৬:২১ এএম, ২ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ৮ শা'বান ১৪৪১




আল্লাহকে স্মরণ চাই,করোনার জন্যে করুণা পাই

১৬ মার্চ ২০২০, ০৪:০০ পিএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলম: ক্ষণিকের জীবনে প্রতি মুহূর্তে স্রষ্টাকে স্মরণ করা মানেই নিজের মধ্যে স্রষ্টার প্রতি ভয় প্রদর্শন করা,আর আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে নিজেকে নিয়োজিত রাখা। 

আমাদের পার্থিব জীবনে নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হই, তখনি আল্লাহকে স্মরণ আপনাআপনি ভাবেই চলে আসে। 

যে দেশে আমরা আল্লাহর নিয়ামত আলো-বাতাস, চন্দ্র-সূর্য,পানি, যতো কিছু ব্যবহার করছি নিত্য প্রয়োজনে তাহারই শোকরিয়া জ্ঞাপন অতি গোপনে।  সন্তান রোগাক্রান্ত হলে যেমন পিতামাতার নির্ঘুম রাত্রিযাপন করে।  মায়ের অসুস্থতায় সন্তান বিচলিত হয়, স্ত্রী'র ক্ষেত্রে স্বামী, স্বামীর ক্ষেত্রে স্ত্রী, কোনো দূর্ঘটনার মুহূর্তে, কেউ বিপদগ্রস্ত হলে, কোনো গর্ভাবস্থায় রোগীর জন্যে,  প্রত্যেকেই মহান রাব্বুল আলামিনকে স্মরণ করে।  

অশ্রু সিক্ত নয়নে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে রোগমুক্তি, বিপদ হতে উদ্ধার করার জন্যে এমনকি সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য বিভিন্ন মসজিদে-মসজিদে দোয়া ও "মানত" পর্যন্ত করে।  আমরা যারা মুসলিম এটা আমাদের বিশ্বাস নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদেরকে সকল আসমানী বলা,জমিনের বলা থেকে রক্ষাকারী।  যখন কোনো ভূ-কম্পন অনুভব হয়, ভূমিকম্পের শক্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্যে আল্লাহকে ডাকি।  নাহয় ভূমিকম্পের আঘাতে লন্ডবন্ড হয়ে যাবে জনজীবন। 

আকাশে যখন বজ্রপাত হয়, ধমকা-হাওয়া, বৈরী আবহাওয়ার এই কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য্য শক্তি ধারনের জন্য একমাত্র আল্লাহ ও আল্লাহর নবী-রাসুলের,আল্লাহর  অলীদের স্মরণ করতে করতে চোখের পানিতে একাকার হয়ে যায়।  হে!আল্লাহ এই বালা-মুসিবত - বিপদ থেকে রক্ষা করার মালিক একমাত্র তুমি।  একমাত্র পবিত্র আল্ কোরআন আমাদের পথ নির্দেশনা, সঠিক পথ চলার সর্বোত্তম পন্থা।  বিশ্বের লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, যারা যে অবস্থানে আছে নিশ্চয়ই আল্লাহর ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল রয়েছে।  

শত্রুর শত্রুতা থেকে, ইসলামকে জিন্দা রাখতে সকল মুসলিম উম্মাহ আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ করে, হে! আল্লাহ বিশ্বের সকল মুসলমানদের তুমি হেফাজত করো।  এ দেশের মধ্যে নানা প্রাকৃতিক দূর্যোগে আমরা আমাদের নিজ পরিবার পরিজনদেরকে নিরাপদ করার জন্যে সচেষ্ট থাকি।  অথচ যারা আজ ইসলামকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে চাই আজ তারাই বিশ্বে আলোচিত মহামারী ভাইরাস "করোনা"-থেকে রক্ষা পেতে মসজিদের দিকে ধাবিত হয়।  যে ভাইরাস ছড়িয়ে গেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যার ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলছে।  নিয়ন্ত্রণের জন্য নানান পন্থা অবলম্বন করে যাচ্ছে, বিমানবন্দরগুলোতেও সতর্কতা জারি করেছে, ভাইরাস মোকাবিলার জন্য ধনী রাষ্ট্রগুলো বিভিন্ন দেশে বড় অংকের অনুদান দিচ্ছে সেজন্য বিশেষ ভুমিকা পালন করছে। 

আতংকিত আজ বিশ্ব সমপ্রদায়, আমরা কখনো চিন্তা করিনা যিনি দেওয়ায় মালিক আবার তিনি নেওয়ার ও মালিক।  আমরা স্রষ্টাকে স্মরণ করি বারে বারে, আর এই মহামারি "করোনা"-ভাইরাস থেকে রক্ষার জন্য স্রষ্টার নিকট " করুণা" চাই।  যতই নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হোকনা কেন, বিনাশ করার মালিকতো তিনিই যিনি ভূমন্ডল-নভোমন্ডল,কুল- কায়া নাত সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছেন।  আমরা বিপদ আসলে খোদাকে ডাকি, আর কাজ ফুরালে দিই ফাঁকি। 

তাই সর্বত্র ছড়িয়ে যাক আল্লাহ্ আল্লাহ্ ধ্বনি, বিপদ কাটিয়ে যাওয়ার ডাক যেন বিশ্ববাসী শুনি। 

লেখক: কলামিস্টঃ চিত্রশিল্পী, মুহাম্মদ শাহীদুল আলম। 
                       সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা ।