৮:১৪ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, রোববার | | ২ সফর ১৪৪২




অনুগল্প

ঈদ কলমে

১৮ মে ২০২০, ০৯:২৭ এএম | নকিব


জয় বড়ুয়াঃ লকডাউন এর কারণে ঘরবন্দি ছয় বছরের তমা। 

করোনাভাইরাস বয়স অার মানুষ দেখে না।  যারা অসচেতন তাদের শরীরে মিশে যায়। 

জামাল উদ্দিনের একমাত্র মেয়ে তমা।  তাই মেয়েকে নিয়ে বাড়তি সচেতন তমার পরিবার।  দেশের পরিস্থিতির করুণ অবস্থা।  এর মধ্যে ঈদের বাকী মাত্র কয়েকটা দিন।  ঈদ মানে শিশু থেকে বৃদ্ধ সকল মানুষের মনে বাড়তি অানন্দ।  তবে, এবারের ঈদের মধ্যে দুঃখ জড়িয়ে অাছে।  বিশেষ করে যারা নিম্ন অায়ের মানুষের দুঃখটা বেশি। 

প্রতিদিনের খাবার যোগাড় করা অসম্ভব ব্যাপার এই অবস্থায়।  ঈদের নতুন কাপড় কেনা তো রীতিমত রাতের স্বপ্ন দিনের অালোতে মিশে যাওয়ার মতন। 

কিন্তু, ছয় বছরের তমার কি অার এই কঠিন পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা অাছে? প্রতি বারের মতন বাবাকে বলল, ঈদের নতুন জামা কিনে দিতে হবে। 

জামাল উদ্দিন মেয়ের কথা হাসি মুখে মেনে নিল।  সন্তানের সামনে সকল বাবা-মা নিজেদের দুঃখ গোপন রাখে। 

পরিস্থিতি যাই হোক ঈদ তো অার প্রতিদিন অাসে না।  তাই মেয়েকে নতুন জামা কিনে দিতেই হবে।  সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান প্রায় বন্ধ। 

কাজ নেই বললেই চলে।  চারিদিকে কাজের খুব অভাব।  ঈদের নতুন কাপড় পরিধান না করলে পুরো অানন্দ ফিকে হয়ে যায়।  মেয়ের ইচ্ছা পূরণের জন্য জামাল উদ্দিন লকডাউন প্রত্যাখ্যান করে কাজের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ল। 

যদি কোনো কাজ পাওয়া যায় তাহলে ঈদ অানন্দের সুখ কিছুটা ভোগ করা যাবে।  দুঃসময়ে ভালো কাজ কপালে জুটে না জামাল উদ্দিনের ভাগ্যে। তার বিপরীত হয়নি এবারও। 

কাজ পেয়েছে করোনা অাক্রান্ত রোগীকে গাড়ি করে বহন করার।  এতে ঝুঁকি অাছে জেনেও কাজ করতে রাজী হয়েছে।  কাজের বয়স তিন দিনের মাথায় জামাল উদ্দিন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের ভর্তি হয়েছে।  প্রাথমিক ধারণা সে করোনা ভাইরাসে অাক্রান্ত। 

ঈদের চাঁদ উঠেছে।  রাত শেষ হলেই নতুন জামা গায়ে জড়াতে হবে।  তমা দরজার সামনে বসে অাছে বাবা ফিরে অাসার অপেক্ষায়।  সময় গড়িয়ে যাচ্ছে, তমার স্বপ্ন একটু একটু করে ক্ষয় হচ্ছে।  অসহায় তমা দূর রাস্তায় দেখল তার বয়সী অনেক ছেলে-মেয়ে নতুন কাপড় পরে ঘুরতে যাচ্ছে।  অভাব মানুষকে প্রতিটা মুহুর্তে কষ্ট দেয়।  ছয় বছরের তমার চোখের পানিতে মুখ ভিজে শুকিয়ে গেছে।  কিন্তু বাবা অাসল না। 

বিকাল হয়েছে তমা ঘুম থেকে উঠে দু'দিন অাগে ধোয়ে রাখা জামা গায়ে জড়িয়ে রহমত চাচার বাড়িতে গেল।  রহমত চাচা বিশাল বড় লোক।  তাই ঈদ উপলক্ষে অায়োজনের কমতি নেই।  নতুন কাপড়ের ছড়াছড়ি। তমা মনে মনে ভাবতে লাগল রহমত চাচা ইচ্ছা করলেই অামাকে ঈদ উপহার দিতে পারত। 

একজন শিশুর কাছে এই ভয়নাক স্বার্থপর পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অসম্ভব ব্যাপার। 

অামরা মানুষরা এমনই।  নিজেদের সুখ ভোগ করার সময় একটা বৃত্তের মধ্যে অাটকা থাকি।  চারপাশে অনিশ্চিত স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষগুলোর কথা চিন্তা করি না!

লেখক: জয় বড়ুয়া। 

প্রাক্তন শিক্ষার্থী: নানুপুর লায়লা কবির ডিগ্রি কলেজ। 

নানুপুর,ফটিকছড়ি,চট্রগ্রাম