৬:২৩ পিএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার | | ১৮ রবিউস সানি ১৪৪১




আজ দানবীর হাজী মুহম্মদ মহসিনের জন্মদিন

০৩ জানুয়ারী ২০১৯, ১১:৪৪ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : আজ ৩ জানুয়ারি, দানবীর হাজী মুহম্মদ মহসিনের জন্মদিন।  ১৭৩২ সালের এই দিনে তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হুগলী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।  তিনি আগ মুহাম্মদ ফয়জুল্লাহর দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান ছিলেন।  তার মায়ের নাম ছিল জয়নব।  

তার পূর্ব পুরুষের আদি নিবাস ছিল সুদূর পারস্যে।  সেখান থেকে ভাগ্য অন্বেষণে এসেছিলেন এদেশে।  তারপর স্থায়ীভাবে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি শহরে আবাস গড়ে তুলে ছিলেন। 

তখন দিল্লির বাদশা ছিলেন আওরঙ্গজেব।  হাজী ফয়জুল্লাহ দাদা প্রথমে দিল্লিতে এসে বাদশার অধীনে খাজাঞ্চির পদে নিযুক্ত হন।  তার কর্মদক্ষতায় বাদশাহ তার প্রতি খুশি হলেন।  বাদশা তখন তাকে যশোর এবং নদীয়া জেলার অনেক জায়গীর দান করেন।  ফলে উত্তরাধিকার সূত্রে মহসীন বিপুল সম্পত্তির অধিকারী হন।  

অপরদিকে মহসীনের সৎবোন মন্নুজান উত্তরাধিকার সূত্রে হুগলি, যশোর, মুর্শীদাবাদ ও নদীয়ায় বহু সম্পত্তি অর্জন করেছিলেন।  মন্নুজানের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারী হিসেবে মহসিন বোনের সম্পত্তির মালিক হন। 

এতো সম্পদের মালিক হয়েও মহসিন ছিলেন খুব ধার্মিক ও নিরহঙ্কারী।  তিনি সর্বদা সহজ সরল জীবনযাপন করতেন।  তিনি ছিলেন চিরকুমার।  তিনি তার প্রতিষ্ঠিত ইমাম বাড়া প্রাসাদে বাস করতেন না।  ইমাম বাড়ির পাশে একটি ছোট কুটিরে বাস করতেন। 

আর কুরআন শরীফ নকল করে যা পেতেন তা দিয়েই চলতেন।  নিজ হাতে রান্না করে অধিনস্তদের নিয়ে বসে খেতেন। 

প্রাথমিক পর্যায়ে হাজী মহসিন গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্জন করেছেন।  পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষার জন্য রাজধানী মুর্শিদাবাদ যান।  শিক্ষাজীবন শেষে তিনি দেশ ভ্রমণে বের হন।  তিনি মক্কা, মদিনা, কুফা, কারবালাসহ ইরান, ইরাক, আরব, তুরস্ক এমন নানা স্থান সফর করে দীর্ঘ ২৭ বছর পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। 

শিক্ষানুরাগী এ দানবীর তার অর্থ দিয়ে বহু বিদ্যাপিঠ স্থাপন করে গেছেন।  হুগলিতে ‘হুগলি মহসিন কলেজ’ ও ‘চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ’ প্রতিষ্ঠার সময় মহসিনের ওয়াকফকৃত অর্থ ব্যবহৃত হয়।  তার পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠে ‘দৌলতপুর মুহসিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’। 

১৭৬৯-৭০ সালের সরকারি দলিল অনুযায়ী তৎকালীন দুর্ভিক্ষের সময় তিনি অনেক লঙ্গরখানা স্থাপন করেন এবং সরকারি তহবিলে অর্থ সহায়তা প্রদান করেন।  ১৮০৬ সালে তিনি ‘মহসিন ফান্ড নামক তহবিল প্রতিষ্ঠা করেন। 

এ তহবিল ধর্মীয় কর্মকাণ্ড, পেনশন, বৃত্তি ও দাতব্য কর্মকাণ্ডের জন্য বরাদ্দ করা হয়। 

১৮১২ সালে এ ধার্মিক দানবীর হুগলিতে ইন্তেকাল করেন।  তাকে হুগলির ইমামবাড়ায় দাফন করা হয়। 

ইতিহাসে দাতা হাজী মুহাম্মদ মহসিনের নাম চিরস্মরণীয়।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হলের নাম তার স্মরণে রাখা হয়েছে। 

এছাড়াও মহসিন ফান্ডের অর্থে অসংখ্য দরিদ্র ছাত্রদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হয়।  ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাটির নাম বিএনএস হাজী মহসিন।