২:১১ পিএম, ১৮ জানুয়ারী ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

ইতিবাচক ধারা রেমিটেন্স প্রবাহে

০২ জানুয়ারী ২০১৮, ০৭:৪৭ এএম | রাহুল


এসএনএন২৪.কম :  ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স প্রবাহ।  বিদায়ী বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে ১১৬ কোটি ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন। 

যা ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসের চেয়ে প্রায় ২২ শতাংশ বেশি।  বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। 

২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে আগের অর্থবছরের (২০১৬-১৭) একই সময়ের তুলনায় রেমিটেন্স বেড়েছে ১২.৪৬ শতাংশ।  অবশ্য নভেম্বর মাসের চেয়ে ডিসেম্বর মাসে পাঁচ কোটি ডলার রেমিটেন্স কমেছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রবাসীরা গত নভেম্বর মাসে রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন ১২১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার।  এর আগে অক্টোবরে পাঠিয়েছিলেন ১১৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার।  এই হিসাবে নভেম্বর মাসে রেমিটেন্স বেড়েছে পাঁচ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্নমুখী উদ্যোগের কারণে গত অক্টোবর মাস থেকে এই রেমিটেন্স ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে।  অক্টোবর মাসে ১১৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিটেন্স আসে দেশে।  যা গত সেপ্টেম্বর মাসের চেয়ে ৩০ কোটি ৩০ লাখ ডলার বেশি।  আর ২০১৬ সালের অক্টোবরের চেয়ে এই পরিমাণ ১৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার বেশি। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, প্রবাসীরা চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ব্যাংকিং চ্যানেলে ৬৯৩ কোটি ৫৭ লাখ ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের এই ছয় মাসের চেয়ে ১২.৪৬ শতাংশ বেশি। 

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক কাজী সাইদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ২০১৮ সালে রেমিটেন্সের খরা পুরোপুরি কেটে যাবে।  কারণ, বাংলাদেশ ব্যাংক এই রেমিটেন্স বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে।  তিনি বলেন, ‘আগামী জুন (২০১৮) নাগাদ অর্থাৎ এই অর্থবছর শেষে রেমিটেন্স প্রবাহ এক হাজার ৫০০ কোটি বা ১৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ’

তিনি  বলেন, ‘হুন্ডি প্রতিরোধে অবৈধ মোবাইল ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।  বর্তমানে ডলারের দাম কিছুটা বেড়েছে।  এর প্রভাবেও রেমিটেন্স বাড়ছে।  ডলারের চাহিদা মেটাতে ব্যাংক তার নিজের স্বার্থেই ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীদের রেমিটেন্স আনার চেষ্টা করছে।  সে কারণেও রেমিটেন্স বাড়বে।  এছাড়া, শ্রমশক্তি রফতানিও বেড়েছে।  এরও একটা প্রভাব পড়বে ২০১৮ সালে। ’

গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আগের বছরের (২০১৫-১৬) চেয়ে প্রায় ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ কম রেমিটেন্স আসে।  ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসীরা মাত্র ৮৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন।  রেমিটেন্স প্রবাহের মাস হিসেবে গত ছয় বছরের মধ্যে এটিই ছিল সর্বনিম্ন।  শুধু সেপ্টেম্বরই নয়, বিগত বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এই রেমিটেন্স কমে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন ছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। 

এর আগে রেমিটেন্স বাড়াতে মাশুল না নেওয়াসহ বিভিন্ন ঘোষণা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।  একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকও প্রবাসীদের জন্য বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি অবৈধ মোবাইল ব্যাংকিং বন্ধে কঠোর অবস্থান নেয়।  সর্বশেষ হুন্ডি রোধে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।  গত ১৪ সেপ্টেম্বর হুন্ডির মাধ্যমে রেমিটেন্স বিতরণের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের দুই হাজার ৮৮৭ জন এজেন্টের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসীরা ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পাঠিয়েছেন ১১৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলার।  দ্বিতীয় মাস আগস্টে ১৪১ কোটি ৮৬ লাখ ডলার পাঠান প্রবাসীরা।  সেপ্টেম্বরে পাঠিয়েছেন ৮৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার, অক্টোবরে পাঠিয়েছেন ১১৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার ও নভেম্বর মাসে রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন ১২১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। 

২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড পরিমাণ এক হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ (১৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স আসে।  এরপর প্রতিবছরই রেমিটেন্স কমে যেতে থাকে।  ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আড়াই শতাংশ কমে গিয়ে রেমিটেন্স আসে এক হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার।  গত অর্থবছরে (২০১৬-১৭) তা সাড়ে ১৪ শতাংশ কমে দাঁড়ায় এক হাজার ২৭৭ কোটি ডলারে, যা ছিল আগের ছয় অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। 

বাংলাদেশের জিডিপিতে ১২ শতাংশ অবদান রাখছে প্রবাসীদের পাঠানো এই বৈদেশিক মুদ্রা। 

Abu-Dhabi


21-February

keya