৬:৫৪ এএম, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার | | ২৩ সফর ১৪৪১




আবারো ভারী বর্ষণে ডুবেছে চট্টগ্রাম

১৩ জুলাই ২০১৯, ১২:৩১ পিএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম : টানা কয়েক ঘণ্টার ভারী বর্ষণে ফের ডুবে গেছে চট্টগ্রাম নগরের একাধিক এলাকা। 

আগ্রাবাদ, হালিশহর, বাকলিয়া, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেটসহ নগরের নিম্নাঞ্চলে জমেছে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি। 

বাসা-বাড়ি কিংবা দোকান-পাটে পানি ঢোকা নিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ আর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাসিন্দারা।  কয়েকটি সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় সেখানে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন চলাচল। 

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার (১৩ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৫১ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। 

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নান জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের আকাশ মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে।  অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি, বজ্র এবং ভারী ও অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। 

তিনি বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ দক্ষিণ, দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে ১২-১৮ কিলোমিটার থাকবে।  যা অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া আকারে ৪০-৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। 

এদিকে চট্টগ্রামে শনিবার ভাটা শুরু হয়েছে সকাল ১০ টা ২৩ মিনিটে।  জোয়ার শুরু হবে বিকেল ৪টা ৫৪ মিনিটে। 

 অপরদিকে টানা বর্ষণে পানিতে তলিয়ে গেছে সাতকানিয়ার বাজালিয়া, বড় দুয়ারা, ঘিলাতলী, মাহালিয়া এলাকা, লোহাগাড়ার বড়হাতিয়া, আমিরাবাদ ও লোহাগাড়া, পটিয়ার জুলধা, ডাঙ্গারচর, বড় উঠান, দৌলতপুর, শাহমীরপুর, বাঁশখালীর শেখেরখীল, বাহারছড়া, চাম্বল, গন্ডামারা ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম।  আনোয়ারার হাইলধর, জুইদন্ডী, বরুমচড়া, চন্দনাইশের দোহাজারী ইউনিয়নের চাগাচর দিয়াকুল, নয়াপাড়া, রায়জোয়ারা, খিল্লাপাড়া, বৈলতলী, ইউনিয়ন এবং হাটহাজারীর ফরহাদাবাদ, ধলই, নাঙ্গলমোড়া, গুমানমর্দন, ফতেপুর, মেখল, শিকারপুর ও আলমপুর এলাকা বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে। 

এছাড়া ফটিকছড়ির নারায়ণহাট, হারুয়ালছড়ি, ভুজপুর, লেলাং, ধুরুং, গজারিয়া ও বারোমাসিয়া, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালির নিম্নাঞ্চল ও সন্দ্বীপ উপজেলায় ডুবে গেছে কয়েকটি গ্রাম।  ভেসে গেছে একাধিক মাছের ঘের।  উপকূলবর্তী এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে ঢুকছে বন্যার পানি। 

রাউজান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোরশেদ জানান, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সর্তা খাল ও ডাবুয়া খালের কয়েকটি স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। 

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সায়েদুল আরেফিন বলেন, বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হালদার বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে অর্ধশত গ্রাম এখন পানির নিচে।  বন্যাকবলিতদের ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। 

সাতকানিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, বন্যায় পানিবন্দি রয়েছে ৫০ হাজার পরিবার।  বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন সরেজমিন পরিদর্শন করেছি এবং ত্রাণ তৎপরতা চালিয়েছি।  এখানে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।