১০:২৯ পিএম, ১১ জুলাই ২০২০, শনিবার | | ২০ জ্বিলকদ ১৪৪১




অসাধু ব্যবসায়ীদের লোভ আর জনগণের ক্ষোভ"

২৫ মার্চ ২০২০, ০৮:০২ এএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলমঃ ব্যবসা মানে অর্থের বিনিময়ে বসে বসে জনগণের সেবা করা। 

আর সেবায় পরম ধর্ম, এমনকি ইসলামেও ব্যবসাকে হালাল করেছেন আর সাথে এটাও বলেছেন "তোমরা ব্যবসা করো তবে ওজনে কম দিও না" অর্থাৎ ঠকায়ও না। 

আমরা এখনো জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে সভ্য হতে পারিনি।  কেননা সভ্য হওয়া মানেই তো সৎ, সততার পরিচয় বহন করে। 

আজকের আলোচনায় সেসব ব্যবসায়ীদের কথা বলা হচ্ছে - যাদের কাছে ব্যবসা হলো রাতারাতি বড় লোক হওয়ার কেন্দ্রস্থল, আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে যাদের চিন্তা-চেতনায় ঘুরপাক খাই, কিভাবে অসৎ উপায়ে, ভেজাল করে, দুই নাম্বার পণ্যকে গুণগত মানের দিক আর টেকসই কিংবা একনাম্বারের চেয়ে কম নয়, সাত পাঁচ চৌদ্দ বুঝিয়ে টাকা উপার্জন করবে সেসব "অসাধু ব্যবসায়ীদের লেখনির মাধ্যমে উপযুক্ত বাঁশ দেওয়ায় হলো মূল উদ্দেশ্য। 

দেশটায় ভেজালে ভরা, এক দোকান থেকে পণ্য নিয়ে অন্য দোকানে ওজন দেখলে দেখা যায়  ওজনের তারতম্য। 

মাছের বাজারে যান একি অবস্থা, দামে কম নিবেনা কিন্তু ওজনে কম দিয়ে সেখান থেকেও খেয়ে নিবে।  মাংসের দোকানে যান পাঁচশত টাকার উপরে এক কেজি মাংস তাও আবার হতদরিদ্রের কপালে মাসেও জোটেনা, সেখানেও ওজনের ক্ষেত্রে তারতম্য। 

যদি ১০০গ্রামও কম দেওয়া যায় প্রতি কেজিতে ৫০টাকা করে প্রথম ধাপে মেরে দিচ্ছে তাহলে চিন্তা করে দেখা যাক দৈনিক কতো টাকা অসৎ উপায়ে উপার্জন করে। 

সাধারণ মানুষগুলোর অপরাধ কোথায়? তাঁরাতো চুরি করার জন্যে বাজার করতে যায়না, তাহলে কেন এই অসাধু ব্যবসায়ী যারা নামাজ পড়ে কিনা জানা নেই কিন্তু মাথায় টুপি দিয়ে,আগরবাতি জ্বালিয়ে, ক্যাশবাক্সে পানি ছিটিয়ে সাধারণ  মানুষের  "মাথায় ভারী" দেওয়ার জন্য খুলে রেখেছে? দোকানদারের মনমানসিকতা সবারতো এক নয় কারো কারো উদ্দেশ্য নূন্যতম লাভে ব্যবসা করা যাতে ক্রেতা সন্তুষ্টি থাকে সেক্ষেত্রে কোনো অভিযোগ থাকেনা। 

এক লিটার দুধ কিনবেন সেখানেও ভেজাল, ফলফলাদির দোকানেও একি অবস্থা উপযুক্ত টাকা দিচ্ছেন ভালো মানের পণ্য দিতে কিন্তু সেখানেও ভেজাল। 

হার্ডওয়্যারের দোকান, মুদির দোকান, ঔষধের দোকান এইসব দোকানগুলো ভয়ংকর।  হার্ডওয়্যার এর দোকানে যান কোনো আইটেমের মূল্য সাঁটানো নেই যার ফলে বুঝার উপায় নেই কোনটার মূল্য কত।  টন প্রতি লোহার ওজনে স্কেলে উনিশ-বিশ সেট-আপ করে সেদিক থেকে একদাগে খেয়ে ফেলবে অথচ দাম আপনার থেকে বরাবরই নিচ্ছে, তারমধ্যে কোম্পানি থেকে একটি অংশ পায় এরপরও তাদের আশাব্যঞ্জক হয়না। 

ঔষধের দোকানে যাবেন সেখানেও কোনো ঔষধের মূল্যচার্ থাকেনা বরং সে সময়টা প্রত্যেকের জন্য স্পর্শকাতর কেননা ঐসময়ে রোগীর কথা ভেবে কোনো মূল্য যাচাইয়ের সুযোগ থাকেনা এমনকি টাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় লাইনে। 

একটা প্রেসক্রিপশনে যেকয়টি ঔষধ দেওয়া হয় তা আলাদা আলাদা ভাবে মূল্য জানার কথা নয়।  জানা থাকালে কিছু কমন ঔষধের জানা থাকে কিন্তু তখন কিভাবে আগে রোগীর কাছে পৌঁছানো যায় সেটাই কাজ করে। 

এতোক্ষণ ধরে অনেক ধরনের ব্যবসার অসৎ উপায়ে সাধারণ জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার সে অসাধুতার সংক্ষিপ্ত কথা তুলে ধরা হলো। 

এখন আসা যাক বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী "করোনা ভাইরাসের" ছোবল থেকে বাঁচতে দেশব্যাপী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কিছু জায়গায় লকডাউন সহ শেষ পর্যন্ত সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তও সরকার নিয়েছে তার একমাত্র কারণ দেশের জনগণকে রক্ষা করার।  ঋণগ্রস্ত মানুষের কথা ভেবে ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের ঋণ গ্রহণের কার্যক্রম আপাতত কয়েকমাসের জন্য স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। 

যাতে জনগণের অসুবিধা নাহয় তাহলে কিভাবে এই করুন পরিস্থিতিতে এই অসাধ ব্যবসায়ীরা মানবিক চিন্তা বাদ দিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধি করে? তাদের কি করোনার ভয় নেই? করুণা তো জনগণের প্রতি নাই সে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু থেকেই। 

প্রশাসন যে কয়দিন রাস্তায় নামে ঠিক থাকে আর সাথে সাথে পণ্য কিছুর মূল্য বরাবর রেখে সাঁটিয়ে দে। যেইমাত্র প্রশাসন চলে যায় আবার "যে লাউ সেই কদু" দাম আগের মতোই। 

এখন বলতে পারেন সাধারণ কেটে খাওয়া মানুষগুলি দিনের উপার্জন না জুটলে কেনা হবেনা তার মধ্যে ১৪/১৫ দিনের মতো অনেক দোকান বন্ধ থাকবে তাদের কর্মক্ষেত্রও থাকবেনা, কি করে ঔষধের দাম, চাউলের দাম,নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি করেন? দেশে অসাধু ডাক্তারও ভরপুর তাঁরাও রীতিমতো কমার্শিয়াল হয়ে গেলো সে অনেক আগেই।  সেবার নিয়তে মা-বাবার স্বপ্ন সেটা আর নেই এখন যা টাকা ব্যয় করা হয়েছে তা বছরের মধ্যেই তুলে ফেলতে হবে। 

তানাহলে সামান্য রোগেও এই টেস্ট, সেই টেস্ট কি প্রয়োজন? আবার ঔষধও লিখবে যে কোম্পানি থেকে অগ্রিম টাকা পেয়েছে আর বিভিন্ন দামী গিফট আর এক্সরে দেওয়ায় কমিশন সব মিলিয়ে এসব ডাক্তারও দেশের জন্য অভিশাপ।  আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজতে রাখুক আর বিশেষ করে দেশের দুর্দিনে এই অসাধু ব্যবসায়ীদের উপযুক্ত প্রমানে কারাগারে প্রেরণ করে আর পত্রিকায় প্রকাশ করে দিয়ে মুখোশ উন্মোচন আবশ্যক হয়ে পড়েছে। 

লেখক: কলামিস্টঃ চিত্রশিল্পী, মুহাম্মদ শাহীদুল আলম।   
                       সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা ।      


keya