৭:২২ এএম, ২৫ মে ২০১৮, শুক্রবার | | ১০ রমজান ১৪৩৯

South Asian College

ইবাদত বন্দেগির সেরা মৌসুম রমজান

১৬ মে ২০১৮, ১১:১৪ এএম | মুন্না


মো.আখলাকুজ্জামান, গুরুদাসপুর প্রতিনিধি : বছরের সব মাসের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম মাস রমজানুল মুবারক।  এটি পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস।  রমজান (আরবি: رمضان রমদ্বান) হলো ইসলামিক বর্ষপঞ্জিকা অনুসারে নবম মাস।  রমজান মাসে রোযাপালন ইসলামের পঞ্চমস্তম্ভের মধ্যে তৃতীয়তম।  এ মাসটি সবচেয়ে বেশি সাওয়াব ও ফজিলত লাভের মাস।  মুসলমানদের আত্মগঠন ও মাওলার নৈকট্য অর্জনের বসন্তকাল হলো রমজান মাস। 

দুনিয়ার কাজ কর্মে যেমন প্রতিটি পেশা-শ্রেণীর মানুষের বিভিন্ন মৌসুম থাকে।  ঠিক তেমনি মুমিন মুসলমানের জন্য রমযান মাস হলো ইবাদত-বন্দেগির সেরা মৌসুম।  কেননা এ মাসের একটা নফল ইবাদতের সাওয়াব ফরজ ইবাদতের সমান সাওয়াব।  আর একটি ফরজের সাওয়াব ৭০টি ফরজ আদায়ের সমান।  সাধারণত নফলের সঙ্গে ফরজের কোনো তুলনাই চলে না। 

 কোনো লোক যদি এক ওয়াক্ত ফরজ নামাজ কাজা করে বা না পড়ে; তাহলে জীবনভর নফল নামাজ পড়লেও তরক হওয়া ফরজ নামাজের সমতুল্য হবে না।  ফরজের মর্যাদা এত বেশি।  তা সাত্ত্বেও বলা হয়ে থাকে এ মাসে নফল ইবাদত করলে ফরজের সমতুল্য সাওয়াব পাওয়া যাবে।  সুতরাং রমযানের প্রস্তুতি গ্রহণ ও ফজিলত লাভে করণীয় হলো নিজেকে তৈরি করে নেয়া।  এ মাসে মহান আল্লাহ তাআলা বান্দাকে যথাযথ ইবাদতের সুযোগ দিতে রমযানের প্রথম দিন থেকেই শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়। 

 মুসলিম উম্মাহর উচিত: বছরের যাবতীয় ঝামেলা থেকে নিজেদেরকে মুক্ত রাখা।  রমযান আসার আগে থেকেই সে প্রস্তুতি গ্রহণ করা।  কোনোভাবেই যেন এ গুরুত্বপূর্ণ ফজিলতের মাসের রহমত বরকত মাগফেরাত ও নাজাত থেকে বঞ্চিত হতে না হয়।  তাই রমযান আসার আগেই মাসব্যাপী ইবাদত-বন্দেগিতে নিজেকে নিয়োজিত করতে সব বাধা-বিপত্তি ও ঝামেলামুক্ত হওয়া। 

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও এ রকম প্রস্তুতি নেয়ার দিকে ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন- ‘তোমরা শাবান মাসের চাঁদ ঠিকমত গণনা করে রাখো। ’ কারণ শাবান মাসের কয় দিন যাচ্ছে আর কয়দিন রমযান আসতে বাকি আছে তা ঠিকমত খেয়াল রাখো।  রমযানের ফজিলত উপলব্দি করে প্রিয় নবী (সা.) রজব ও শাবান মাসজুড়ে কল্যাণ ও বরকতের দোয়া করতেন।  রমযান পাওয়ার প্রবল কামনা করে দোয়া করতেন- রজব মাসে বলতেন, ‘হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন। 

আমাদেরকে রমযান পর্যন্ত পৌছে দিন। ’ শাবান মাস আসলে প্রতিনিয়ত দোয়া করে বলতেন- ‘হে আল্লাহ! আমাদেরকে শাবান মাসে বরকত দান করুন।  আমাদেরকে রমযান পর্যন্ত পৌছে দিন। ’ রমযান আসার আগে যারা অসুস্থতায় ভুগছেন; তারাও যদি মন থেকে হিম্মতের সঙ্গে রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ করে এবং প্রস্তুতি গ্রহণ করেন তবে সাধারণ অসুস্থ্য ব্যক্তিরাও রোজা পালনে কামিয়াবী লাভ করবেন। 

রোজা মানুষকে পরহেজগার তথা তাকওয়াবান হিসেবে গড়ে তোলে।  যে কাজে মানুষ আল্লাহর পরিপূর্ণ ভয় অর্জনে সক্ষম হয়, সে কাজের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ আবশ্যক কাজ।  সে কারণেই মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে পাকে ঘোষণা করেছেন- হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর (রমযানের) রোজা ফরজ করা হয়েছে।  যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর তা ফরজ করা হয়েছিল।  যাতে তোমরা আল্লাহভীরু পরহেজগার হতে পার। ’ (সুরা বাকারা: পারা-২, আয়াত-১৮৩)

 আগের যুগের লোকদের কথা তুলে ধরে মহান আল্লাহ তাআলা মানুষকে এ কথা বুঝাতে চেয়েছেন যে, মানুষ যাতে রোজা পালনকে নিজেদের জন্য কষ্টকর মনে না করে।  আর যে কাজটা আগে থেকেই চলে আসছে তা পালনে কল্যাণ ছাড়া মানুষের কষ্ট হওয়ার কথা নয়।  মানুষের মধ্যে যারা কল্যাণকর কাজ গুরুত্বসহকারে করতে চায়; মহান আল্লাহ পাক বান্দার সে কাজে বরকত দান করেন।  কল্যাণের কাজ যথাযথ আদায় করার তাওফিক দান করেন। 

 প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- ‘কেউ যদি চায় বা মনে মনে মজবুত ইচ্ছা রাখে যে, মানুষের কাছে হাত পাতবে না, তাহলে মহান আল্লাহ তাকে মানুষের দারস্থ করেন না।  কেউ যদি গোনাহমুক্ত জীবন লাভ করতে চায়, মহান আল্লাহ ওই ব্যক্তিকে গোনাহমুক্ত জীবন দান করেন।  যদি কেউ ইবাদত-বন্দেগির ওপর অটল থাকতে চায়, আল্লাহ ওই বান্দাকে ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত থাকার তাওফিক দান করেন। ’ (তিরমিজি)

 মহান আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাঁর বিধান রমজানের ফরজ রোজা পালনে যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণের তাওফিক দান করুন।  রমযানের ফজিলত, বরকত, মাগফেরাত ও নাজাত লাভের তাওফিক দান করুন।  আমিন । 

Abu-Dhabi


21-February

keya