৬:০০ এএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১৪ মুহররম ১৪৪০


আনসার সদস্যরাই পাঠাচ্ছে দালালদের কাছে, হয়রানী শিকার পাসপোর্ট প্রত্যাশীরা

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৮:৪৭ এএম | জাহিদ


এস.এম.জামাল, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা।  কুষ্টিয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের মুল ফটক।  কয়েকজন আনসার সদস্য।  নারী ও পুরুষ গেট পেরিয়ে অফিসের দিকে যাচ্ছে।  বাঁধা হয়ে দাঁড়ালেন আনসার সদস্য। 

কোথায় যাচ্ছেন কেন যাচ্ছেন? আনসার সদস্যর এমন কথা বলতেই পুরুষ লোকটি বলে উঠলো মালেয়েশিয়া লাল সীল দিয়েছে পাসপোর্টটি স্যারেন্ডার করতে হবে।  ততক্ষনেও বুঝতে পারেননি আনসার সদস্য। 

তাকে বুঝি বলা হয় আমার পাসপোর্টটির মেয়াদ রয়েছে তবুও সেই আনসার সদস্য বাইরে দাঁড়ানো দুইজন দালালের কাছে পাঠিয়ে দেন।  তিনি বলেন, অফিসে গিয়ে সমস্যা সমাধানের থেকে বাইরে থেকে তাদের মাধ্যমে সমাধান ভালো হবে।  অগত্য তারা দুইজন বাইরে বের হয়ে তার পরিচিতজনকে ফোন দিয়ে ডেকে নিলো। এরকম শুধু তারাই নয়, আরও দেখা মিললো কয়েকজনের সাথে। 

পাসপোর্ট করতে আসা আরেক তরুনের ফরমের সাথে সংযুক্ত করা কাগজে সত্যায়িত না থাকায় জমা নেওয়া যাবে না।  সেখানকার কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় মুল ফটকের বাইরে থেকে দালালের মাধ্যমে সত্যায়িত করা হয় মাত্র দুইশ টাকার বিনিময়ে। 

এভাবেই অনিয়ম আর দূনীর্তির রাহুগ্রাসে নিমর্জ্জিত হয়ে পড়েছে কুষ্টিয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস।  এ অফিসে বৃদ্ধি পেয়েছে দালালের দৌরাত্ম।  ঘুষ ছাড়া কোন কাজ হচ্ছে না এ অফিসে।  জিম্মি হয়ে পড়েছে পাসপোর্ট গ্রহকরা।  দালাল থেকে শুরু করে কর্মচারী ও কর্মকর্তা পর্যন্ত পদে পদে প্রদান করতে হচ্ছে ঘুষ।  এতে চরম হয়রানী ও দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে পাসপোর্ট প্রত্যাশীরা। 

বিভিন্ন অজুহাতে পদে পদে হয়রানী’র শিকার হচ্ছেন পাসপোর্ট প্রত্যাশিতরা।  আর ঘুষ দিলে সকল অবৈধ- বৈধ হয়ে যাচ্ছে এখানে।  বাসায় পৌছেঁ যাচ্ছে পাসপোট।  সরাসরি ঘুষ নিচ্ছেন, এমন অভিযোগ অনেকের।  পাসপের্ট অফিসের দালালরা বলেন, আমরা ফরম পূরণ করে দিয়ে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা নিই।  নিরাপত্তার নামে আনসার রাখা হলেও এদের দিয়েও ঘুষ গ্রহন করছেন অফিসের কর্মরতরা।  এমন অভিযোগ অসংখ্য গ্রাহকের।  কথিত অফিস স্টাফ, আনসার এবং আশেপাশের চায়ের দোকান ও প্রধান ফটকের বাইরে অপেক্ষমান থাকে দালালোরা। 

ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার রশীদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ ফরম জমা দেয়ার সময় ঘুষের টাকা না দিলে নানান অজুহাতে হয়রানী করা হচ্ছে তাদের।  আবার উপঢৌকন দিলেও কোন সমস্যা ছাড়াই সেটি ঠিক হয়ে যাচ্ছে। 

দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য,অবাধ অনিয়ম-দূর্নীতি আর ঘুষ বাণিজ্যের অক্টোপাসে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে কুষ্টিয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস।  এসব বন্ধে জন্য জেলা প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি দেখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। 


keya