৪:৫২ এএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ৯ মুহররম ১৪৪০


আখেরি মোনাজাত আজ বিশ্ব ইজতেমা প্রথম পর্বের

১৪ জানুয়ারী ২০১৮, ০৭:১৫ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম : কনকনে শীত উপেক্ষা করে বিশ্ব ইজতেমায় লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে চলছে বয়ান ও জিকির। 

এরই ধারাবাহিকতায় আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব।  রবিবার  সকাল ১১টায়  অনুষ্ঠিত হবে আখেরি মোনাজাত ।  এবারের মোনাজাত হবে বাংলায়, পরিচালনা করবেন মাওলানা মো. জোবায়ের।  এর আগে হেদায়তি বয়ান করবেন মাওলানা আব্দুল মতিন।   আর এভাবেই শেষ হবে এবারের ইজতেমার প্রথম পর্ব। 

এদিকে, বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দিন শনিবারও বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে মুসল্লিদের টঙ্গীমুখী স্রোত অব্যাহত ছিল।  কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে বাস, ট্রাক, ট্রেন, নৌকা-লঞ্চসহ বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে টুপি-পাঞ্জাবি আর শীতের পোশাকে হাজার হাজার মুসল্লি টঙ্গীতে জমায়েত হন।  আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মুসল্লিদের আগমন অব্যাহত থাকবে। 

প্রতিদিন ফজর থেকে এশা পর্যন্ত ইজতেমা মাঠে ঈমান, আমল, আখলাক ও দ্বিনের পথে মেহনতের ওপর আমবয়ান অনুষ্ঠিত হচ্ছে।  শনিবার বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দিনে দেশ-বিদেশ থেকে আগত মুরুব্বিরা তাবলিগের ছয় ওছুলের মধ্যে দাওয়াতে দ্বিনের মেহনতের ওপর গুরুত্বারোপ করে বয়ান করেন। 

বয়ান করেছেন যারা

প্রথমপর্বের দ্বিতীয় দিন শনিবার বাদ ফজর বাংলাদেশের মাওলানা নূরুল রহমান, বাদ জোহর  সুদানের মাওলানা ড. জাহাদ, বাদ আছর বাংলাদেশের নূরুর রহমান, বাদ মাগরিব মাওলানা ফারুক হোসেন বয়ান করেন। 

আখেরি মোনাজাত  সকাল ১১টায়

বিশ্ব ইজতেমার মুরুব্বি প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘রবিবার সকাল ১০ থেকে ১১টায় আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।  বাংলাদেশের কাকরাইলের মাওলানা মো. জোবায়ের বাংলায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন।  আখেরি মোনাজাতের আগে যে হেদায়তি বয়ান হয়, তা পরিচালনা করবেন বাংলাদেশি মাওলানা আব্দুল মতিন।  আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের ইজতেমার প্রথম পর্ব। ’

মোনাজাত শুনতে ময়দানের বাইরে শতাধিক মাইক

ইজতেমার ময়দানের বাইরে অবস্থানকারী মুসল্লি ও এলাকাবাসীকে মোনাজাতে শরিক হতে গাজীপুর ও ঢাকা জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে শতাধিক মাইকের সংযোগ দেওয়া হয়েছে।  গাজীপুর জেলা তথ্য কর্মকর্তা এসএম রাহাত হাসনাত বলেন, ‘ভিড়ের কারণে যারা মূল ময়দানে যেতে পারবেন না, আখেরি মোনাজাতে তাদের  শরিক হতে টঙ্গীর মধুমিতা রোড, টঙ্গী বিসিক এলাকা, নোয়াগাঁও এবং চেরাগআলীর বিভিন্ন শাখা সড়কে মোনাজাতের মাইকের সঙ্গে আরও  ৮০টি মাইকের সংযোগ দেওয়া হবে।  একই সংখ্যক মাইক ঢাকা অংশেও সংযোগ দেওয়া হবে। ’

যানবাহন নিয়ন্ত্রণ

গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, আখেরি মোনাজাতে যোগদানের জন্য ঢাকা, গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকা থেকে হাজার হাজার মুসল্লির আগমন  ঘটবে।  বিপুল সংখ্যায় মুসল্লির যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কগুলোতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।  শনিবার মধ্যরাতের আগেই ঢাকা থেকে আগত যানবাহনগুলোকে আব্দুল্লাহপুর থেকে কামারপাড়া অভিমুখে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।  তাছাড়া,  ময়মনসিংহ এবং টাঙ্গাইল থেকে ঢাকাগামী যানবাহনগুলোকে ভোগড়া চৌরাস্তা এবং সিলেট থেকে ঢাকাগামী যানবাহনগুলোকে টঙ্গীর নিমতলীতে আটকে দেওয়া হবে।  তবে ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের বন্ধ থাকা সড়কগুলো অতিক্রমের জন্য ১৫টি বিআরটিসি বাস শ্যাটল সার্ভিস দেবে বলেও জানান তিনি। 

বিশেষ বাস ও ট্রেন সার্ভিস

জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. রাহাত হাসনাত জানান, মুসল্লিদের সুবিধার্থে ১৯টি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে।  এছাড়া, সব আন্তঃনগর ট্রেন টঙ্গীতে যাত্রাবিরতি করবে।  বিআরটিসির দুই শতাধিক স্পেশাল বাস সার্ভিস চালু করেছে।  আখেরি মোনাজাতের দিন ছাড়াও ইজতেমা চলাকালীন সময় টঙ্গী স্টেশনে দ্রুতযানসহ প্রতিটি ট্রেন যাত্রাবিরতি করবে। 

তীব্র শীতে অসুস্থ  হয়ে পড়ছেন মুসল্লিরা

কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বিশ্ব ইজতেমায় আসা মুসল্লিদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।  শনিবার সকালে ইজতেমা ময়দানের উত্তরপাশে বিনা মূল্যের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে অসুস্থ হয়ে পড়া মুসল্লিদেরব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। 

চটের সামিয়ানার নিচে অবস্থান নেওয়া হাজার হাজার মুসল্লি ঠাণ্ডা, সর্দি, বদহজম, ডায়রিয়া, জ্বর, আমাশয়, কাশি, অ্যাজমাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হযেছেন।  অনেকেই বিনা মূল্যের চিকিৎসা কেন্দ্রে, কিংবা শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।  কেউবা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। 

ইজতেমা ময়দানের পাশে হামদর্দের ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের চিকিৎসক মো. মনিরুজ্জামান খান জানান, শনিবার পর্যন্ত তারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ২০ হাজারের বেশি রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ সরবরাহ করেছেন।  বিদেশি মেহমানখানাসহ ইজতেমা ময়দানে হামদর্দের সাতটি টিমে ৩৫ জন চিকিৎসক মুসল্লিদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। 

মনিরুজ্জামান খান বলেন,‘ঘন কুয়াশা ও প্রচণ্ড শীতের মধ্যে চটের সামিয়ানার নীচে অবস্থান করায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে, খোলা আকাশের নিচে রান্না করা খাবার খেয়ে মুসল্লিরা  ঠাণ্ডা, সর্দি, বদহজম, ডায়রিয়া, জ্বর, আমাশয়, কাশি, অ্যাজমাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। 

ইবনে সিনা ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে কর্মরত চিকিৎসক ইশতিয়াক হোসেন জানান, গত দুই দিনে তারা আড়াই হাজার মুসল্লিকে চিকিৎসা সেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ দিয়েছেন।  ইবনে সিনা সেখানে দুইটি ইউনিটে ১৫ জন চিকিৎসকসহ ১৫ জন স্টাফ স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।  তাদের মতো গাজীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়, আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম, হোমিওপ্যাথিক ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশন, হাফেজী হুজুর রহ. সেবা সংঘ, ইসলামিক মিশন, গ্রামীণ ফোন, যমুনা ব্যাংক ফাউন্ডেশন, র‌্যাব, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, টঙ্গী ঔষধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতিসহ প্রায় অর্ধশত ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার অসুস্থ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

হাসপাতালে ভর্তি আট জন

শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসাপালের কন্ট্রোলরুমে কর্তব্যরত স্বাস্থ্য সহকারী চিত্তরঞ্জন দাস জানান, তাদের তিনটি মেডিক্যাল ক্যাম্প ও হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে পাঁচ হাজার মুসল্লিকে প্রাথমিক চিকিৎসা,আট জন ভর্তি ও চার জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো পরামর্শ দেওয়া হয়। 

আরও  দুই মুসল্লির মৃত্যু

বিশ্ব ইজতেমার মাসলেহাল জামাতের সদস্য মো. আদম আলী জানান, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে আরও এক মুসল্লি মারা গেছেন।  নিহত মো. রফিকুল ইসলাম (৫০)-এর বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরবাইতা গ্রামে।  একই রাত সাড়ে ৯টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মালেশিয়ান নাগরিক নূরহান বিন আব্দুর রহমান (৫৫) মারা গেছেন।  এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে আরও দুই মুসল্লির মৃত্যু হয়। 

ইবাদতে ব্যস্ত  মুসল্লিরা

ঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে জমায়েত হওয়া মুসল্লিরা দিনরাত ইবাদতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।  ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে আসা ৬০ বছরের বৃদ্ধ  মো. ওয়াসিম মিয়া জানান, তিনি প্রায় ৪০বছর ধরে এ ময়দানে আসছেন।  অনেক প্রতিকূল অবস্থায়ও তিনি তাবলিগের দাওয়াতি কাজ করেছেন।  সে তুলনায় এবার টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার ময়দানের অবস্থা অনেটাই ভালোবলে জানান তিনি।  ময়দানে উপস্থিত সবাই চাঁদর, কম্বল, জ্যাকেট, স্যুয়েটারসহ বিভিন্ন শীতবস্ত্র গায়ে জড়িয়ে মনোযোগের সঙ্গে মুরুব্বিদের বয়ান শুনছেন।  নিয়ম মতো নামাজ, জিকির-আসগার, খাওয়া-দাওয়া, গোসল এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মুসল্লিদের সময় পার হচ্ছে। 

বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের শুরু হবে আগামী ১৯ জানুয়ারি।  ২১ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমার আসর। 

২০১৯ সালের বিশ্ব ইজতেমা ১১জানুয়ারি

তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বি মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, শুক্রবার রাতে তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বিদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।  সভায় সিদ্ধান্ত হয় আগামী বছরের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ১৮, ১৯ ও ২০ জানুয়ারি।