১০:১৮ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার | | ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১




আশার আলো দেখাচ্ছে ব্যাংক পুঁজিবাজারে

২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৩৭ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম: সপ্তাহজুড়ে পুঁজিবাজারে মন্দাভাব থাকলেও শেষ দিন বৃহস্পতিবার পতনের ধকল কাটিয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে শেয়ারবাজার। 

এই একদিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুরো সপ্তাহের নেতিবাচক প্রবণতাকে ভুলিয়ে দিয়েছে।  এতে গত সপ্তাহে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সবক’টি মূল্যসূচক বেড়েছে।  মূল্যসূচকের পাশাপাশি বেড়েছে বাজার মূলধনও। 

একইসঙ্গে বেড়েছে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ।  এর মাধ্যমে টানা চার সপ্তাহ পতনের পর ঊর্ধ্বমুখী ধারা ফিরে এসেছে শেয়ারবাজারে।  এই ঊর্ধ্বমুখী ধারার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ কিছুটা ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা। 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, ‘সার্বিক একটা পতনের বাজারে এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া উদ্যোগ কিছুটা ভূমিকা রেখেছে।  শুধু তা-ই নয়, পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সুযোগের খবরে এই বাজারের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও বাড়বে।  কারণ, ব্যাংকগুলোর নতুন করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ’

মিনহাজ মান্নান ইমন আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করে ফেলবে এমনটি ভাবার কোনও কারণ নেই।  তবে ব্যাংকের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেটাই বাজারের জন্য পজিটিভ হবে।  আর ব্যাংক তার সময়মতো বাজারে বিনিয়োগ করলে নেতিবাচক বাজার অবশ্যই ইতিবাচকে রূপ নেবে। ’

পুঁজিবাজারের সুশাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)-এর চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।  তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারে সুশাসন না এলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে না।  সেখানে যখন সুশাসন আসবে, তখন ব্যাংকগুলোও বিনিয়োগ করবে। ’

তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবার শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা, যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা।  অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসই’র বাজার মূলধন বেড়েছে ৭ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা।  এর আগে টানা চার সপ্তাহের পতনে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বাজার মূলধন হারায় ডিএসই।  এমন পরিস্থিতিতে গত রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ধার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

সাময়িক তারল্য সহায়তা হিসেবে ৬ শতাংশ সুদে প্রাথমিকভাবে ২৮ দিন মেয়াদে ঋণ দিতে পারবে ব্যাংকগুলো।  এর মেয়াদ ছয় মাস পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।  বাংলাদেশ ব্যাংকের তারল্য সংকট কাটানোর এই উদ্যোগের খবরে পরদিন সোমবার চাঙাভাব দেখা যায় বাজারে।  সেদিন ডিএসইএক্স ৮০ পয়েন্ট বাড়ে।  লেনদেনও ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।  কিন্তু সপ্তাহের তৃতীয় দিন মঙ্গলবার বাজারের সেই চাঙাভাব আর থাকেনি। 

সপ্তাহের চতুর্থ দিন বুধবার মূল্যসূচকের পাশাপাশি লেনদেনও কমে যায় দুই বাজারে।  ওইদিন ঢাকায় প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমে ৭ পয়েন্টের মতো।  চট্টগ্রামে সার্বিক সূচক সিএসপিআই কমে ৬২ পয়েন্ট।  যদিও এর আগে গত সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পুঁজিবাজার চাঙা করতে বাজারের সব অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।  বৈঠকে বাজারে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা হচ্ছে কিনা, তা পর্যবেক্ষণে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বিএসইসির অধীনে একটি বিশেষ কমিটি কাজ করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।  পরে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করলে বাজার কিছুটা আস্থায় ফিরে আসে। 

ডিএসই’র সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১১২ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট।  আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে দাঁড়ায় ৭৭ দশমিক ৯০ পয়েন্ট।  ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৫৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে ২৫২টির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে।  অন্যদিকে দাম কমেছে ৭৬টির।  আর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টির। 

অন্য দুটি সূচকের মধ্যে গত সপ্তাহে ডিএসই-৩০ আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে ৩৩ দশমিক শূন্য ২ পয়েন্ট।  আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে দাঁড়িয়েছিল ১ দশমিক ১৩ পয়েন্ট।  এছাড়া গত সপ্তাহে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক বেড়েছে ২৫ দশমিক ৩১ পয়েন্ট।  আগের সপ্তাহে এ সূচক কমে দাঁড়ায় ৩৩ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট। 

সপ্তাহজুড়ে মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে গড় লেনদেনের পরিমাণও।  গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩৯১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।  আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৩৭৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।  অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ১১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।  গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৯৫৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।  আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৮৯৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।  সে হিসাবে এক সপ্তাহে মোট লেনদেন বেড়েছে ৫৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকার। 

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে গ্রামীণফোনের শেয়ার।  এই কোম্পানিটির ৯৬ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা সপ্তাহজুড়ে হওয়া মোট লেনদেনের ৪ দশমিক ৯২ শতাংশ।  দ্বিতীয় স্থানে থাকা ন্যাশনাল টিউবসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার, যা সপ্তাহের মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ১৫ শতাংশ।  তৃতীয় স্থানে থাকা ফরচুন সুজের ৫৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। 

এদিকে, এ সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টপটেন গেইনার বা দর বাড়ার শীর্ষে উঠে এসেছে সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স।  সপ্তাহে কোম্পানির সর্বোচ্চ দর বেড়েছে ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।  শেয়ারটি সর্বশেষ ৩৬ টাকা ১০ পয়সা দরে লেনদেন হয়।  সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটি সর্বমোট ৩৮ কোটি ৩০ লাখ ৫৯ হাজার টাকা লেনদেন করে, যা গড়ে প্রতিদিন ৭ কোটি ৬৬ লাখ ১১ হাজার ৮০০ টাকা।  দর বাড়ার শীর্ষে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মুন্নু সিরামিক।  গত সপ্তাহে এই শেয়ারটির দর বেড়েছে ২৫ দশমিক ১৯ শতাংশ।  শেয়ারটি সর্বশেষ ১৮২ টাকা ২০ পয়সা দরে লেনদেন হয়।  সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটি সর্বমোট ৩৩ কোটি ৫৯ লাখ ৪ হাজার টাকা লেনদেন করে, যা গড়ে প্রতিদিন ৬ কোটি ৭১ লাখ ৮০ হাজার ৮০০ টাকা। 

গত সপ্তাহে টপটেন লুজার বা দর পতনের শীর্ষে রয়েছে ফরচুন সুজ।  গত সপ্তাহে কোম্পানিটির দর কমেছে ১২ দশমিক ৯১ শতাংশ।  কোম্পানিটি সর্বশেষ ২৯ টাকা ২০ পয়সা দরে লেনদেন হয়।  সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটি সর্বমোট ৫৬ কোটি ৩৭ লাখ ৯ হাজার টাকা লেনদেন করে, যা গড়ে প্রতিদিন ১১ কোটি ২৭ লাখ ৪১ হাজার ৮০০ টাকা।  লুজারের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইয়াকিন পলিমার।  সপ্তাহে শেয়ারটির দর কমেছে ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ।  শেয়ারটি সর্বশেষ ৮ টাকা ৫০ পয়সা দরে লেনদেন হয়েছে।  সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটি সর্বমোট ২ কোটি ১৮ লাখ ৯২ হাজার টাকা লেনদেন করে, যা গড়ে প্রতিদিন ৪৩ লাখ ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা।  দর কমার তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে মুন্নু জুট স্ট্যাফলার্স ।  সপ্তাহে শেয়ারটির সর্বচ্চ দর কমেছে ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ। 

ডিএসই’র লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পুঁজিবাজারে লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করছে বিমা খাত।  লেনদেনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে প্রকৌশল খাত।  ডিএসইতে মোট লেনদেনে বিমা খাতের অবদান ২০ শতাংশ।  আর প্রকৌশল খাতের অবদান ১৯ শতাংশ।  লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফার্মাসিউটিক্যালস খাত।  ডিএসই’র মোট লেনদেনে এই খাতটির অংশগ্রহণ ১১ শতাংশ। 


keya