২:৪৬ এএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, শুক্রবার | | ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

আওয়ামিলীগে একাধিক বিএনপিতে একক প্রার্থী

০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৯:৩১ পিএম | নিশি


আরিফ সবুজ (নোয়াখালী প্রতিনিধি) : চাটখিল ও সোনাইমুড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত নোয়াখালী-১ আসনে বইছে নির্বাচনী উত্তাপ।  আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘরোয়া ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।  বিশেষ করে বৃহৎ দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন মাঠে।  বিএনপিতে একক প্রার্থী হলেও আওয়ামী লীগে একাধিক প্রার্থী।  আর নির্বাচনকে ঘিরে হাটবাজার মাঠে ময়দানে সাধারণ মানুষের মাঝেও চলছে নানা আলোচনা। 

চাটখিল-সোনাইমুড়ী উপজেলার সর্বত্র সম্ভাব্য প্রার্থীদের ছবি-সংবলিত পোস্টার, ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও বিলবোর্ডে চেয়ে গেছে। 

পূর্বে নোয়াখালী-১ আসনটি ছিল শুধুমাত্র চাটখিল উপজেলাকে নিয়ে।  কিন্তু ২০০৮ সালে সীমানা বিন্যাসের মধ্য দিয়ে সোনাইমুড়ী উপজেলাকে চাটখিল উপজেলার সঙ্গে একত্রিত করা হয়।  এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৩২,৫১৭ জন।  পুরুষ ভোটার ১,৬৬,৬৬৪ জন, মহিলা ভোটার ১,৬৫,৮৫৩ জন।  এই আসনটিতে ১৯৭৩ সালে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাহমুদুর রহমান বেলায়েত। 

১৯৭৯ সালে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।  ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির অ্যাড. মাহবুবুর রহমান।   ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির অ্যাড. মাহবুবুর রহমান।  ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপি প্রার্থী সালাহউদ্দিন কামরান।  ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপি প্রার্থী অ্যাড. মাহবুবুর রহমান।  ২০০১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপি প্রার্থী অ্যাড. মাহবুবুর রহমান। 

২০০৮ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন  বিএনপির ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।  ২০১৪ সালের নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এইচ এম ইব্রাহীম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।  এই আসনটি আগামী নির্বাচনে নিজেদের দখলে রাখার জন্য চেষ্টা করছেন নৌকার কর্মী ও সমর্থকরা।  এ জন্য নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন ও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন তারা। 

এদিকে বিএনপির একক প্রার্থী থাকলেও আওয়ামী লীগে একাধিক প্রার্থী মনোনয়নের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।  এরা হচ্ছেন- বর্তমান এমপি নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি এইচ এম ইব্রাহিম।  তিনি দীর্ঘদিন থেকে চাটখিল সোনাইমুড়ী এলাকায় দলীয় রাজনীতিকে শক্ত অবস্থানে এনে দাঁড় করিয়েছেন। 

এমপি ইব্রাহিম বলেন, দীর্ঘদিন থেকে চাটখিল সোনাইমুড়ী বাসীর সেবায় কাজ করি।  সামনে মানুষের সেবা চালিয়ে যাবো।  তিনি বলেন, চাটখিল-সোনাইমুড়ী এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়ন ৮০% কাজ শেষ হয়েছে।  মাধ্যমিক স্কুল এবং কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন ৯৫% কাজ সম্পূর্ণ করেছেন এবং মাদরাসা শিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়ন ৯৫% কাজ শেষ করেছেন এবং স্বাস্থ্যখাতে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে সংস্কার করে গ্রামীণ জনগণের দোড়গোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।  যোগাযোগ ক্ষেত্রে চাটখিল-সোনাইমুড়ী এলাকায় ইউনিয়ন ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ৬৫% কাজ সম্পূর্ণ করছেন।  বাকি ৩৫% কাজ পর্যায়ক্রমে শেষ করবেন।  মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানায় এবং বাজারগুলোতে সোলার বিদ্যুৎতায়নের ব্যবস্থা করছেন।  পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নের বাজার গুলোতে সোলার বিদ্যুৎতায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। 

কারিগরি শিক্ষা ও তথ্য প্রযুক্তিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য চাটখিলে ১টি আইসিটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে এবং একটি টেকনিক্যাল স্কুল নির্মাণ করার প্রক্রিয়া চলছে।  তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন পেলে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করবো। 

আরেক হেভিওয়েট সম্ভাব্য প্রার্থী প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।  তিনিও আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে চাটখিল-সোনাইমুড়ী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং উপজেলার বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ করছেন।  তিনি সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজেকে ঘোষণা দিয়ে নৌকাকে জয়ী করার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছেন। 

জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি চাটখিল-সোনাইমুড়ী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন।  এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চাটখিল-সোনাইমুড়ী এলাকায় গরীব ও অসহায় পরিবারের ঘর নির্মাণের জন্য ১০৬০ বান ঢেউটিন, ১২০টি রিকশা এবং ১৩০টি সেলাই মেশিন বিতরণ করছেন।  এছাড়া চাটখিল পৌরসভায় ১২টি রাস্তা পাকাকরণ, বিদ্যুৎ, ড্রেন নির্মাণ, কালভার্ট নির্মাণ ও ৫০ কোটি টাকার ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্ট বরাদ্দ করে দিয়েছেন এবং পৌরসভা উন্নয়নের জন্য ৪৭ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রজেক্ট বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।  স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে চাটখিল-সোনাইমুড়ী এলাকায় ২০টি কালভাট নির্মাণ ও ২০টি স্কুল-মাদরাসায় নতুন ভবন নির্মাণ করে দিয়েছেন। 

মনোনয়নের ব্যাপারে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে এ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট করার অনুমতি দেন তাহলে তিনি এ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হবেন।  এ আসনে আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী হচ্ছেন চাটখিল উপজেলা চেয়ারম্যান ও চাটখিল উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি একটিভ গ্রুপের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির।  সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেছেন। 

জাহাঙ্গীর কবির জানান, এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করে যাচ্ছি।  আমার নিজ উদ্যোগে একটিভ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে চাটখিল-সোনাইমুড়ী এলাকায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বৃত্তি চালু শুরু করেছি।  মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের ২৫টি ল্যাপটপ ও প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করেছি। 

তিনি চাটখিল-সোনাইমুড়ী এলাকায় ৩ হাজার পরিবারের চিকিৎসা, বিবাহ ও সামাজিক কর্মকান্ডে অনুদান দিয়ে আসছেন।  উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে ২৫০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছেন।  তিনি তার নিজ অর্থায়নে চাটখিলে নারী শিক্ষার অগ্রগতির জন্য চাটখিল মহিলা কলেজে একটি নতুন ভবনের কাজ শুরু করেছেন।  এছাড়া মলংমুড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নে ২৫ লাখ টাকা, কলেজে নুর মোহাম্মদ একাডেমি ভবনের জমির ক্রয় বাবদ ১০ লাখ টাকা দিয়েছেন। 

জাহাঙ্গীর কবির জানান, আমি সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এলাকায় কাজ করে যাচ্ছি।  দল থেকে মনোনয়ন পেলে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবো। 

আওয়ামী লীগের আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী হচ্ছেন সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।  তিনি মাঝে মাঝে গণসংযোগ চালান।  বিভিন্ন সময়ে এলাকাবাসীর মধ্যে সাহায্য সহযোগিতা করছেন।  তিনি জানান, দল থেকে মনোনয়ন পেলে নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশগ্রহণ করবেন। 

এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ইতিমধ্যে সকল স্তরের নেতাকর্মীরা একাট্টা হতে শুরু করেছেন।  দলীয় প্রস্তুতি হিসেবে পৌরসভার বিভিন্ন জায়গায় সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন নিজ নামে গেইট, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন।  বিএনপি’র নেতারা মনে করেন আগামী নির্বাচনে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হবেন। 

আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী হচ্ছেন ক্লিন ইমেজ খ্যাত জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী জেলার আহবায়ক সালাহ উদ্দিন আহমেদ।  তিনি সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। 

তিনি জানান, আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য এলাকায় মানুষের মাঝে সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে আসছি।  দল থেকে মনোনয়ন পেলে নাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশগ্রহণ করবো।