৭:১৭ এএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | | ২৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৮

South Asian College

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন

০২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৭:১৪ পিএম | রাহুল


নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  যান্ত্রিক জীবন থেকে নিজের মাঝে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস আনতে ঈদের ছুটিকে কাজে লাগাতে পারেন।  ঘুরে আসতে পারেন শহরের বাইরে দূরে কোথাও থেকে।  

মহামায়া

চট্টগ্রাম শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার উত্তরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ের ঠাকুরদীঘি বাজার থেকে দেড় কিলোমিটর পূর্বে পাহাড়ের পাদদেশে এ স্পটের অবস্থান।  নীল আকাশের বিশালতার নিচে সবুজের সমারোহ।  মনে হয় পুরো প্রকল্পটি এক অপরূপ দৃশ্য।  এ প্রকল্পটি চট্টগ্রামের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র।  রাজধানী ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে যে কোনো বাসে উঠে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ের ঠাকুরদীঘি বাজারে নামতে হবে।  নেমে সেখান থেকে সিএনজি যোগে প্রকল্প এলাকায় যেতে সময় লাগবে বড়জোর ২০ মিনিট। 

মাধবকুণ্ড ঝরনা

প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এ পাহাড়ি ঝরনাধারা ও তার চারপাশের অপরূপ মনোলোভা সবুজ প্রকৃতি সব শ্রেণির পর্যটকের কাছে অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র।  গঙ্গাসাড়া নামক পাহাড়ি ছড়ার প্রায় ২০০ ফুট উপর থেকে যুগ যুগ ধরে গড়িয়ে পড়ছে অবিরাম জলরাশি।  সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার কাঁঠালতলী থেকে রিকশায় অথবা স্কুটারে যেতে হয় মাধবকুণ্ড। 

পরিকুন্ড জলপ্রপাত

মাধবকুণ্ডের পাশে পরীকুন্ড জলপ্রপাত টানবে সবাইকে।   ঈদের ছুটিতে যারা মাধবকুণ্ডের বেড়াতে যেতে চান, তারা চাইলেই পরিকুন্ড দেখে আসতে পারেন।  টিকিট কেটে প্রধান ফটক পেরিয়ে পরিকুন্ড জলপ্রপাতের রাস্তা।  হাঁটতে হাঁটতে সামনে গিয়ে হাতের বাঁ পাশে টিলার ওপর শিবমন্দির।  এর ঠিক বিপরীতে রাস্তার সঙ্গে একটি নতুন পাকা সিঁড়ি তৈরি হয়েছে।  ওই সিঁড়ি দিয়ে নেমে মাধবকুন্ডের মূল ছড়া।  আর ওই ছড়াটির সোজাসুজি পাথর বিছানো ছড়া দিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটলেই পরিকুন্ড। 

রামসাগর

রামসাগর হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দীঘি এবং সবচেয়ে ছোট জাতীয় উদ্যান।  আকারে ছোট হলেও সৌন্দর্য আর বৈচিত্র্যে এ উদ্যানটির তুলনা নেই।  দিনাজপুর সদর উপজেলা থেকে আট কিলোমিটার দক্ষিণে তাজপুর গ্রামে অবস্থিত রামসাগর জাতীয় উদ্যান।  রামসাগর দীঘির শান্ত, স্নিগ্ধ স্বচ্ছ সাগরের মতো নীল জলরাশি দেখতে সারা বছর অগণিত মানুষ ছুটে আসেন নাগরিক জীবনে কিছুটা বৈচিত্র্য আর প্রশান্তির আশায়। 


আলতাদীঘি

নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলা সদর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার উত্তর দিকে আলতাদীঘির অবস্থান।  ধামইরহাট উপজেলা পার হয়ে পূর্ব দিকে একটি ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তা পাকা, বাকিটা কাঁচা রাস্তা।  রাস্তা দিয়ে হাঁটতেই দু’পাশে বাঁশঝাড় আর গাছগাছালি আপনাকে মুগ্ধ করবে।  কিছুদূর গেলে দেখা যাবে রাস্তার দুই পাশে শালবন।  এখানে দেখা যাবে বরেন্দ্রভূমির লালমাটির সৌন্দর্য। 

গ্রাম পার হয়ে আলতাদীঘি।  এ যেন এক আশ্চর্য দীঘি।  এত প্রাচীন আর এমন বিশাল দীঘি বাংলাদেশে আর কোথাও আছে কি-না সন্দেহ রয়েছে।  উত্তর-দক্ষিণে লম্বা এ দীঘির দৈর্ঘ্য প্রায় এক কিলোমিটার, চওড়া প্রায় ৪০০ মিটারের মতো।  এ বিশাল জলাশয়ে ৫৫ প্রজাতির দেশীয় মাছ ও প্রায় ১৪ হাজার প্রজাতির অন্যান্য জলজ প্রাণী রয়েছে।  আলতাদীঘির অদূরেই রয়েছে পাল শাসনামলে নির্মিত জগদ্দল বৌদ্ধ বিহার। 

পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত

সমুদ্রপ্রেমীদের কাছে দ্বিতীয় কক্সবাজার হচ্ছে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত।  এটি চট্টগ্রাম শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে।  পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে পৌঁছার আগে চোখে পড়বে আনুমানিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার দুই পাশে ঝাউগাছের সারি। 

মধুটিলা ইকোপার্কে

শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার উত্তরে ময়মনসিংহ বন বিভাগের ব্যবস্থাপনাধীন পোড়াগাঁও ইউনিয়নের মধুটিলা ফরেষ্ট রেঞ্জের সমেশ্চূড়া বীটের আওতায় ৩৮০ একর পাহাড়ি টিলার উপর গড়ে তোলা হয়েছে ‘মধুটিলা ইকো পার্ক’।  গারো পাহাড় এলাকায় নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক নৈসর্গিক ওই পিকনিক কেন্দ্রে এখন হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় ভরে উঠেছে।  চাইলে ঘুরে আসতে পারেন মধুটিলা ইকোপার্ক।