২:৪৪ এএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, শুক্রবার | | ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

আজ ৮ ডিসেম্বর লোহাগড়া মুক্ত দিবস

০৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ১২:২৫ এএম | নিশি


শরিফুল ইসলাম, নড়াইল প্রতিনিধি : আজ ৮ ডিসেম্বর লোহাগড়া মুক্ত দিবস।  মুক্তিযুদ্ধের এই দিনে লোহাগড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধারা গেরিলা  যুদ্ধের মাধ্যমে লোহাগড়া থানা আক্রমন করে হানাদার মুক্ত করেন। 

১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসের শুরুতেই লোহাগড়া থানার অধিকাংশ এলাকা পাক-হানাদার মুক্ত হয়।  এ সময় স্থানীয় রাজাকাররা থানায় আশ্রয় নেয়।   খালেক পুলিশ নামে একজন সিপাহির নেতৃত্বে পুলিশ ও   রাজাকাররা মিলে থানার অভ্যন্তরে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলে।  নভেম্বরে মুক্তিযোদ্ধারা লোহাগড়া থানা আক্রমনের চুড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহন করে। 

এ জন্য তৎকালীন বীর মুক্তি যোদ্ধা  শরীফ খসরুজ্জামানের উপস্থিতিতে ২ ডিসেম্বর  নোয়াগ্রাম ইউপির আড়পাড়া গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা বাবু মীরের বাড়িতে এক গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।  বৈঠকে গ্রুপ কমান্ডার ইমান আলী,ওয়ালিয়ুর রহমান,নুরমিয়া সহ ৩০/৩৫ জন মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।  অপর দিকে,বীরমুক্তিযোদ্ধা কবির হোসেনের নেতৃত্বে কমান্ডার শেখ ইউনুস আলী,লুৎফর বিশ্বাস,রওশন গাজী,আবুল হোসেন খোকন সহ ৪০/৪৫ জনের একদল মুক্তিযোদ্ধা গোপন বৈঠকের মাধ্যমে লোহাগড়া থানা আক্রমনের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। 

৮ ডিসেম্বর ফজরের আজানের সাথে সাথে শরীফ খসরুজ্জামান,কবির হোসেন,শেখ ইউনুস আলীর নেতৃত্বে দেড় শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা ৪ ঘন্টা ব্যাপী গেলিরা আক্রমনের মাধ্যমে পাক-হানাদার বাহিনীর দোসর রাজাকার ও পুলিশ আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হয়।  যুদ্ধের সময় রাজাকার বাহিনীর গুলিতে  উপজেলার কোলা গ্রামের হাবিবুর রহমান ও যশোর সদর উপজেলার জঙ্গল বাধাল গ্রামের মোস্তফা কামাল শহীদ হন। 

এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ২২ জন পুলিশ ও রাজাকার আটক হয়।  লোহাগড়া মুক্ত দিবস পালন উপলক্ষে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ দিনব্যাপি নানা কর্মসুচি গ্রহন করেছে।  কর্মসুচীর মধ্যে রয়েছে বর্ণাঢ্য র‌্যালী,শহীদ হাবিবুর রমানের কবর জেয়ারত,আলোচনা সভা ও মিলাদ মহফিল।