১১:১৫ পিএম, ৫ জুলাই ২০২০, রোববার | | ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪১




আদিতমারীতে সড়ক সংস্কারে অনিয়ম, ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ

০৮ মার্চ ২০২০, ০২:০১ পিএম | নকিব


আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় এলজিইডি’র একটি সড়ক সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। 

সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের ইট, রাবিশ ও বালু’র পরিবর্তে মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ তুলেছেন।  অনিয়মের বিষয়টি এলজিইডি’র কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানালেও এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি দাবি স্থানীয় লোকজনের। 

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, আদিতমারীর উপজেলার দুর্গাপুর এলাকা থেকে কুমারপাড়া এলাকা পর্যন্ত ৬ হাজার ২৪০ মিটার সড়কে সংস্কার কাজ চলছে।  আব্দুল হাকিমের লাইসেন্সে কাজটি করছেন ঠিকাদার দাউদ আলী।  ৬ কোটি ৪৯ লাখ ৪৪ হাজার ২৯৪ টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পটি (এনওবিআইডিইপি) চুক্তি অনুযায়ী এ বছরের জুন মাসের আগেই শেষ হওয়ার কথা। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি প্রশস্ত ও মজবুত করার কথা থাকলেও প্রথম শ্রেণির ইটের পরিবর্তে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করছেন ঠিকাদার।  কোথাও কোথাও রাবিশ ব্যবহার করা হয়েছে।  নিয়ম অনুযায়ী সড়কটির কাজে তিন ইঞ্চি পুরু ইটের খোয়া ব্যবহার করার কথা।  সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে এক থেকে দেড় ইঞ্চি।  পর্যাপ্ত পানি না ছিটিয়ে রোলার চালানো হয়েছেন।  সড়কের পাশের মাটি ব্যবহার করা হয়েছে।  এসব গর্তের কারণে বর্ষা এলেই সড়কটি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

দুর্গাপুর ইউনিয়নের দীঘলটারী গ্রামের আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা গ্রামবাসী এলজিইডি প্রকৌশলীদের বারবার অভিযোগ করে আসছি কিন্তু ফল আসছে না।  এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী সাইটে আসেন, ঘুরে ফিরে চলে যান।  আই ওয়াশের মতো।  সড়কটি কিছু দিনের মধ্যেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠবে। ’

একই গ্রামের আব্দুল মান্নান বলেন, ‘ঠিকাদার যে ইট ব্যবহার করেছেন, তা পা দিয়েই ভাঙা যাচ্ছে।  আমরা কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন করেছিলাম।  ঠিকাদার পাত্তাই দেন না।  সাইটে এলজিইডি’র কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দেখতে পাওয়া যায় না। ’

কুমারটারী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘সড়কের পাশে গভীর গর্ত করে মাটি তুলে রাস্তায় ব্যবহার করা হয়েছে।  বর্ষা এলে সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় আশঙ্কায় রয়েছে।  এলজিইডি প্রকৌশলী সরেজমিন দেখে গেছেন।  কিন্তু ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। ’

ঠিকাদার দাউদ আলী বলেন, ‘কাজের মান নিয়ে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার কোনো প্রয়োজন নেই।  এ ব্যাপারে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ আছে, তারাই সিদ্ধান্ত নেবে।  কর্তৃপক্ষ যদি আমার কাজে সন্তুষ্ট থাকে, তাহলে বাইরের মানুষ যতই লাফালাফি করুক তাতে কোনো ফল নেই। ’

লালমনিরহাট এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশল আশরাফ আলী খান বলেন, আমি নিজেই কাজটি দেখভাল শুরু করেছি।  সরেজমিন তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি।  নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ চূড়ান্ত না হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 


keya