২:২৯ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার | | ২১ সফর ১৪৪১




আফগান জুজু কাটালো বাংলাদেশ

২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৩১ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম: হচ্ছিলো না, কোনোভাবেই আফগানদের বিপক্ষে সাফল্য ধরা দিচ্ছিলো না। 

সেই ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবার মুখোমুখি হয়ে জিতেছিল বাংলাদেশ।  এরপর টানা চার ম্যাচ হার। 

দেরাদুনে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর দেশের মাটিতে ত্রিদেশীয় লড়াইয়ের প্রথম দেখাতেও হার।  অবশেষে চট্টগ্রামে টি-টোয়েন্টিতে আফগান জুজু কাটালো তারা ৪ উইকেটে জিতে। 

ম্যাচের শুরু থেকে প্রতিটি মুহূর্তে বদলেছে ম্যাচের রঙ।  শফিউল ইসলামের বোলিংয়ে দারুণ শুরু হলেও মাহমুদউল্লাহ সহজ ক্যাচ মিস করলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় আফগানরা।  দুই ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও হযরতউল্লাহ জাজাইয়ের উদ্বোধনী জুটি ৯ ওভারে তোলেন ৭৫ রান।  ততক্ষণে সাকিব তার ৬ বোলারকে দিয়ে বল করিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। 

এমন মুহূর্তে ব্রেক থ্রুর প্রয়োজন ছিল।  সাকিব ১৯ বছর বয়সী আফিফ হোসেনের হাতে বল তুলে দেন।  এক ওভারে জোড়া উইকেট নিয়ে আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন এই ডানহাতি অফব্রেকার।  ওই ব্রেক থ্রুর পর চট্টগ্রামে থেমে যায় আফগান ঝড়।  ১১ থেকে ১৬তম- এই ৬ ওভারে সফরকারীরা ৩৪ রান তুলতেই হারায় ৫ উইকেট।  শেষ দিকে শফিকউল্লাহ ২৩ ও রশিদ খানের ১১ রানে অপরাজিত থেকে আফগানিস্তানকে এনে দেন ১৩৮ রান। 

কম রানে আফগানিস্তানকে থামিয়ে ম্যাচ সহজে জেতার সুযোগ ছিল সাকিবের দলের।  কিন্তু দুই ওপেনার লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত উইকেট হারানোর পর মিডল অর্ডারে সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ ও আফিফের ব্যাটিং ব্যর্থতায় আরও একটি হার চোখ রাঙাছিল।  কিন্তু সাকিবের অধিনায়কোচিত ইনিংসে শেষ রক্ষা হয়। 

পুরো ইনিংসের অর্ধেকের বেশি রান এসেছে সাকিবের ব্যাট থেকে।  ৪৫ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় ক্যারিয়রের অষ্টম হাফসেঞ্চুরি করেন সাকিব, অপরাজিত ছিলেন ৭০ রানে।  অথচ নায়ক হতে পারতেন আফগানিস্তানের অধিনায়ক রশিদও।  দলের নবম ওভারে মিডউইকেটে ফিল্ডিং করতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিয়ের চোট পান তিনি।  পায়ে ব্যথা নিয়েই ১২তম ওভারে মাঠে নামেন এই লেগস্পিনার।  তিনি যতক্ষণ ছিলেন না, ততক্ষণ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশ অনেকটাই নিয়েছিল সাকিব-মুশফিকের ৫৮ রানের জুটিতে। 

অবশ্য রশিদ মাঠে নামার দুই বল আগেই মুশফিক ২৬ রান করে সাজঘরে ফিরে যান বাজে শটে।  আফগান অধিনায়ক তখনও বোলিংয়ে আসেননি, আক্রমণে আসেন ১৪তম ওভারে।  এসেই পরপর দুই ওভারে ফেরান মাহমুদউল্লাহ ও আফিফকে।  তবে শেষ রক্ষা হয়নি।  নিজের তৃতীয় ও ইনিংসের ১৮তম ওভারে সাকিবের তোপের মুখে পড়েন রশিদ।  তার ১ ওভারে ২ চার ও ১ ছক্কায় মোসাদ্দেক-সাকিব তুলে নেন ১৮ রান।  ওই ওভারে রশিদকে হারিয়ে অধিনায়ক সাকিব হয়ে যান বাংলাদেশের জয়ের নায়ক।