।  পাশাপাশি কৃষকদের এক ফসলি জমিগুলো তিন ফসলি জমিতে পরিণত হবে। 

এ ছাড়া জেলেদের মাছ ধরাসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষ নদীর সুফল ভোগ করতে পাড়বেন।  অপরদিকে জীববৈচিত্র সুরক্ষিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ঠরা।  ঝালকাঠির সুগন্ধা, বিশখালী ও গাবখান চ্যানেলের মোহনা থেকে ধানসিঁড়ি নদীর উৎপত্তি।  সেখান থেকে সারে ৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রাজাপুর খালে মিশেছে নদীটি।  রাজাপুর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়ে জাঙ্গালিয়া নদী হয়ে আবার বিশখালীতে মিশেছে ধানসিঁড়ির পানি প্রবাহ।  কিন্তু গত দুই যুগ ধরে ধানসিঁড়ির তলদেশে পলি জমে ভরাট হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পরে।  তাই মরা ধানসিঁড়িতে প্রাণ ফেরাতে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ধানসিঁড়ি খনন প্রকল্প গ্রহণ করে। 


এ প্রকল্পে ঝালকাঠি সদর উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন থেকে রাজাপুর সদরের বাঘরি পর্যন্ত সারে ৮ কিলোমিটার এলাকা খনন করা হচ্ছে।  ৪টি এস্কেভেটর (ভেকু) মেশিনের  মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছে।  কার্যাদেশ অনুযায়ী, ধানসিড়ি সারে ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য, ৭০ ফুট চওড়া, ১০ ফুট গভীর ও তলদেশ ২০ ফুট চওড়া করার কথা রয়েছে।  ইতোমধ্যেই রাজাপুর অংশের প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকা খনন করেছেন সংশ্লিষ্ঠ ঠিকাদার। 

সম্প্রতি সরেজমিনে খনন এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ চাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে।  ধানসিড়ি পাড়ের চর ইন্দ্রপাশা গ্রামের আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা জব্বার হাওলাদার বলেন, ‘বহুবছর ধানসিড়িতে পানি ছিলো না। 

ফলে কৃষক, জেলে, মাঝিসহ সাধারণ মানুষ দারুণ কষ্টে ছিল।  খনন শেষ হলে ধানসিঁড়িতে পানি আসবে।  তাই মাছ শিকাড়ের জন্য জাল মেরামত করছি।  দির্ঘদিন পরে হলেও অবশেষে নদীটি খনন হওয়ায় আমরা ধানসিড়ি পাড়ের মানুষেরা দারুণ খুঁশি হয়েছি। ’

হাইলাকাঠি গ্রামের কৃষক মো. মোসলেম আলী বলেন, ‘এ নদীকে ঘিরে আমাদের বহু আনন্দঘণ স্মৃতি রয়েছে।  আমরা ছোটবেলায় ধানসিঁড়ির সৌন্দর্য দেখেছি।  আবার ধীরে ধীরে অপরূপ ধানসিঁড়ির মৃত্যুও দেখেছি।  অবশেষে ধানসিঁড়িতে আবার পানি আসছে ভেবেই ভাল লাগছে। ’

রাজাপুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মো. সবুর বলেন, ‘আগে ধানসিঁড়ি নদী দিয়ে নৌকা ও  ট্রলারে যেমন মানুষ যাতায়াত করতে পারতো তেমনি ব্যবসায়ীরাও খুব সহজে এবং অল্প খরচে পণ্য পরিবহন করতে পারতো।  কিন্তু গত দুইযুগ ধরে সেই সুবিধা থেকে বি ত ছিল এ অ লের মানুষ।  অবশেষে ধানসিঁড়ি খনন হওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ’

রাজাপুর কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রিয়াজউল্লাহ বাহাদুর বলেন, ‘ধানসিঁড়ি খনন সম্পন্ন হলে দুই পাড়ের কৃষি জমিগুলো তিন ফসলি জমিতে পরিণত হবে।  ফলে কৃষি উৎপাদনে নদীটি ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পাড়বে। ’ 

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘৪ কোটি ৪৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭৫১ টাকা ব্যয়ে দুই বছর মেয়াদী এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।  কাজটি যেন সঠিক ও সুন্দরভাবে হয় আমরা সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। ’ 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক বলেন, ‘খনন কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।  আশাকরি দ্রুতই কাজ শেষ হবে।  এরপর ধানসিড়ি আবার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে।  দুই পাড়ের মানুষের আর পানির অভাব থাকবেনা।  এ ছাড়া খনন এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও কাজ করা হবে।  ফলে প্রকৃতি প্রেমি মানুষদের ভীড় বাড়বে ধানসিড়ি পাড়ে। ’