১১:২৮ পিএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, রোববার | | ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

বাসী ভাঙ্গচে বিটে মাটি , ভাঙ্গচে সড়ক

অসহায় নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপকুল

০৭ অক্টোবর ২০১৭, ১১:৫৩ এএম | ফখরুল


আরিফ সবুজ (নোয়াখালী) : "নদীর একূল ভাঙ্গে একূল গড়ে এইতো নদীর খেলা,
সকাল বেলার ধনীরে তুই ফকির সন্ধ্যা বেলা"
গানের এই কথাটি আজ হাড়ে হাড়ে মিল পাচ্ছে   নোয়াখালীর উপকুলীয় অঞ্চলের মানুষগুলো। 
মাত্র দুদিন আগেই যাদের ছিল গোলা ভরা ধান, পুকুর ভর্তি মাছ, গোয়ালে কত গরু,  সে মানুষগুলোকে আজ দেখা যাচ্ছে খোলা আকাশের নিছে তাবু টাঙ্গিয়ে দিনাতিপাত করতে!

নোয়াখালীর সুবর্ণ চরে ছোলেমান বাজারের একটু দক্ষিণে গেলেই একসময় দেখা যেতো প্রকৃতির লীলাখেলা,  আজ সেখানে শুধু নদীর গর্জন আর অসহায়ত্বের আত্বনাদ ফুটে উঠে নিত্য। 
ঘটনাস্থলেই পৌঁছে দুজন মুরব্বীর সাথে দেখা,


একজন আঃ আলীম অন্যজন দুলাল।  নানান কথা শুনি তাদের মুখে, তাদের বাড়ি আজ নদীর মাঝখানে,  আস্তে আস্তে জানতে চেষ্টা করি তাদের থেকে, স্থানটির নাম কাটাখালী, জানাযায় একটি বাজার ৫টি মসজিদ, বড় একটি ব্রীজ, প্রায় দশ হাজার পরিবারের ধংসের অবয়চিত্র  তাদের চোখের সামনেই ঘটেছিল।  এসব বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।  এখন আশ্রয় নিয়েছেন সোলেমান বাজারের পাশে। 

নদীর ওপারে একটু দুরে তাকলেই দেখা যায় আবার নতুন চর জন্মাতে,  ইতিপূর্বে  সেখানে নাকি গাছ লাগিয়েছেন CDSP। 
পাশেই রয়েছে জাহাইজ্জার চর ও বাসানচর।   সে চরে রয়েছে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প,  জেলেদের মাছ ধরার সুযোগ ও রাখালদের গরু মহিশ চরাতে সুযোগ দিলেও সুযোগ নেই কোন বসতি গড়ার। 


কবছর আগে দালাল চক্র পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে একদাগ জমি দিলেও কিছু দিন যেতে না যেতেই স্বমূলে উচ্ছেদ করা হয় অসহায়দের।  আবার ইতিমধ্যে নাকি রোহিঙ্গাদের বসতি স্থাপন নিয়ে নানা প্রস্তুতি চলছে। 

সে গেল ভিন্ন কথা,  স্থানীয়রা জানান নদীর পশ্চিম দিক চরক্লাক ও পুর্ব দিক মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের হওয়ায় দু চেয়ারম্যানের ও রয়েছে উদাসহীনতার ভাব, তবে কিছুটা সহানুভূতিশীল স্থানীয় সংসদ সদস্য, তিনি লোকদের ছোলেমান বাজারের আশ পাশের প্রজেক্টের পাড়ে ঘর বাঁধার অনুমতি দিয়েছেন, অনেকে ঘড়েছেনও,  যদিও প্রজেক্টের মালিকরা নানা অসঙ্গতি প্রকাশ করছে।  তবে সরাসরি কোন প্রতিবাদ চোখে পড়েনি। 

একেতো মরা গা , তার আবার উপর লবণ ছেড়া!
অসহায়দের একমাত্র সম্বল কিছু গরু ছাগল নিয়ে থাকতে সমস্যা হলেও খড় গুলো যেন আরেক নতুন পাদ! আমরা সরাসরি দেখতে পাই তার চিত্র।  একটু কিছু হলে গরু গুলোকে খড়ে বন্দী তার পর গরু প্রতি পঞ্চাশ টাকা দিতে হয়, দিন গড়ালেই টাকার পরিধি ও বাড়ে। 
কে অনুমতি বা টাকা নেয় জানতে চাইলে স্থানীয় এ দোকানদার বলেন যুবলীগের সেক্রেটারি তাকে অনুমতি ও তার কমিশন দিয়ে বাকি টাকা সে নিয়ে যায়। 

এখন কেমন নদী  ভাঙ্গছে  কেমন জানতে চাইলে স্থানীয়রা   বলে এখন একটু কম ভাঙ্গলেও আমাবশ্যার ৩দিন পুর্নিমার ৩দিন ও বর্ষায় জোড়সে ভাঙ্গে এ চর, পরিধি জানতে চাইলে পশ্চিমে ৪নং স্টীমার ঘাট ও পুর্বে মেঘনা মার্কেটের কথা অনেকে বললেও অন্যরা আরো বেশির কথা বলেন। 

অন্য দিকে আরেকটি সমস্যা হচ্ছে সোলেমান বাজার যাওয়া নিয়ে।   যাওয়ার দুটো রাস্তা দেখলেই বুজতে অসুবিধা হবেনা রাস্তা গুলো কেমন? একটি দিয়ে সিঙ্গেল মানুষ হাটতেও অসম্ভাব হয়ে পড়েছে অন্য রাস্তার ফুলটি আজ হুমকির মুখে।  দেবে গেছে অনেকটা। 

তাদের দাবীর কথা বলতেই আবেগে কান্নায় বলেন নদী ভাঙা রোধে কোন পদক্ষেপ নিবে  কিনা যানিনা?
তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুল আকুতি আমাদের পুনঃবাসস্থানে একান্ত হস্তক্ষেপ চাই আপনার।  চাই সুন্দর ভাবে বাঁচাতে।  চাই সুন্দর সড়ক।