১১:৩৪ এএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৭, শনিবার | | ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

আজ রাঙামাটির ৩৫ কাঠুরিয়া হত্যা দিবস

০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০২:৪২ পিএম | নিশি


জিয়াউর রহমান জুয়েল, রাঙামাটি: আজ ৯ সেপ্টেম্বর রাঙামাটির লংগদুর ৩৫ কাঠুরিয়া হত্যাকান্ড দিবস।  ১৮ বছর আগে ১৯৯৬ সালের এই দিনে লংগদু উপজেলার পাকুয়াখালির গহীন বনে  নিরস্ত্র ৩৫ নিরীহ বাঙালী কাঠুরিয়াকে হত্যা করা হয়।  এ হত্যা কান্ডের ২১ বছর পার হলেও এ হত্যাকান্ডের বিচার না পেয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছে নিহতদের পরিবার। কাঠুরিয়াদের লাশ ফেলে দেয়া হয় পাহাড়ি খাদে।  এর মধ্যে ২৮ জনের লাশ পাওয়া গেলেও ৭ জনের লাশ পাওয়া যায়নি।  এ ঘটনার জন্য অধুনা বিলুপ্ত উপজাতীয় সশস্ত্র গোষ্ঠি শান্তিবাহিনীকে দায়ী করা হয়। আলোচনার কথা বলে কাঠুরিয়াদের বনে ডেকে নিয়ে গিয়ে শান্তিবাহিনী এ হত্যাযজ্ঞ চালায়।   তখন থেকে পার্বত্য এলাকায় বাঙ্গালীরা প্রতি বছর এ দিনটিকে পাকুয়াখালী ট্রাজেডি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।  এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম ঘটনা।  বর্বর এই হত্যাকান্ডের স্মরণে এখনো কেঁদে উঠে লংগদুর মানুষ। 

বিচার মিলবে কবে? ৪০ বছর পরে যদি বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হতে পারে তা হলে ৩৫ কাঠুরিয়া হত্যার বিচার হবে না কেন? নিহত কাঁঠুরিয়া মোস্তফার মায়ের এই প্রশ্ন যেনো প্রতিধবনিত হচ্ছে পাহাড়ে।  সরকারের কাছে তাঁর দাবি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি কওে ৩৫ কাঁঠুরিয়া হত্যাকারীদের খোজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।  স্বজন হারাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণও দিতে হবে। 
কথা হয় গুলশাখালীর নিহত শরাফ উদ্দিনের ছেলে সাখাওয়াৎ হোসেন ও  কালাপাকুজ্যা রহমতপুরের হেলাল উদ্দিনের বড় ভাই করিম’র সাথে।  তাঁরা অভিযোগ করে বলেন, আমরা স্বজন হারিয়েছি ২১ বছরের বেশী অতিবাহিত হলো কিন্তু স্বজনহারা লোকদের কেউ খোঁজখবর নিতে আসেনি।  তারা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ৩৫ কাঠুরিয়া হত্যাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল হত্যার বিচার করতে হবে।  ভবিষ্যতে পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি নিশ্চিত করতে হলে সকল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চাঁদাবাজি, খুন, গুম, মুক্তিপণ বানিজ্য ও অপহরণ বন্ধ করতে সেনাবাহিনীকে বিশেষ দায়িত্ব দিতে হবে। 

প্রতি বছরের ন্যায় এ বারও বিভিন্ন কর্মসুচির মাধ্যমে পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদ দিবসটি পালন করছে।  লংগদু উপজেলায় শহীদদের গণকবর জিয়ারত, শোকর‌্যালী, দোয়া ও আলোচনা সভা রয়েছে এ কর্মসুচিতে।  এছাড়া শুক্রবার রাঙামাটি জেলার প্রত্যেক মসজিদে নিহত ৩৫ কাঁঠুরিয়ার জন্য দোয়া করা হয়েছে।  আজ শনিবার সকালে ঢাকা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনও প্রতিবাদ সমাবেশ ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর রাঙামাটিতে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। 
পাকুয়াখালী গণহত্যা দিবসে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে ৭ টি দাবি জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।  এসব দাবির মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে ৩৫বাঙালি কাঠুরিয়া হত্যাকান্ডসহ পার্বত্যাঞ্চলের সকল হত্যা কান্ডের বিচার করতে হবে। 

বিগত ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ সালের গণহত্যায় নিহত পরিবারদের যথাযথ ক্ষতিপূরণসহ সকলকে পুনর্বাসন করতে হবে।  অবিলম্বে ৩৫ কাঠুরিয়ার পরিবারকে সম্মানজনক যোগ্যতা অনুসারে চাকরি দিতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল নিয়োগে বাঙালিদের বঞ্চিত করার অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে।  পার্বত্য চট্টগ্রামে গুম, খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, মুক্তিপণ, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।  সকল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথবাহিনী দ্ধারা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে।  লংগদুতে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও পুলিশী হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্তে মুক্তি দিতে হবে। 

জানাগেছে ১৯৯৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর শান্তি বাহিনী লংগদুর ৩৬ জন কাঠুরিয়াকে আলোচনার কথা বলে পাকুয়াখালী নামক গহীন বনে ডেকে নিয়ে যায়।  সেখানে তিন দিন কাঠুরিয়াদের হাত-পা ও চোখ বেঁধে বর্বর নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে লাশ গহীন বনের পাহাড়ী খাদে ফেলে দেয়।  তবে সৌভাগ্যক্রমে ইউনুচ নামের এক কাঠুরিয়া পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়।  তার মাধ্যমে সবাই জানতে পারে এ হত্যা যজ্ঞের খবর।  ৯ সেপ্টেম্বর পুলিশ ও সেনাবাহিনী পাকুয়াখালীর বন হতে ২৮ জন কাঠুরিয়ার ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে।  বাকি ৭ জনের লাশ পাওয়া যায়নি।  এ হত্যা মামলার আজো কোন কুল কিনারা হয়নি । 

Abu-Dhabi


21-February

keya