৮:৫৮ এএম, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ৭ সফর ১৪৪০


আয় বাড়াতে সরকারের সহায়তা চান টিভি মালিকরা

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১০:৪৫ এএম | মোহাম্মদ হেলাল


এসএনএন২৪.কম : দিন দিন আয় কমছে দাবি করে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে আয় বাড়াতে সরকারের সহায়তা চেয়েছেন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মালিকরা। 

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে বৈঠকে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব টিভি চ্যানেল ওনারস (এটকো) নেতারা এ সহায়তা চান। 

বৈঠক শেষে এটকো’র সভাপতি ইনডিপেনডেন্ট টিভির চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান সাংবাদিকদের বলেন, এটকোর অনেকগুলো সমস্যা সম্পর্কে আমরা কথা বলেছি।  ওনারা বলেছেন সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়ে তারা দেখবেন। 

সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু বলেন, আজকে মূলত আলোচনার বিষয় ছিল ৪০টি চ্যানেল কীভাবে অনেক ভাইব্র্যান্ট ও ভ্যায়াবল ওয়েতে চলতে পারে।  যেটা আমাদের রেমিউনারেশনে রিফ্লেকশন হবে।  বিভিন্ন কারণে আমাদের রেভিনিউ গোয়িং ডাউন।  নিচের দিকে যাওয়ার কারণে আমাদের ইনক্রিমেন্ট ও অন্যান্য অনেক কিছুই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সবই আলোচনা সাপেক্ষে সমাধান যোগ্য।  আমরা মনে করেছি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো যাতে তাদের গড় ব্যয়টা কমাতে পারে।  ব্যয় কীভাবে কমাবে সেজন্য কিছু প্রযুক্তিগত সমাধান আছে।  আয় কীভাবে বাড়বে, সেই বিষয়ে তাদের কিছু প্রস্তাব আছে। 

‘এটকো প্রস্তাবের ব্যাখ্যাসহ লিখিত আকারে আমাদের কাছে দেবে।  মন্ত্রণালয় সেটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে উপর্যুপরি আলোচনার মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি ও ব্যয় কমানোর বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে সহযোগিতা করবে’ বলেন হাসানুল হক ইনু। 

মোজাম্মেল বাবু বলেন, আমরা অ্যাড নির্ভর না হয়ে কীভাবে সাবসক্রিপশন বেইজ...এক টাকা করে হলেও যদি সাবসক্রাইবারদের কাছ থেকে... ভিনদেশি টিভিগুলো অনেক টাকা সাবসক্রাইবারদের কাছ থেকে নিয়ে যাচ্ছে।  আমরাও কীভাবে নিতে পারি সে ব্যাপারে আলোচনা করেছি সিদ্ধান্ত আরও পরে আসবে। 

‘ডিস্ট্রিবিউশন কীভাবে ডিজিটালাইজড করা যায় যাতে অ্যাড্রেসঅ্যাবল সিস্টেম হয় এবং টাকা রিকোভার হয় একই সঙ্গে যাতে দর্শকদের ওপর প্রেসার না পড়ে তা নিয়ে আলাপ করেছি।  ক্যাবল ডিস্ট্রিবিউশনের ক্ষেত্রে বিটিভিকে সামনে রেখে পরবর্তীতে জন্মের ক্রম অনুসারে বাংলাদেশি স্থাপনের পুরনো সিদ্ধান্ত আছে সেটা কীভাবে বলবৎ করা যায়, সেই বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করেছি’ বলেন একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। 

তিনি আরও বলেন, দেশের সব টেলিভিশন চ্যানেল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এবং যে কোনো ধ্বংসযজ্ঞের বিপক্ষে।  কাজেই সরকারের মূল চাওয়ার সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই।  সামনে নির্বাচন, অংশগ্রহণমূলক ট্রান্সপারেন্ট নির্বাচনে হবে।  যাতে টেলিভিশনগুলো ভাইব্র্যান্ট ভূমিকা রাখতে পারে।  আমি এটকোর পক্ষ থেকে বলতে চাই, এতগুলো চ্যানেল ও এতগুলো ক্যামেরা মিলে আমরা ভবিষ্যতের রাজনীতি ও নির্বাচনে অত্যন্ত পজেটিভ এবং টান্সপারেন্ট ভূমিকা রাখতে চাই। ’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে মেজাম্মেল বাবু বলেন, ‘আমরা ৩২ ধারা নিয়ে আলাপ করেছি।  ৩২ ধারার যে যে অংশগুলো সাংবাদিকদের সার্বিকভাবে জনগণকে আক্রান্ত করে...প্রথমত আমরা একটি বিষয়ে একমত যে একটা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োজন।  আপনি বা আমি যে কেউ প্রপাগান্ডার শিকার হতে পারি, তাই অপব্যবহার রোধের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। ’

তিনি বলেন, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে ব্যক্তিগতভাবে সরকারকে মনে হয়নি সাংবাদিকদের দমন করার কোনো উদ্দেশ্য আছে।  এ আইনের যেসব দুর্বলতা আছে বা আমরা আক্রান্ত হতে পারি বলে মনে হয়, বিশেষত গুপ্তচরবৃত্তির বিষয়টি-তা আমরা লিখিতভাবে দেব বলে তথ্যমন্ত্রীর কাছে প্রমিজ করেছি। 

৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার রায়কে সামনে রেখে সরকার কোনো নির্দেশনা দিয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে এটকোর সদস্য ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, সরকার গণমাধ্যমের সুষ্ঠু বিকাশ চায়।  এ ক্ষেত্রে যদি কোনো প্রতিবন্ধকতা আসে তাহলে আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দূর করার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।  পেশাগত বিষয়ে আমাদের কোন বাধা আসেনি।  আমরা মনে করি বাধা দেয়ার কোনো কারণ নেই। 

টেলিভিশনগুলো তাদের নিজস্ব পলিসি অনুযায়ী স্বাধীন ও মুক্তভাবে কাজ করতে পারছে। ’

প্রধানমন্ত্রী তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান আরও বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যহার যদি হয়, আমাদের মিডিয়ার ওপর আসে তবে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে তথ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে তা দূর করার পদক্ষেপ নিবো। 

টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর কিছু প্রযুক্তিগত, বৈষয়িক ও আইনগত সমস্যা রয়েছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশিয় চ্যানেলগুলো বিদেশি চ্যানেলের আগে সম্প্রচারে প্রদর্শনের অগ্রাধিকার পাবে এ ব্যাপারটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।  এটা আইনের ভেতরেই আছে, এটা যাতে যথাযথ বাস্তবায়ন হয় সেটা আমরা দেখব। 

চ্যানেল মালিকদের দেশিয় সাংস্কৃতি লালনের তাগিদ দিয়ে জাসদ সভাপতি ইনু বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কারো যদি উদ্বেগজনক মনে হয়, পরিমার্জন করার প্রয়োজন হয় তবে এ বিষয়ে লিখিতভাবে প্রস্তাব দিলে তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সাহায্য করব আইনটি চূড়ান্ত করার সময় প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় রাখতে। 

সভায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ, প্রধান তথ্য অফিসার কামরুন নাহার, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক এস এম হারুন অর রশীদ, সময় টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ জোবায়ের, দীপ্ত টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসান, দেশ টেলিভিশনের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ হাসান, বাংলা ভিশনের পরিচালক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।