১০:৫৯ পিএম, ২২ জুন ২০১৮, শুক্রবার | | ৮ শাওয়াল ১৪৩৯

South Asian College

আখাউড়ায় মাদক ব্যবসায়ীদের আতঙ্ক ওসি মোশারফ হোসেন

১১ জুন ২০১৮, ০৫:৩৯ পিএম | সাদি


আশ্রাফুল মামুন, ব্রাহ্মনবাড়ীয়া প্রতিনিধি :  আখাউড়ায় মাদক বিরোধী অভিযানে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ওসি মোশারফ হোসেন, সাজাপ্রাপ্তসহ আটক ৮৪ জন, উদ্ধার ৬ হাজার ৫ শ ২৪ পিস ইয়াবাসহ বিপুল পরিমান মাদক দ্রব্য। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী আখাউড়া উপজেলার সর্বত্র এখন পুলিশী আতঙ্ক বিরাজ করছে।  মাদক ব্যবসায়ি, মাদক পাচারকারী ও মাদক সেবনকারীদের কাছে এখন  এক জলন্ত আতঙ্কের নাম ওসি মোশারফ হোসেন তরফদার ও তার থানা পুলিশ । 

পুলিশী ভয়ে ভীতসন্তপ্ত হয়ে অপরাধীরা দুর পলায়ন করছে।  অনেক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীই এলাকা ছেড়ে গাঢাকা দিয়েছে।  অনেকে আবার সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে। 

এলাকায় এখন একটি কথা প্রচলন রয়েছে।  সবাই ধরলে রাখে ওসি ধরলে মারে।  খোজ নিয়ে জানা যায়, আখাউড়া থানা অফিসার ইনচার্জ মোশারফ হোসেন তরফদারের নেতৃত্বে গত ১৬ মে থেকে  উপজেলার সর্বত্র মাদক বিরোধী পুলিশী অভিযান শুরু হয়।  ৯ জুন পর্যন্ত পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদক সংক্রান্ত মামলায় ৮৪ জনকে আটক করে। 

আটককৃতদের মধ্যে ৫ জন আদালতের সাজাপ্রাপ্ত আসামী রয়েছে।  এসময় পুলিশ ইয়াবা, গাজা,ফেন্সিডিলসহ বিপুল পরিমান মাদক ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করে।  চলমান সময়ে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয় ডাকাতসহ দুই  শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। 

পুলিশী অভিযান শুরু হলে এলাকার অনেক প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ী সটকে পড়ে।  উত্তর ইউনিয়ন, দক্ষিণ ইউনিয়ন ও মনিয়ন্ধ ইউনিয়নের বাজারগুলোতে এক সময় মাদক ব্যবসায়ী , পাচারকারী ও মাদক ক্রেতাদের পদচারণায় সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গমগম করলেও এখন দুপুরের পর থেকেই থাকে একেবারে ফাকা।  এদিকে পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড়ে মাদক ব্যবসায়ীদের পরিবারের লোকজনের চলাচল সীমিত হয়ে গেছে।  মাদকের টাকায় কেনা দোকানঘর ও বাড়িঘরে খোজ করেও কোন লোকজন পাওয়া যায়নি। 

আখাউড়া মনিয়ন্ধ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ভূইয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, মনিয়ন্ধ ইউনিয়নে মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হলে মাদক ব্যবসায়িরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।  অনেকে আত্মগোপন করে।  পুলিশী ভয়ে মনিয়ন্ধে এখন কেউ মাদক কিনতেও আসে না, বিক্রি করতেও আসে না।  এছাড়া আখাউড়া থানা ওসি মোশারফ হোসেন মনিয়ন্ধ ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকায় মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠন করেছেন।  এই কমিটি মনিয়ন্ধ ইউনিয়নকে মাদক মুক্ত করতে পুলিশের পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছে। 

মোগড়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ও উপজেলা যুবলীগ নেতা আবু কাউছার ভূইয়া বলেন,  আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নির্দেশে প্রতিটি এলাকায় পুলিশ বাহিনী মাদক বিরোধী অভিযান শুরু করে।  আমার বিশ্বাস এই অভিযানে আখাউড়া উপজেলা পুরোপুরি মাদক নির্মূল হবে। 

আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন বলেন, মাদক নিমূল করতে আখাউড়া থানা অফিসার ইনচার্জ মোশারফ হোসেন তরফদার নিরলসভাবে কাজ করছেন।  তিনি  সফলও হয়েছেন।  এই সফলতা ব্যর্থ করে দিতে মাদক ব্যবসায়ীসহ  একটি সংঘবদ্ধ চক্র তার বিরুদ্ধে লাগাতার ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।  তবে এলাকার সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে তিনি প্রতিটি এলাকায় মাদক নির্মূল করছেন। 

আখাউড়া পৌর যুবলীগের সভাপতি মনির খান বলেন,এক সময় আখাউড়ায়  পুলিশের ক্যাশিয়ার আর লাইনম্যান প্রথা চালু ছিল।  লাইনম্যান ছিল পুলিশের নিয়োগ করা।  এরা মাদককারবারীদের কাছ থেকে টাকা তুলে সেই টাকা পুলিশকে দিত।  কিন্তু বর্তমান ওসির আমলে আখাউড়ায় পুলিশের ক্যাশিয়ার আর লাইনম্যান প্রথা নেই। 

কসবা-আখাউড়ার জননন্দিত অভিভাবক আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক  মন্ত্রী আনিসুল হকের নির্দেশে আখাউড়াকে মাদক মুক্ত করতে থানার বর্তমান ওসির ভূমিকা প্রশংসার।  ওসি মোশারফ হোসেন তরফদার উপজেলাকে মাদকমুক্ত করতে লাইনম্যান প্রথা থেকে বেড়িয়ে আসেন।  মাদকের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান চালান।  তার এই কাজে উপজেলার সাধারণ মানুষ খুশি।  তবে আতংকিত মাদক চোরাকারবারীরা। 

এই কারণে ওসি মোশারফের বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালানে জড়িত রাঘবরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।  তাকে আখাউড়া থেকে সড়িয়ে দিতে উঠে পড়ে লাগছে।   আমার বিশ্বাস সব বাধা অতিক্রম করে তিনি আখাউড়া উপজেলাকে মাদক মুক্ত করবে। 

আখাউড়া থানার ওসি তদন্ত জানায়, গতবছরের ১৭ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৮ মে পর্যন্ত পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১২০ জনকে আটক করে।  উদ্ধার করে ৬ হাজার ৫’শ ২৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩০৯ বোতল স্কফ সিরাপ, ৫০’শ ৫০ বোতল ফেন্সিডিল, ৬০ কেজি ১০০ গ্রাম গাজা, ২৭ বোতল হুইস্কি, ৪ লিটার ২৫০ এম.এল চোলাই মদ।  এসময় মাদক মামলা হয় ৬৮টি।  এছাড়া সুড়ঙ্গসহ চিহ্নিত হওয়া মাদকের আস্থানা গুড়িয়ে দেওয়া হয়। 

এব্যাপারে আখাউড়া থানা অফিসার ইনচার্জ মোশারফ হোসেন তরফদার এ প্রতিবেদককে বলেন, অনেক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে ইতিমধ্যেই ধরা হয়েছে।  বাকিদের পুলিশের জালে ধরা পড়তেই হবে।  তারা আত্মগোপন করেও বাচতে পারবে না।  মাদকের ব্যাপারে আখাউড়া থানা পুলিশ একেবারে জিরো টলারেন্সে রয়েছে।