৯:৪৩ পিএম, ২৪ জুন ২০১৯, সোমবার | | ২০ শাওয়াল ১৪৪০




আমের শহর সাপাহার

১৩ জুন ২০১৯, ০৫:৪৯ পিএম | নকিব


আব্দুল মান্নান, নওগাঁ, প্রতিনিধি:  বরেন্দ্র অঞ্চলের ফসলি জমিতে ধান চাষের চেয়ে লাভজনক হয়ে পড়েছে আম চাষ। 

আর এ কারণেই প্রতি বছর দুই হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে গড়ে উঠছে আম বাগান।  মাটির বৈশিষ্ট্যগত (এঁটেল মাটি) কারণে নওগাঁর আম সুস্বাদু হওয়ায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। 

তবে আমের ভরা মৌসুমে আম সংরক্ষণের ব্যবস্থা ও পাইকারি বাজার গড়ে না তোলায় আম চাষিরা নায্য মূল্য পান না। 

জেলায় আগামিতে আরো অধিক আম উৎপাদন করার লক্ষে আম গবেষণাকেন্দ্র, পাইকারি বাজার ও সংরক্ষাণাগার গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

গত সাত বছরের যেখানে নওগাঁয় মাত্র ৬ হাজার হেক্টর জমিতে আম বাগান ছিল।  সেখানে বর্তমানে জেলায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে আম বাগান গড়ে উঠেছে।  স্থানীয় ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এক ফসলি জমিতে ধানসহ অন্যান্যে ফসল চাষের চেয়ে আম চাষ লাভজনক হওয়ায় আগামীতে নওগাঁয় আম চাষে বিপ্লব ঘটতে চলেছে।  জেলার অন্যতম উপজেলা সাপাহারে সবচেয়ে বাড়ছে আমের আবাদ। 

প্রতিনিয়ত নতুন নতুন জমিতে গড়ে উঠছে আম বাগান।  এ বছরে এ উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৫হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে।  এবং আম কেনা বেচার জন্য দিন দিন বাড়ছে আমের আড়ৎ ও ব্যবসায়ীদের সংখ্যা। 

জানা গেছে, জেলায় গুটি, ল্যাংরা, ফজলি, ক্ষিরসাপতি, মোহনভোগ, আশ্বিনা, গোপালভোগ, হাঁড়িভাঙ্গা, বারি-৩, ৪ ও ১১, নাগফজলি, গৌড়মতি উন্নত জাতের আম চাষ হচ্ছে।  এ ছাড়াও দেশীয় বিভিন্ন জাতের আম চাষ করা হয়ে থাকে।  নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলায় বিভিন্ন জাতের আমের কেনা বেচায় প্রায় দুই শতাধীক সর্ববৃহৎ আমের আড়তে গড়ে ওঠেছে। 

প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মণ আম কেনা বেচা হচ্ছে এই আম বাজারে।  হয়তবা কয়েক বছরের মধ্যে দেশের মধ্যে আমের রাজধানী হিসেবে খ্যাতী অর্জন করবে বরেন্দ্র অঞ্চলের এই সাপাহার উপজেলা।  আমের রাজা রুপালী বা আ¤্রপলী বাজারে আসতে আরো কিছুদিন দেরি, বাজরে এখন গোপালভোগ, খিরশাপাতি, হিমসাগর ও নেংড়া ও গুটি জাতের আমের চলছে রমরমা ব্যবসা। 

অন্য আমের তুলনায় নাগফজলি আম কম পচনশীল, খেতে সুস্বাদু, ও বাজারে ব্যাপক চাহিদা এ আমে ক্ষতিকার ফরমালিন ব্যবহার করার প্রয়োজন না হওয়ায় উৎপাদন থেকে বাজার করতে খরচও কম লাগে।  এই আমের বাজার দিন দিন রাজধানী ঢাকা, সিলেট, বরিশাল, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তার করেছে। 

সাপাহার উপজেলা সদরের মেইন রাস্তার দু’পার্শ্বে জয়পুর হতে গোডাউনপাড়া পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আমের আড়ত ঘরে ভরে গেছে। 

বর্তমানে সারাদেশ হতে শত শত আম ব্যাবসায়ী সাপাহারে এসে আমের আড়ত খুলে বসেছে।  প্রতিদিন হাজার হাজার মন আম কেনা বেচা হচ্ছে এসব আড়তে।  বর্তমানে বাজারে যে পরিমান আম কেনা বেচা হচ্ছে রুপালী আম বাজরে নামলে এর চিত্র অনেকটাই পাল্টে যাবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। 

বাজারে এখন প্রতিমন নেংড়া আম বিক্রি হচ্ছে ১৬শ’ থেকে ২হাজার টাকা দরে।  খিরশা, গোপালভোগ ও হিমসাগর আম বিক্রি হচ্ছে ২হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা দরে।  বর্তমান আমের বাজার হিসেবে রুপালী আম ৩হাজার টাকার উপরে থাকবে এবং এবার প্রায় দেড়’শ কোটি টাকার আম কেনা বেচা হবে বলে বাগান মালিক ও আম ব্যাবসায়ীরা জানান। 

এ উপজেলার কৃষকগন এবারে ধানের মূল্য বিভ্রাটে কিছুটা হিমশিম খেলেও আমের বাজার ভাল থাকায় ধানের ক্ষতি কিছুটা হলেও পুশিয়ে নিতে পারবে বলে একাধীক আমবাগান মালিক জানিয়েছেন। 

সদরের বাগান মালিক সাইদুর রহমান জানান, এবারে ধান চাষ করে উপজেলার অনেকেই নি:স্ব তবে আমাদের আম বাগান থাকায় ধানের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে হয়তবা।  বর্তমানে আমের বাজার দর অনেকটাই আম চাষীদের অনুকুলে। 

সাপাহার উপজেলা কৃষি অফিসার মজিবর রহমান বলেস, সাপাহারে এবার প্রায় ৫হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের চাষ হয়েছে।  প্রতি হেক্টর জমিতে ১৭ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হিসেবে সারা সাপাহারে এবারে ৮০ থেকে ৯০হাজার মে:টন আমের উৎপাদন হবে। 

সাটাহার উপজেলা নিবার্হী অফিসার কল্যাণ চৌধুরীর জানান, কৃষক যাতে তাদের আম বাজারে বিক্রি করতে কোন প্রকার বিড়ম্বনায় না পড়ে তাই আমি নিজে সার্বক্ষনিক বাজার পরিদর্শন করছি।  বর্তমানে আমের বাজার ঠিক আছে এ পর্যন্ত কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।  তবে কেউ যদি কোন বিষয়ে অভিযোগ করে তাহলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।