১:২৭ পিএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, সোমবার | | ৮ রবিউস সানি ১৪৪০




আজ ঘটনাবহুল ও ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর

০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:১৪ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : ঘটনাবহুল ও ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আজ।  ১৯৭৫ সালের শেষ দিকে রাজনৈতিক রক্তাক্ত উত্থান-পতনের ঘটনাবলির মধ্যে এদিন তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান ক্ষমতা সংহত করেন।  

বিএনপির মতে, ১৯৭৫ সালের এই দিনে আধিপত্যবাদী শক্তির নীলনকশা প্রতিহত করে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছিল সিপাহি-জনতা; বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেছিল জিয়াউর রহমানকে। 

জাসদসহ সমমনা সংগঠনগুলোর ব্যাখ্যা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে ক্ষমতালিপ্সু অফিসারদের পরস্পরবিরোধী অবস্থানের প্রেক্ষাপটে ইতিহাসের এই দিনে ‘সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান’ ঘটেছিল।  

বিএনপি দিনটিকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে।  আওয়ামী লীগ ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ এবং জাসদ ‘সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দিবস’ নামে এ দিনটি পালন করে।  

১৫ আগস্টের কালরাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যার মাত্র ৭৯ দিন পর অশুভ শক্তি ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ৪ জাতীয় নেতাকে।  এ প্রেক্ষাপটে ৩ থেকে ৭ নভেম্বর সামরিক বাহিনীর মধ্যে একাধিকবার অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটে।  

একপর্যায়ে জিয়াউর রহমান গৃহবন্দি হন।  সেসব ঘটনায় অনেক মুক্তিযোদ্ধা, সেনা কর্মকর্তা ও জওয়ানের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।  ৬ ও ৭ নভেম্বর সংঘটিত অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল তাহের।  বন্দিদশা থেকে জিয়াকে মুক্ত করেছিলেন তিনি।  এরপর অতিদ্রুত নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে স্বীয় পদে আসীন হন জিয়াউর রহমান।  

রাজনৈতিক নেতৃত্বের চরম ব্যর্থতার কারণে তখন দেশ চলে যায় সামরিক শাসনের অধীনে।  জিয়াউর রহমান প্রথমে উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং পরে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের পদে আসীন হন।  

একপর্যায়ে বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে রাষ্ট্রপতি হন তিনি।  অন্যদিকে বন্দিদশা থেকে জিয়াকে মুক্ত করেও বাঁচতে পারেননি কর্নেল তাহের।  কোর্ট মার্শালের বিচারে তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। 

গত ৩৭ বছরে অধিকাংশ সময় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস সরকারিভাবে পালিত হয়েছে।  ১৯৭৬ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত এই দিনে সরকারি ছুটি ছিল।  ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তা বাতিল করা হয়।  ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে ছুটি পুনর্বহাল করে।  বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে আবার তা বাতিল করে।  আওয়ামী লীগ সরকার সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। 

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।  এর অংশ হিসেবে বুধবার সকাল ১০টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তমের সমাধিতে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাসহ সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন।  কর্মসূচিতে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে উপস্থিত থাকতে দলটির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়। 

আগামীকাল বেলা ২টায় রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে হবে আলোচনা সভা।  এছাড়া ৭ নভেম্বর উপলক্ষে দল ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে পোস্টার ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে এবং অঙ্গসংগঠনগুলো আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, রচনা প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবে।