২:০১ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | | ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

ঈদকে সামনে রেখে নতুন রূপে বাঁশখালী ইকোপার্ক

৩১ আগস্ট ২০১৭, ০১:৩১ পিএম | এন এ খোকন


সৈকত আচার্য্য, বাঁশখালী(চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : দক্ষিণ চট্টগ্রামের আলোচিত পর্যটন স্পট গুলোর মধ্যে অন্যতম বাঁশখালী ইকোপার্ক।  আসন্ন কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে পর্যটকদের নজর কাড়তে এই পার্কে নেওয়া হয়েছে নানান কর্মসূচী।  প্রতিনিয়ত দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকরা এই পার্কে ভ্রমণ করতে আসলেও বিশেষ করে ঈদ মৌসুমে এই পার্কে পর্যটকদের ভিড় বেশী হয়ে থাকে।  

সূত্রমতে, ২০০৩ এবং ২০০৪ অর্থ বছরে বাঁশখালীর চুনতি অভয়ারণ্যে সহস্রাধিক হেক্টর বন ভূমি নিয়ে এই পার্কটির কার্যক্রম শুরু হয়।  পার্কটি এক সময় বামের ছড়া ও ডানের ছড়া নামে পরিচিতি লাভ করলেও ২০০৪ সালের পর থেকে বাঁশখালী ইকোপার্ক নামে পরিচিতি লাভ করে।  এখানে দেশের দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতুর অবস্থান। 

এছাড়াও সুউচ্চ টাওয়ারের মাধ্যমে সূর্যাস্ত দেখার অপরূপ সৌন্দর্য্য ভ্রমণ পিপাসুদের নানা ভাবে আকৃষ্ট করে।  চুনতি অভয়ারন্যে এক সময় ৪৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৮৫ প্রজাতির পাখি, ২৫ প্রজাতির সরীসৃপ ও ৭ প্রজাতির উভচর প্রাণীর অবস্থান থাকলেও কালক্রমে বনের উপর জনচাপ সৃষ্টি হওয়ায় তা অনেকটা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।  যাতে করে ওইসব বন্য প্রাণী নির্বিঘ্ন চলাচল করতে পারে তারই লক্ষ্য নিয়ে চুনতি অভয়ারণ্যের কার্যক্রম।  

বাঁশখালী ইকোপার্ক ভ্রমণ পিপাসুদের চাহিদা মেটাতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান, ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ। 

তিনি বলেন, বর্তমানে বনবিভাগের পক্ষ থেকে ইকোপার্কের উন্নয়নের জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।  যাতে করে ভ্রমণ পিপাসুরা এখানে এসে নিরাপদে তাদের ভ্রমণ করতে পারেন।  চট্টগ্রাম শহর থেকে যেকোন গাড়ি যোগে পৌরসভার দক্ষিণ জলদী মনছুরিয়া বাজার নেমে অনায়াসে ইকোপার্কে যাওয়া যায়।  ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা বাজার থেকে যেকোন রিক্সা অথবা সিএনজি যোগে সহজেই ইকোপার্কে যাওয়া যায়। 

এক সময় ইকোপার্কে খাওয়ার দোকানের স্বল্পতা থাকলেও বর্তমানে বেশ কিছু দোকান গড়ে উঠেছে ইকোপার্কের প্রবেশ দ্বারে।  তবে খাবার উন্নত না হলেও ক্ষুদা নিবারণে মোটামুটি চালিয়ে যাওয়া যায়।  আসন্ন কোরবানের ঈদকে সামনে রেখে নানা ধরনের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে পর্যটকদের সুবিধার্থে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে বলে জানান পার্কের ইজারাদার সোলেমান বাদশা।  

ছোট বড় অসংখ্য লেক পাহাড় ঘেরা এই বাঁশখালী ইকোপার্কটি দীর্ঘ সময় দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের আনন্দ বিনোদনে সাথী হয়ে আছে।  এক সময় এখানে বিভিন্ন প্রজাতির চম্পা ফুল, গর্জন, বৈলাম, তেলসুর, সিভিটসহ নানা ধরনের বনাঞ্চলে ভরপুর ছিল।  ছিল বন্য শুকর, সাম্বার, চিতা বিড়াল, খেক শিয়াল, হরিণ, ভাল্লুক, উদবিড়াল বিচিত্র পাখি অজগরসহ নানা প্রজাতির বন্য প্রাণী। 

এই বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য নিশ্চিত করার জন্য বাঁশখালীর জলদী অভয়ারণ্য রেঞ্জের আওতায় ২০০৪ সালে বাঁশখালী ইকোপার্কের কার্যক্রম শুরু হয়।  দীর্ঘ সময় এই ইকোপার্কে নানা উন্নয়ন কর্মকান্ডসহ অনেক পর্যটন বান্ধব স্থাপনাও নির্মাণ করা হয়েছে।  

এদিকে ইকোপার্কের উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জীব বৈচিত্র্য ও বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস.এম গোলাম মওলা বলেন, এই ইকোপার্ককে জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মসূচীর আওতায় নতুন করে কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে আধুনিক পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলা হবে। 

তাছাড়া বাঁশখালী ইকোপার্কের মত এত বিশাল স্থান জুড়ে উঁচু নিচু টিলা সমৃদ্ধ ইকোট্যুরিজ্যম ও চিত্ত বিনোদনের সুযোগ আর কোথাও আছে বলে আমার মনে হয় না।  তাই সম্প্রতি জেলার মিটিংএ বাঁশখালী ইকোপার্ককে আধুনিক পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রস্তাব প্রেরণসহ প্রকল্প গ্রহণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।