৯:১৫ পিএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৯ রবিউস সানি ১৪৪০




ঈদ উপলক্ষে ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু

০৮ আগস্ট ২০১৮, ১০:২১ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারা দেশে ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে।  বুধবার (৮ আগস্ট) সকাল থেকে কমলাপুর স্টেশনে বিক্রি শুরু হয়।  আজ টিকিট বিক্রির প্রথম দিন দেয়া হচ্ছে ১৭ আগস্টের টিকিট। 

প্রতিবারের মতো এবারো ১০ দিন আগে থেকে শুরু হলো ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি।  আগামীকাল ৯ আগস্ট বিক্রি হবে ১৮ আগস্টের টিকিট।  এভাবে ১০, ১১ ও ১২ আগস্ট পর্যায়ক্রমে টিকিট মিলবে ১৯, ২০ এবং ২১ আগস্টের।  এই দিনগুলোতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সকাল ৮টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হবে।  ঢাকা স্টেশনে ২৬টি কাউন্টার খোলা রাখা হবে।  এর মধ্যে ২টি কাউন্টার মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। 

একইভাবে ১৫ আগস্ট থেকে শুরু হবে ঈদ ফেরত যাত্রীদের জন্য ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি।  ঈদ ফেরত অগ্রিম টিকিট রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর ও লালমনিহাট স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সকাল ৮টা থেকে বিক্রি শুরু হবে।  ১৫ আগস্টে পাওয়া যাবে ২৪ আগস্টের ফিরতি টিকিট।  একইভাবে ১৬, ১৭, ১৮ ও ১৯ আগস্ট যথাক্রমে পাওয়া যাবে ২৫, ২৬, ২৭, ২৮ আগস্টের টিকিট। 

এদিকে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত রবিবার (৫ আগস্ট) থেকে বাসের অগ্রিম টিকিট শুরু করার কথা থাকলেও টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) থেকে।  এদিন সকাল ৬টা থেকে রাজধানীর কল্যাণপুর ও আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল গাবতলীতে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে।   

ঈদযাত্রায় ৯ জোড়া বিশেষ ট্রেন : যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে ও ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আসন্ন ঈদুল আজহায় ৯ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। 
দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল : ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ- ঢাকা (ঈদের আগে ১৮, ১৯, ২০ ও ২১ আগস্ট এই ৪ দিন এবং পরে ২৩ আগস্ট হতে ২৯ আগস্ট ৭ দিন চলবে)। 

চাঁদপুর স্পেশাল ১ : চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম (ঈদের আগে ১৮, ১৯, ২০ ও ২১ আগস্ট ৪ দিন এবং ঈদের পরে ২৪ আগস্ট হতে ৩০ আগস্ট ৭ দিন চলবে)। 

চাঁদপুর স্পেশাল ২ : চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম (ঈদের আগে ১৮, ১৯, ২০ ও ২১ আগস্ট ৪ দিন এবং ঈদের পরে ২৪ আগস্ট হতে ৩০ আগস্ট ৭ দিন চলবে)। রাজশাহী স্পেশাল : রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী (ঈদের আগে ১৮, ১৯ ও ২০ আগস্ট ৩ দিন এবং ঈদের পরে ২৪ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট ৭ দিন চলাচল করবে)। 

দিনাজপুর স্পেশাল : দিনাজপুর-ঢাকা-দিনাজপুর (ঈদের আগে ১৮, ১৯ ও ২০ আগস্ট ৩ দিন এবং ঈদের পরে ২৪ আগস্ট হতে ৭ দিন চলাচল করবে)। 

লালমনি স্পেশাল : ঢাকা-লালমনিরহাট-ঢাকা (ঈদের আগে ১৮, ১৯, ২০ ও ২১ আগস্ট ৪ দিন এবং ঈদের পরে ২৪ আগস্ট হতে ৩০ আগস্ট ৭ দিন চলবে)। 

খুলনা এক্সপ্রেস : খুলনা-ঢাকা-খুলনা (ঈদের আগে ২১ আগস্ট একদিন চলবে)। 

শোলাকিয়া স্পেশাল-১ : ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ-ভৈরববাজার রুটে ঈদের দিন চলাচল করবে। 

শোলাকিয়া স্পেশাল-২ : ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে ঈদের দিন চলবে। 

বাংলাদেশ রেলওয়েতে প্রতিদিন ২ লাখ ৬০ হাজার যাত্রী চলাচল করে।  তবে ঈদুল আজহা উপলক্ষে দৈনিক ৩ লাখ যাত্রী চলাচল করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক।  সেইসঙ্গে সুষ্ঠু ও নিরাপদে ট্রেন চলাচলের সুবিধার্থে ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত রেলওয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সকল প্রকার ছুটি বাতিল করা হবে।  এদিকে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে যেন ঈদযাত্রা করতে পারে সেই লক্ষ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। 

টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধ : ঢাকা, বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, চট্রগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী, দিনাজপুর এবং খুলনাসহ সকল বড় বড় স্টেশনে জিআরপি, আরএনবি, বিজিবি ও স্থানীয় পুলিশ এবং র‌্যাব এর সহযোগিতায় টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক প্রহরায় ব্যবস্থা করা হবে।  এছাড়া জেলা প্রশাসদের সহায়তা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। 

নাশকতা প্রতিরোধ : চলন্ত ট্রেনে, স্টেশনে বা রেললাইনে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আরএনবি, জিআরপি ও রেলওয়ে কর্মচারীদের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।  ঈদের ৫ দিন আগে থেকে ট্র্যাক পেট্রোলিং করা হবে। 

এছাড়া র‌্যাব, বিজিবি স্থানীয় পুলিশ অন্যান্য আইনশৃংখলা রক্ষাবাহিনীর সক্রিয় সহযোগিতায় নাশকতাকারীদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। 

কোচ সংযোজন : ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিটি টেনে নতুন কোচ সংযোজন করা হতে পরে।  এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে পাহাড়তলী ওয়ার্কসপ হতে ৭৫টি এমজি ও সৈয়দপুর ওয়ার্কসপ হতে ৭৫ টি (২২ টি এমজি ও ৫৩ টি বিজি) সহ মোট ১৫০ টি কোচ সপ আউট-টার্ন হবে।  বর্তমান বিদ্যামান কোচের সংখ্যা ১২৫ টি।  ১৫০ টি আউট টার্ন সহ ঈদুল আজহা উপলক্ষে সর্বমোট ১৪০২ টি কোচ চলাচল করবে। 

লোকোমোটিভ সরবরাহ : ঈদুল আজহায় বিদ্যমান লোকোমোটিভ সরবরাহ পূর্বাঞ্চলে ১০৪ এর সঙ্গে ১০ টি লোকোমোটিভ (বিদ্যমান ১০৪+১০=১১৪ টি) ও পশ্চিমাঞ্চলে ১০৫ টির সঙ্গে ১০টি (বিদ্যমান ১০৫+১০=১১৫ টি) সহ সর্বমোট ২২৯ লোকোমোটিভ ব্যবহার করা হবে। 

এছাড়াও অন্যান্য পদক্ষেপের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের সুবিধার্থে ঈদের তিন দিন আগে থেকে কনটেইনার ও জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন ছাড়া কোনও গুডস ট্রেন চলাচল করবে না।  ঈদের দিন বিশেষ ব্যবস্থাপনায় কতিপয় মেইল এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।  তবে আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করবে না।  টিকিটধারী যাত্রীদের ভ্রমণের সুবিধার্থে জয়দেবপুর ও বিমানবন্দর স্টেশন থেকে ঢাকাগামী আন্তঃজোনাল আন্তঃনগর ট্রেনে কোনও আসনবিহীন যাত্রী চলাচল করতে পারবে না। 

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সুষ্ঠু ও নিরাপদে ট্রেন চলাচলের সুবিধার্থে ট্রেন পরিচালনার সাথে সম্পৃক্ত রেলওয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সকল প্রকার ছুটি বাতিল করা হবে।  ২১, ২২ আগস্ট মৈত্রী এক্সপ্রেস এবং ২৩ আগস্টে বন্ধন এক্সপ্রেস চলাচল করবে না।  একজন যাত্রীকে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৪ টি টিকিট দেয়া হবে এবং বিক্রিত টিকিট ফেরত নেয়া হবে না।  ঢাকা স্টেশনে ২৬ টি কাউন্টার খোলা রাখা হবে।  এরমধ্যে ২ টি কাউন্টার মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। 

এদিকে পবিত্র ঈদুল আজহার ৫ দিন আগে ১৮ আগস্ট থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব আন্তঃনগর ট্রেন সাপ্তাহিক বন্ধের দিনও চলাচল করবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।