১:৫৭ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার | | ২১ সফর ১৪৪১




ইবি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নামে মামলা, প্রধান ফটক অবরোধ করে বিক্ষোভ

২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:৫২ এএম | নকিব


মুনজুরুল ইসলাম নাহিদ, ইবি প্রতিনিধি : নেতাকর্মীদের নামে মামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। 

চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার ঝিনাইদহ আমলী আদালতে শাখার ছয় নেতার নামসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান তুহিন। 

মামলার সংবাদ পেয়ে ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করে নেতাকর্মীরা।  একপর্যায়ে তারা প্রধান ফটকে তালা দিয়ে বিকেল চারটার গাড়ি অবরোধ করে। 

জানা যায়, শাখা ছাত্রলীগের পূর্বের কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শিশির ইসলাম বাবু, সাবেক ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান লালন, ছাত্রলীগ নেতা আলামিন জোয়ার্দার, মোহাম্মদ আলী শিমুল ও নাজমুল ইসলামসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের নামে এ মামলা করে তুহিন।  মামলায় তাদের বিরুদ্ধে বিশ^বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে চাঁদাবজির অভিযোগ করা হয়।  

মামলার সংবাদ নিশ্চিত একে ভিত্তিহীন দাবি করে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে নেতাকর্মীরা।  পরে বেলা সাড়ে পাঁচটার দিকে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে অবরোধ তুলে নেয় তারা।  তবে মামলা প্রত্যাহার করে সমাধানের জন্য বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনকে বুধবার সকাল ১০ টা পর্যন্ত সময় বেধে দেয় তারা।  

এর আগে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের বহিষ্কার ও ক্যাম্পসকে বহিরাগতদের প্রভাব মুক্ত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।  মিছিল শেষে উপাচার্যের কার্যালয়ে ড. রাশিদ আসকারীর সাথে সাক্ষাত করেন নেতাকর্মীরা।  এসময় সেখানে উপ-উপাচার্য ড. শাহিনুর রহমান ও কোষাধ্যক্ষ ড. সেলিম তোহা এবং ছাত্র উপদেষ্টা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ উপস্থিত ছিলেন।  

এসময় নেতাকর্মীরা দাবি করেন এ মামলায় বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনে ইন্ধন রয়েছে।  তারা বলেন বলেন, আমাদের নেতা কর্মীদের কে হয়রানি করার জন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।  এসকল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনতে ব্যাবস্থা গ্রহন করতে হবে।  তারা প্রশাসনকে দ্রæত এ মামলার বিষয়ে সমাধান করতে বলেন।  অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুসিয়ারী দেন।  

এদিকে মামলায় বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং এ বিষয়ে কিছুই জানা নেই বলে জানায় বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন।  তবে কেউ মিথ্যা মামলা করলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদেরকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগীতা করার কথা জানায় প্রশাসন।  

এ বিষয়ে মামলার আসামী সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম বলেন, ‘এ মামলা সম্পূর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।  আমি মৌখিকভাবে শুনেছি তবে এখনো লিখিত পাইনি।  মামলার বাদি তুহিনের নামে একটি মামলা ছিল সে নিজেকে বাচানোর জন্য পাল্টা এ মিথ্যা মামলা করেছে। ’

উপ-উপাচার্য ড. শাহিনুর রহমান বলেন, ‘বিশ^বিদ্যালয়ের প্রশাসন কোন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে না।  কে বা কারা মামলা করেছে এ ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না।  প্রশাসনের বিরুদ্ধে যে আভিযোগটি আনা হয়েছে এটি সম্পূর্ণ ভুল। ’

উপাচার্য ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ‘এখানে বিশ^বিদ্যালয় কতৃপক্ষ রয়েছে।  যদি এ ধরণের ঘটনা ঘটত তা আমরা জানতাম।  কিন্তু আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানিনা।  এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলা।  তবে বিশ^বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী যদি এর সাথে জড়িত থাকে তাহলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহন করবে।