১১:৩৫ এএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার | | ১০ রবিউস সানি ১৪৪০




অশুভ ত্রিভুজের অংশ তুরস্ক : সৌদি যুবরাজ

০৮ মার্চ ২০১৮, ০৮:৪০ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম : তুরস্ক অশুভ ত্রিভুজের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।  মিসর সফরকালে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোর সম্পাদকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

সৌদি যুবরাজ বলেন, তুরস্ক, ইরান ও কট্টর ইসলামপন্থী দলগুলোকে নিয়ে একটি অশুভ ত্রিভুজ তৈরি হয়েছে।  মিসরীয় সংবাদমাধ্যম ‘আল শরোক’-এর বরাত দিয়ে বুধবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। 

তুরস্কের বিরুদ্ধে শত বছর আগে পতন হওয়া অটোমান সাম্রাজ্য বা ইসলামি খিলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টারও অভিযোগ করেন সৌদি যুবরাজ। 

মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ কাতারকে নিয়েও উপহাস করেন সৌদি সিংহাসনের এই পরবর্তী উত্তরাধিকারী।  তিনি বলেন, উপসাগরীয় এই দেশটি কায়রোর একটি সড়কের চেয়েও ক্ষুদ্র।  তবে দেশটির সঙ্গে সৌদি জোটের বিবাদ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।  এ সময় তিনি ৬০ বছর আগে কিউবার বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করেন। 

সৌদি যুবরাজ বলেন, আয়তনে ছোট হওয়ায় কাতারের সঙ্গে বিবাদের প্রতিক্রিয়াও খুব বেশি হবে না। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে তুরস্ক।  সৌদি জোটের কাতারবিরোধী অবরোধ বলতে গেলে প্রায় একাই অকার্যকর করে দিয়েছে আঙ্কারা।  ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস এবং মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে এরদোয়ান সরকারের সম্পর্ক নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে রিয়াদের।  তুর্কি-ইরান সম্পর্ককেও ভালো চোখে দেখে না সৌদি আরব।  এর বাইরে মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বও যেন সৌদি আরবের কাছ থেকে কেড়ে নিচ্ছে তুরস্ক।  সব মিলিয়ে তুরস্কের প্রতি সৌদি সরকারের পুঞ্জিভূত ক্ষোভই যেন বিষেদগারে রূপ নিলো সৌদি যুবরাজের কণ্ঠে। 

সৌদি যুবরাজের ওই বক্তব্যে তুর্কি সরকারের কোনও দাফতরিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।  তবে দেশটির সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করছেন তুর্কি নাগরিকরা।  ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি যুবরাজের দহরম মহরমের দিকে ইঙ্গিত করে তুরস্কের সাংবাদিক ও কলামিস্ট ইব্রাহিম কারাগুল বলেন, জেরুজালেমদের দখলদারদের সঙ্গে নিয়ে সৌদি যুবরাজ পবিত্র কাবা ঘরকে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন না। 

ইব্রাহিম কারাগুল বলেন, ইসরায়েল, আরব আমিরাত, মিসর, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাকাঠামে তুর্কিবিরোধী একটি ফ্রন্ট তৈরি করেছে।  তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে তুরস্ককে থামিয়ে দেওয়া।  এ অঞ্চলে তুর্কিকে দুর্বল করতে তারা সব ধরনের চেষ্টা করে যাচ্ছে। 

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৫ জুন কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসর।  স্থল, নৌ ও বিমান পথে দেশটিকে অবরুদ্ধ করে সৌদি জোট।  ওই অবরোধকে রক্তপাতহীন যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলে মন্তব্য করেন কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মাদ বিন আব্দুররহমান আলে সানি।  তার ভাষায়, সৌদি আরবের নেতৃত্বে কয়েকটি দেশ দোহার বিরুদ্ধে প্রকারান্তরে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।  ওই অবরোধের মুখে তুরস্ক ও ইরানের দিকে ঝুঁকে পড়ে কাতার।  তুর্কি অর্থমন্ত্রী নিহাদ জিবেকজি মন্তব্য করেন, কাতারের চাহিদা পূরণে তুরস্কই যথেষ্ট।