৪:৪২ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার | | ৪ সফর ১৪৪০


আমদানি শুল্ক পুনর্বহালে বাজারে বেড়ে গেছে চালের দাম

১০ জুন ২০১৮, ০১:২৫ পিএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : গত বছর বন্যায় ফসলহানির পর তুলে দেয়া চালের আমদানি শুল্ক পুনর্বহালের খবরেই বাজারে বেড়ে গেছে চালের দাম।  অথচ বাজারে এখন যে চাল আছে, সেটি আগেই আনা হয়েছে।  আবার এবার বন্যা বা অতিবৃষ্টিতে ফসলহানির খবরও আসেনি। 

এবার বাজেট ঘোষণার আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দেশবাসীকে সুখবর দিয়েছিলেন।  তিনি বলেছিলেন, গত ১০ বছরে বাজেটে পণ্যমূল্য বাড়েনি, এবারও বাড়বে না। 

এবার বাজেটে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে, এমন কোনো শুল্ক আরোপ করা হয়নি।  কেবল ধানের বাম্পার ফলনের পর গত বছর দেয়া শুল্ক ছাড়টি বাতিল করা হয়েছে। 

এর প্রভাবে চালের দাম বাড়ার কোনো কারণ দেখছে না গবেষণা সংস্থা সিপিডি।  কারণ, এবার দেশে চালের সংকট হওয়ার কোনো কারণ নেই।  চাহিদার উদ্বৃত্ত চাল উৎপাদনের কথাই আলোচনায় এসেছে।   কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।  ফলে পড়ে গেছে দর। 

সরকার এবার ধানের দাম নির্ধারণ করেছে কেজিপ্রতি ২৬ টাকা, অর্থাৎ এক মণে এক হাজার ৪০ টাকা।  কিন্তু বাজারে ধানের দাম সাতশ থেকে আটশ টাকার মধ্যে। 

তবে ধানের দর নির্ধারিত দামের চেয়ে কম হলেও চালের দাম নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি।  সরকার সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করেছে ৩৮ টাকা।  অথচ রাজধানীর বাজারে সবচেয়ে কম দামের চালও ৪০ টাকার নিচে মিলছে কম। 

২০১৭ সালে বন্যার পর চালের আমদানি শূল্প ২৮ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ এবং পরে তাও তুলে নেয় সরকার।  তবে গত ৭ জুন প্রস্তাবিত বাজেটে এই শুল্কহার আবার বহাল রাখার ঘোষণা দেন।  আর এই বাজেট ঘোষণার দুইদিন আগে থেকেই চালের দাম বেড়েছে দুই থেকে তিন টাকা।  অথচ গত এক মাস ধরে চালের দাম ছিল পড়তির দিকে। 

শামির হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘বাজেট প্রস্তাব করা হলো বৃহস্পতিবার।  কিন্তু চালের দাম বেড়েছে মঙ্গলবার থেকে।  বাজেটের আগে কীভাবে তারা জানে কোন কোন জিনিসের দাম বাড়বে?’

একই প্রশ্ন বিক্রেতাদের মধ্যে।  মোহাম্মদপুরের পাইকারি বাজার কৃষি মার্কেটের চাল বিক্রেতা আব্দুল মুতালিব বলেন, ‘দাম তো বাড়া শুরু করছে বাজেটের আগে থেকে।  এখন আবার শুনলাম বিদেশ থেকে আনা চালের দাম বাড়বে।  দাম তো বাইড়াই আছে।  আর কত বাড়বে সেটা এই সপ্তাহ গেলে বোঝা যাবে। ’

গত এক মাসে রশিদ মিনিকেট চালে প্রতি বস্তায় কমেছিল ৫০ টাকা।  রমজানের মাঝামাঝি দাম কমলেও বাজেটের দুদিন আগে দাম দাঁড়িয়েছে আগের জায়গায়।  প্রতি বস্তা চাল পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ টাকায়। ’

মোটা ও মাঝারি চাল স্বর্ণা ও পাইজামের দাম বেড়েছে কেজিতে এক থেকে দুই টাকা।  গত সপ্তাহে ৩৯ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ৪১ টাকায়। 

মূল্য বৃদ্ধিতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ভারতীয় চাল।  ভারত থেকে আমদানিকৃত নুরজাহান চাল প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৩ টাকা।  ৩৭ টাকার চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে। 

দাম বাড়তে পারে উল্লেখ করে বিক্রেতা আনিসুর রহমান আনিস বলেন, ‘কেজিতে ৩ টাকা বাড়ছে।  এখনি চাল পাওয়া যাচ্ছে না।  আর চালের যখন ঘটতি দেখা দেয়, তখনি দাম বাড়ে। ’

এই বিক্রেতা আরও বলেন, ‘রোজায় চালের চাহিদা কম থাকে।  এই কারণেও চালের দাম বাড়তে পারে।  বাজেটে যেহেতু আমদানি করা চালের দাম বাড়ানো হয়েছে, তাহলে তো অবশ্যই চালের দাম বাড়বে। ’

‘এখন পর্যন্ত প্রায় চালে দুই-তিন টাকা করে কেজিতে বেড়েছে।  এখন আরো বাড়ার সম্ভাবনা আছে।  আর সেটা ঈদের পর ছাড়া বলা যাচ্ছে না। ’

বেড়েছে ভারত থেকে আমদানি করা নাজিরশাইল চালের দামও।  কেজিতে বেড়েছে ৪-৫ টাকা।  ৪৮ টাকা কেজি ভারতীয় নাজির বিক্রি হচ্ছে ৫২-৫৩ টাকায়। 

তবে বোরো ধান পুরোপুরি উঠে যাওয়ার পর ধানের দাম বৃদ্ধির কারণ কী, সে প্রশ্নের জবাব পাওয়া যায়নি বিক্রেতাদের কাছে।  আর এই প্রশ্নটি ক্রেতারাও করছেন তাদের কাছে। 

ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে চালের দাম নিত্যপণ্যের মূল্যের ক্ষেত্রে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।  সাধারণত চালের দাম বাড়লে অনেকগুলো পণ্যের দাম বাড়ে।  আর এতে বিপাকে পড়ে নিম্ন আয়ের মানুষ।  কারণ, তাদের দিনে খরচের একটি বড় অংশই ব্যয় হয় চাল কিনতে।