৮:৫৯ পিএম, ২০ জুন ২০১৮, বুধবার | | ৬ শাওয়াল ১৪৩৯

South Asian College

আ. লীগের তৃণমূল নেতারা আগামী নির্বাচন নিয়ে যা ভাবছেন

১০ মার্চ ২০১৮, ০৮:৪৮ এএম | রাহুল


এসএনএন২৪.কম : একাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী  লীগ।  নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে দলের জেলা সফরও শুরু হয়েছে। 

আওয়ামী  লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিভিন্ন জেলায় সফর শুরু করেছেন।  তিনি নিজেই নৌকার পক্ষে ভোট চাইছেন।  কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি নির্বাচন নিয়ে ভাবছেন দলটির তৃণমূলের নেতারাও। 

তবে কেবলমাত্র প্রচারণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই আওয়ামী লীগ।  নির্বাচনের ‘পলিসি’ নির্ধারণ, কীভাবে বিজয় আসবে, দলীয় কাজ কী—এসব নানা বিষয় নিয়ে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে চলছে পর্যালোচনা।  সেই সঙ্গে চলছে জনপ্রিয়তা যাচাই-বাছাইয়ের কাজও।  নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কী নেবে না, সে বিষয়েও ভাবছে আওয়ামী  লীগ।  আগামী নির্বাচন নিয়ে তৃণমূল নেতাদের ভাবনা জানতে দলের অন্তত এক ডজন নেতার সঙ্গে কথা হয়েছে এই প্রতিবেদকের। 

কীভাবে নির্বাচন করলে দল ফের ক্ষমতায় আসবে, সে সম্পর্কে তাদের ভাবনা যেমন প্রকাশ করেছেন,তেমনি দলের উদ্দেশে পরামর্শও দিয়েছেন তৃণমূলের নেতারা।  তারা বলছেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে হলে বিতর্কিত এমপিদের বাদ দিয়ে ইমেজ সম্পন্ন এবং দলের জন্যে ‘কমিটেড’ নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে।  কিছু সাংগঠনিক জেলায় বিরোধ রয়েছে— তা নিষ্পত্তি করতে হবে।  যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সমুন্নত রেখে রাজনীতি করেন এবং জনগণের জন্য কাজ করেন,  মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে এমন ব্যক্তিদের বেছে নিতে হবে। 

তৃণমূলের নেতারা আরও  জানান, এমপি হওয়ার পর পুরনো, ত্যাগী  নেতাদের আশপাশ থেকে সরিয়ে দিয়ে নতুন বলয় তৈরি করা, টেন্ডারবাজি ও ঠিকাদারি ব্যবসার অভিযোগ যাদের নামে রয়েছে, রাজনীতি থেকে তাদের বয়কট করতে হবে।  তাহলে দল আবারও ক্ষমতায় আসবে।  অন্যথায় নৌকার জয় সহজ হবে না বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায়ের এই প্রাণশক্তিরা।  

জানতে চাইলে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান ফারুক বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের দিকে বেশি মনযোগী হতে হবে আওয়ামী লীগকে।  সঠিকভাবে প্রার্থী বাছাই হলে নির্বাচনে বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।  আর প্রার্থী নির্বাচনে ভুল করলে নির্বাচনি ফলাফলে মাশুল দিতে হবে। ’

তিনি বলেন, ‘নেতাকর্মী এবং জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে, এমন প্রার্থীকে বাছাই করতে হবে।  কেন্দ্রে পরিচিতি আছে, কিন্তু এলাকার মানুষ চেনে না, এমন কারও হাতে নৌকা তুলে দেওয়া যাবে না। ’

এ প্রসঙ্গে গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ক্ষমতাকে ঘিরে দলের অভ্যন্তরে বিরোধ রয়েছে।  নির্বাচনের আগে বিরোধ নিষ্পত্তি করে মাঠে নামতে হবে আওয়ামী  লীগকে।  দল ঐক্যবদ্ধ থাকলে বিজয় আসবেই। ’

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক খায়রুল আলম সেলিম বলেন, ‘যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করতে হবে।  সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।  সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচারের মাধ্যমে জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে।  মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করতে হবে।  তাহলেই নৌকার বিজয় আসবে। ’

চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম পাটোয়ারী দুলাল, নারায়ণগঞ্জ  মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহাও নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে বেশি মনযোগ দিতে হবে বলে মনে করেন।        

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান মজনু বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে হলে আমাদের সরকারকে প্রচার-প্রচারণা আরও বাড়াতে হবে।  নেতাদের ত্যাগ ও যোগ্যতাকে বিবেচনায় রেখে প্রার্থী বাছাই করতে হবে।  সর্বোপরি যিনি মানুষের কাছে যান, নেতাকর্মীদের সময় দেন— এমন নেতার হাতে নৌকা তুলে দিতে হবে। ’

পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট বলেন, ‘যোগ্য প্রার্থীকে খুঁজে নিলে নৌকার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। ’ তিনি বলেন, ‘এই সরকার দেশ ও জনগণের জন্যে যে কাজ করছে, তা জনগণের দুয়ারে-দুয়ারে গিয়ে জানাতে হবে।  মানুষ অতীতেও শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রেখেছে, ভবিষ্যতেও আস্থা রাখবে।  তবে আওয়ামী লীগকে এমন প্রার্থী খুঁজে নিতে হবে, যিনি জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন।