১০:২১ এএম, ২৭ এপ্রিল ২০১৮, শুক্রবার | | ১১ শা'বান ১৪৩৯

South Asian College

আসাম কি দ্বিতীয় রাখাইন হতে যাচ্ছে?

২৯ মার্চ ২০১৮, ০৩:১১ পিএম | সাদি


এসএনএন২৪.কম : ‘অবৈধ বাংলাদেশী’ অভিযোগে আসাম থেকে বিতাড়িত হওয়ার শঙ্কায় আছে রাজ্যটির ৫০ লাখ মানুষ।  এর আগে রাজ্যের এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, ১৯৭১ সালের আগ থেকে আসামে বসবাস করে আসছে- এমন প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। 
 
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সম্প্রদায়িক এজেন্ডা নিয়েই আসাম সরকার তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে।  কারণ মুসলিম বাসিন্দাদের আসাম থেকে বিতাড়িত করার কথা বলা হলেও ১৯৭১ সালের পর যেসব হিন্দু সেখানে গিয়েছে, তাদের আশ্রয় দেয়া হবে।  বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় রাখাইন হতে যাচ্ছে আসাম। 

আসামের নাগরিকদের জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) তালিকা প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে সেখানকার সরকার।  এই পদক্ষেপকে সামনে রেখেই শঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে আসামের ‘প্রমাণহীন’ নাগরিকদের মধ্যে। 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আসামে বসবাসরত ‘অবৈধ অভিবাসীদের’ বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে গত ছয়মাস ধরে তারা ওই তালিকা হালনাগাদ করছে। 

তবে এ ধরনের পদক্ষেপের নিন্দা করে সমালোচকরা বলছেন, এটা আসাদের মুসলিম নাগরিকদের রাষ্ট্রহীন মানুষে পরিণত করবে- ঠিক মিয়ানমার যেভাবে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আচরণ করছে। 

বর্তমানে আসামে বাস করছে তিন কোটি ২০ লাখ মানুষ, যাদের তিনভাগের একভাগই মুসলিম। 

এনআরসির দায়িত্বে থাকা আসামের কর্মকর্তা প্রতীক হাজেলা জানান, প্রায় ৪৮ লাখ মানুষ ‘বসবাসের যথাযথ প্রমাণ’ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।  এনআরসির প্রথম তালিকা প্রকাশ করা হয় চলতি বছরের শুরুর দিকে।  দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশিত হতে যাচ্ছে আগামী শনিবার। 

২০১৬ সালে ভারতের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।  এরপরই এনআরসিতে অ-তালিকাভুক্তদের আসাম থেকে বহিষ্কারের প্রত্যয় জানায় তারা। 

আসামের অর্থ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমান্ত বিশ্ব শর্মা বুধবার বলেন, ‘এনআরসিতে যাদের নাম নেই, তাদের বের করে দেয়া হবে। ’ তবে তাদের কোথায় পাঠানো হবে- এ ব্যাপারে কিছু পরিষ্কার করেননি তিনি। 

তিনি জানান, নাগরিকত্ব বিষয়ক প্রাথমিক তালিকা প্রকাশের পর স্থানীয় সরকার সীমান্তে ৪০ হাজার পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে। 

হিমান্ত আরো বলেন, ‘আমরা কোনো ‍সুযোগ দেবো না।  আর এ কারণেই সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ’ তবে তার ভাষায়, ‘নির্যাতনের কারণে যেসব হিন্দু পালিয়ে এসেছে’- ভারত সরকারের এই নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ‘বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দুদের’ ভারতে থাকার সুযোগ দেয়া হবে। 

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই রাজ্যটি দীর্ঘদিন ধরেই ‘অভিবাসীবিরোধী’ মানসিকতা পোষণ করে আসছে।  তাদের দাবি, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে প্রচুর মানুষ ভারতে চলে গেছে, যারা পরে সেখানেই রয়ে গেছে। 
 
আশির দশকে আসামে অভিবাসীবিরোধী ভয়াবহ এক দাঙ্গায় শত শত মানুষ নিহত হয়।  শেষ পর্যন্ত ১৯৮৫ সালে দাঙ্গা সৃষ্টিকারীদের সঙ্গে চুক্তি করতে বাধ্য হয় ভারত সরকার।  ওই চুক্তি অনুসারে, ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের পর যারা আসামে ঢুকেছে, তাদের ‘বিদেশী’ হিসেবে গণ্য করা হবে। 

স্থানীয় রাজনীতিবিদরা জানান, আসাম থেকে যাদের বের করে দেয়া হবে- তাদের মূলত বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে।  তবে এ ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।