৮:৪৭ এএম, ৮ আগস্ট ২০২০, শনিবার | | ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১




ইউনিলিভারও মুখ ফিরিয়ে নিলো ফেসবুক থেকে

২৮ জুন ২০২০, ০৯:৪০ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কমঃ এই বছরে ফেসবুক টুইটার আর ইন্সটাগ্রামে কোন ধরণের বিজ্ঞাপন না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউনিলিভার ইউএসএ।  আর এই তথ্য প্রকাশের পরই পতন ঘটলো ফেসবুকের শেয়ারের। 

ধারণা করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গড়ে ওঠা বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রকোপেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানটি। 

কিন্তু হঠাৎ করে কেনইবা এমন সিদ্ধান্ত নিলো ইউনিলিভার।  তা জানতে যেতে হবে একটু পেছনে।  মূলত জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের পর সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে সাদা কালো দ্বন্দ্বের অবসানে যে গণআন্দোলন গড়ে ওঠে, তার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই সৃষ্টি এই টানাপোড়েনের। 

ঐ বক্তব্যে আন্দোলনকারীদের গুলি করার হুমকি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।  পরবর্তীতে  মিথ্যা তথ্য সম্বলিত ট্রাম্পের একটি পোস্ট গণ-অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় টুইটার কর্তৃপক্ষ সরিয়ে দেয়। 

এরপর ফেসবুকজুড়ে শুরু হয় ভিন্ন এক আন্দোলন, দলে দলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি ছাড়তে থাকেন ব্যবহারকারীরা।  তীব্র নিন্দা জানানো হয় ট্রাম্পের বক্তব্যের, ঐ ভিডিও সরিয়ে নিতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের প্রতি বারবার আহ্বান জানায় ব্যবহারকারীরা।  কিন্তু ফেসবুকের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় এমন যুক্তি দিয়ে তা মুছে ফেলতে অস্বীকৃতি জানান এর প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ।  তার এমন বক্তব্যে হতাশ হন স্বয়ং তাঁর প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাই।  ক্ষোভ জানিয়ে অনেকে পালন করেন কর্মবিরতি।  এ মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদকারীদের নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরো একটি বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়ে ব্যবস্থা না নেওয়ায়, চাপে ছিলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুক। 

টুইটার ফেইসবুকে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেইল ভোটিং নিয়ে দেয়াীক বক্তব্যেরও।  আর সেই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তার বিরোধী ডেমোক্র্যাট শিবির থেকে চিঠি দেয়া হয় ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে।  যদিও এক্ষেত্রেও ফেসবুকের নীতি ভঙ্গ হয়নি উল্লেখ করে ট্রাম্পের বক্তব্য সরিয়ে নেয়নি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি। 

পরে এক বার্তায়, বিতর্ক সৃষ্টি করা বক্তব্য সরিয়ে নেয়া হবে বলে জানালেও তা ফেসবুকের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় বলে জানিয়েছেন জাকারবার্গ।  যদিও তার দাবি, ভুল তথ্য প্রকাশের ব্যাপারে তৈরি হওয়া ক্ষোভের জবাব আগেই দিয়েছেন তিনি। 

আর এসব ঘটনার-ই কোপ পড়লো, ফেসবুকের বিজ্ঞাপনী আয়ে।  জনপ্রিয় এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে টুইটার ইন্সটাগ্রামেও বিজ্ঞাপন দেয়া বন্ধ করলো ইউনিলিভার ইউ এসএ।  আর এখবর প্রকাশের পরই যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারে ফেইসবুকে দর পড়েছে প্রায় সাড়ে আট শতাংশ, অংকের হিসেবে এই পতনের পরিমাণ ৫৬ বিলিয়ন ডলার।  স্বাভাবিকভাবেই বৈশ্বিক বিজ্ঞাপনী বাজার বিশ্লেষকরাও ধারনা করছেন বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখেই পড়তে যাচ্ছে জুকারবার্গ। 

এদিকে নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বার্তায় ইউনিলিভার জানিয়েছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই ধরণের প্লাটফর্মে বিজ্ঞাপন অব্যাহত রাখা সমাজের মানুষের মধ্যে সমতাসূচক পরিবেশ সৃষ্টি কিংবা মুল্যবোধের কোন পরিবর্তন আনতে পারে না।  তাই চলতি বছরে টুইটার, ফেসবুক এবং তার মালিকানাধীন ইনস্টাগ্রামের মতো কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার হবে না। 

ইউনিলিভার ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ফোন কোম্পানি ভেরাইজন এবং আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপনের বাজারে প্রভাবশালী ব্রান্ড কোকাকোলাও জানিয়েছে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন বন্ধ রাখবে তারা।  যদিও কোকাকোলার এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ এক মাস।  এই সময়ে বিজ্ঞাপন নীতি বিশ্লেষণ করে কোনো পুনর্বিবেচনার দরকার আছে কিনা তাও দেখা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।  এক বার্তায় বিশ্বে বর্ণবাদের কোনো স্থান নেই এবং সামাজিক মাধ্যমেও বর্ণবাদের কোনো স্থান নেই বলে মন্তব্য করেছেন কোকাকোলার সিইও এবং চেয়্যারম্যান জেমস কুইনসি।  সবমিলে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন বর্জনের তালিকায় যুক্ত হলো যুক্তরাষ্ট্র ও এর বাইরের ৯০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের নাম।