১০:০৮ পিএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, শনিবার | | ৬ রবিউস সানি ১৪৪০




অর্থ যেখানে মূল্যহীন!

০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫:৪৪ পিএম | জাহিদ


আব্দুল্লাহ গালিব রাফি, এসএনএন২৪.কম : কথায় আছে, টাকায় নাকি বাঘের চোখও মিলে অথবা আমরা শুনে আসছি, টাকায় কি না হয়!...এভাবে আরো কত কথাই না আমরা শুনি।  যেমন টাকা থাকলে চাঁদের দেশেও বাড়ি বানানো যায়।  কিন্তু আর্থিক  সামর্থ্যের দাম্ভিকতা কোথাও কোথাও অসহায় হয়ে পড়ে।  চাঁদের দেশ নয়, পৃথিবীর বুকেই এমন কিছু জায়গা রয়েছে, যেখানে যাওয়া অসম্ভব ।  রয়েছে বিভিন্ন বাধা, নিষেধাজ্ঞা।  কোথাও আবার পালন করা হয় গোপনীয়তা।  লোকচক্ষুর আড়ালে রেখে পরিচালিত হয় কার্যক্রম।  

এবারে জেনে নেয়া যাক পৃথিবীর বুকে এমনই রহস্যময় কিছু জায়গা সম্পর্কে...

এইচএএআরপি, যুক্তরাষ্ট্র

১৯৯৭ সালে এই অ্যান্টেনা (বেতার) ক্ষেত্রটি স্থাপন করা হয়েছে আলাস্কার এক জনশূন্য উপত্যকায়।  স্থাপনাটি ৩২ একর (১৩ হেক্টর) জায়গার উপর স্থাপিত।  এইচএএআরপি (হাই ফ্রিকুয়েন্সি অ্যাক্টিভ অরোরাল রিসার্চ প্রোগ্রাম) ছিলো ষড়যন্ত্র তত্ত্ববিদদের একটি লক্ষ্য।  তাদের দাবি অনুযায়ী, এই লক্ষ্যবস্তুটি জলবায়ুতে বৈসাদৃশ্য আনার সম্ভাবনা রাখতে, উপগ্রহ বন্ধ করতে এবং মানুষের মনের উপর দখল আনতে পারে।  তারা এই বিষয়েও একেবারে নিশ্চিত ছিলো যে, এই কার্যক্রমটি ভূমিকম্প, খরা, হারিকেন, বন্যা ও যেকোনো ধরনের মহামারী ঘটাতে সক্ষম।  আলাস্কার জনশূন্য এক উপত্যকায় এর অবস্থান।  


মেযগোরিয়ে, রাশিয়া

শহরটি রাশিয়ার খুব কাছাকাছি শহরগুলোর মধ্যে একটি।  সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী শহরটি রিপাবলিক অব ব্যাশকোরট্যাসটেনে স্থাপিত।  এমনও শোনা যায় যে, সেখানে মাটির নিচে একটি রাজধানী রয়েছে।  এটি একেবারেই ভিন্ন রাশিয়ার অন্যান্য শহরের চাইতে।  কারণ সেখানে নেই কোনো গবেষণা কেন্দ্র, সামরিক সুযোগ-সুবিধা, পারমাণবিক অস্ত্র, পারমাণবিক জ্বালানি শক্তি ইত্যাদি।  এই বিষয়টি এখন পর্যন্ত অজানা এবং অস্পষ্ট রয়ে গিয়েছে যে, মেযগোরিয়েতে মূলত কী করা হতো বা এর পেছনের উদ্দেশ্যটা কী।  রাশিয়ার সরকার দ্বারা এখানে যেকোনো জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ।  অনেকেরই বিশ্বাস সেখানে রয়েছে কর্তব্যরত কর্মী, যারা পারমাণবিক শক্তি সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য কাজ করে থাকেন।  

বোহেমিয়ান গ্রোভ, যুক্তরাষ্ট্র

এগারো বর্গ কিলোমিটারের পুরো একটি এলাকা পুরুষদের নিজস্ব ক্লাব বা সমিতি যা স্যান ফ্রান্সিসকোতে অবস্থিত।  আর এটিই বোহেমিয়ান ক্লাব নামে পরিচিত।   ১৮৯৯ সাল থেকে প্রতি বছর জুলাই মাসে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের গণ্যমান্য লোকেরা জড়ো হয় সেখানে।  ১৯২৩ সাল থেকে রিপাবলিকান পার্টি থেকে রাষ্ট্রপ্রধান, রাজনীতিবিদ, উদ্যোক্তা, শিল্পী ও বিজ্ঞানীরা এই ক্লাবের সদস্য হয়েছিলেন এবং এখনও হয়ে যাচ্ছেন।  প্রায় একশত বছরেরও বেশি সময় ধরে এই ক্লাবের কার্যকলাপ গোপন রাখা হচ্ছে।  নিষিদ্ধ জায়গা এবং গোপন কার্যকলাপের এই ক্লাবকে ঘিরে রয়েছে নানা গুঞ্জন এবং অনুমান।  কারো কারো মতে, বোহেমিয়ান ক্লাব ছিলো নতুন বৈশ্বিক সরকার।  আবার কারো কারো মতে এই জায়গাটি ছিলো শয়তানের আস্তানা।  বোহেমিয়ান গ্রোভে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি নেই।  

মাউন্ট অ্যাথোস, গ্রিক মেসিডোনিয়া

মহিমান্বিত এই পর্বতটি ২০টি বিস্ময়কর ও অদ্ভুত আশ্রমের আশ্রয়স্থল।  সুন্দর এই দৃশ্য দেখার অনুমতি সবার নেই।  কোনো নারী, এমনকি স্ত্রী লিঙ্গের কোনো পশুরও সেখানে যাওয়া নিষেধ।  আর কোনো নারী যদি এই আইন ভঙ্গ করে সেখানে যাওয়ার সাহসটি দেখিয়েই ফেলে, তবে তার জন্য রয়েছে শাস্তির বিধান। 


ক্রোন্সটাড, রাশিয়া

সেন্ট পিটার্সবার্গ রক্ষা করার উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয় এই শহরটি।  সেখানের পুরাতন দুর্গগুলোর (যেগুলো প্রতিরক্ষা নির্মাণ হিসেবে রয়েছে) কারণে প্রচুর পর্যটকের আনাগোনা দেখা যায়।  প্রতিটি দুর্গেরই রয়েছে নিজস্ব বীরত্ব গাঁথা ইতিহাস এবং মহিমান্বিত নাম।  যেমন- ক্রোনশলট, সিটাডেল, প্রিন্স মেনশিকভ এবং আরও অনেক।  বর্তমানে এই বন্দরটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলেও বেশিরভাগ দুর্গই বন্ধ অবস্থায় থাকে।  কারণ সেগুলো নিরাপদ নয়। 


দ্য ডানাকিল ডেজার্ট, ইথিওপিয়া

ইথিওপিয়ার এই জায়গাটি বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণতম স্থান এবং বিশ্বের সবচেয়ে নিম্নতম স্থান যা সমুদ্রপৃষ্ঠের ১০০ মিটার নিচে অবস্থিত।  পর্যটকেরা সেখানে যেতে চায় না জায়গাটি বেশ অনন্য হওয়া সত্ত্বেও ।  বিজ্ঞানীদের মতে, এই জায়গাটি হোমিনিডদের বংশগত আশ্রয়স্থল।  এটাই সেই জায়গা যেখানে হোমিনিড প্রজাতির একমাত্র অবশিষ্ট স্ত্রীলোক অস্ত্রালোপিথেকাস আফারেনসিস লুসিকে (প্রথমদিককার মানব প্রজাতি, যারা সর্বাধিক সময়ের জন্য বেঁচে ছিলো ও সর্বাধিক পরিচিত ছিলো) খুঁজে পাওয়া গিয়েছিলো।  বিজ্ঞানীদের মতে, এই জায়গাটি হোমিনিডদের । 


ওয়েমইয়াকোন, রাশিয়া

পৃথিবীর শীতলতম জায়গা এটি।  এ জায়গার উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পুরোটাই সারা বছর বরফে ঢাকা থাকে।  সাইবেরিয়ার উত্তর-পূর্ব দিকের ছোট্ট এই গ্রামটির গড় তাপমাত্রা থাকে -৫২ ডিগ্রী সেলসিয়াস।  সেখানকার আবহাওয়া এতটাই শীতল যে, সেখানে ফুটন্ত গরম পানিও সেকেন্ডের মধ্যেই বরফ পানি হয়ে যায়।  ওয়েমাইকান শব্দটির অর্থ হলো, যে পানি কখনোই বরফে রূপান্তরিত হয় না।  আর আশ্চর্যের বিষয় হল এই নামের জায়গাটির তাপমাত্রাই নেমে -৭১ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত দাঁড়ায়।  জায়গাটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭৫০ মিটার উঁচুতে যেখানে প্রায় ৫০০ মানুষের বাস।  তারা মূলত হরিণ, ঘোড়ার মাংস এবং হরিণের দুধ খেয়ে বেঁচে থাকে।  কারণ এই আবহাওয়ায় কৃষিজাত পণ্য চাষ সম্ভব নয়। , এই নিদারুণ আবহাওয়ায় সেখানকার মানুষ বসবাস করে যা সত্যি অবাককর।  


জাভারি ট্রাইব, ব্রাজিল

ব্রাজিল ও পেরুর মধ্যবর্তী সীমান্তে অনুসন্ধানকারীরা এমন একটি উপজাতির সন্ধান পেয়েছে, যারা সেই সভ্যতা থেকে একেবারেই আলাদা।  সেখানে থাকা ১৫০ জন মানুষকে দাসদের বংশধর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।  বাইরের বিশ্বকে তারা এড়িয়ে চলে এবং প্রকৃতির সাথে সাদৃশ্য বা মিল রেখেই করে জীবনযাপন।  এই আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বেশ উদ্বিগ্ন থাকে।  তাই সে জায়গাটিতে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে। 


দ্য পিটক্যাইরন আইল্যান্ড, ব্রিটিশ উপকূলীয় অঞ্চল

সেখানে বসবাসকারী ৫০ জন মানুষের সবাই পুরো পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিছিন্নভাবে জীবনযাপন করেন।  তাদের বেশিরভাগই বিশিষ্ট জাহাজ, এইচএমএস বাউন্টি বা এইচএম আর্মড ভেসেল বাউন্টি (বোটানিক্যাল মিশনের সময় রাজকীয় নৌবাহিনীর কেনা বাণিজ্যিক জাহাজ) এর পরিচালনায় নিযুক্ত কর্মীবৃন্দের বংশধর।  এর সদস্যরা জায়গাটি এতই পছন্দ করেছিলো যে, তারা সেখানেই থেকে যেতে চেয়েছে।  তাই তারা জাহাজটি পুড়িয়ে ফেলে।  পিটক্যাইরনে যাওয়ার সুনিশ্চিত কোনো ব্যবস্থা নেই।  তাই নিউজিল্যান্ড থেকেই শুধুমাত্র লক্ষ্যহীন জাহাজ সেখানে গিয়ে পৌঁছায়। 


মোটুয়া, চীন

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য এই জায়গাটি একটি পবিত্রভূমি।  অবাক করার মতো বিষয় হলো, সেখানে যাওয়ার জন্য কোনো সড়ক বা রাস্তাঘাট নেই।  যদি সেখানে গিয়ে কেউ শতাব্দীর জ্ঞান অর্জন করতে চায়, তবে সেই বন্য পাহাড় পর্বতের পাড় ধরে পায়ে হেঁটে যেতে হবে তাকে।  সেখানে পাতালের ওপর ৬৫৫ ফুট লম্বা একটি নড়বড়ে সেতু রয়েছে।  ঠিক যেমনটি রয়েছে ইন্ডিয়ানা জোন্স সিনেমায়। 


সিনসিনাটি সাবওয়ে, যুক্তরাষ্ট্র (ওহায়ো)

সিনসিনাটি সাবওয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিত্যাক্ত সব সুড়ঙ্গপথ ও স্টেশনের বৃহত্তম সেট।  বিংশ শতাব্দীতে এটি তৈরি করা হলেও বর্ধিত খরচের জন্য এটি স্থগিত রাখা হয়েছিলো।  তাই শেষমেশ এটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় থেকে যায়।  নির্মাণাধীন অবস্থায় সাবওয়েতে বেশ বড় দুর্ঘটনা ঘটে।  ফলে বহু সংখ্যক কর্মী মারাত্মকভাবে আহত হন এবং মৃত্যুবরণ করেন।  তাদের লাশ সরিয়ে ফেলা হলেও বিশ্বাস করা হয় যে, তাদের আত্মা এখনও ফাঁকা হলগুলোতে ঘোরাফেরা করে।  সেখানে সাধারণত পর্যটকরা যেতে পারেন।  তবে শুধুমাত্র প্রতি বছরের মে মাসে। 




keya