১:১৪ এএম, ১৬ জুলাই ২০১৮, সোমবার | | ৩ জ্বিলকদ ১৪৩৯


উন্নত জাতি গঠনে চাই উন্নত নাগরিক : রাষ্ট্রপতি

০৭ জানুয়ারী ২০১৮, ১১:৩৪ পিএম | সাদি


এসএম জামাল, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা অঙ্গীকার ছিল সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলা।  দেশকে সঠিক গন্তব্যে পৌছে দেওয়া লক্ষ্যে সরকার সুর্নিদিষ্ট পরিকল্পনা ঘোষনা করেছে।  ইতোমধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ, রুপকল্প ২০২১, রুপকল্প ২০৪১ ঘোষনার মাধ্যমে দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কের যুক্ত করা হয়েছে। 

গৃহীত হয়েছে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের লক্ষমাত্রা পুরণে কার্যক্রর পদক্ষেপ।  মাথাপিছু আয়, জাতীয় প্রবৃদ্ধি নারীর ক্ষমতায়ন, স্যানিটেশন, কৃষি, শিক্ষা স্বাস্থ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে আমরা দৃশ্যমান অনেক সাফল্য অর্জণ করেছি। 

তিনি বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।  বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপনের অপেক্ষায় রয়েছে।  তবে আমাদের এখানেই থেকে থাকলে চলবে না।  সামনে আমাদের অনেকগুলো দুরুহ চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে।  মানসম্মত বৈজ্ঞানিক শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জন, অধিকতর শিল্পায়ন, জনপ্রাচুর্য্যরে অদক্ষ অংশকে দক্ষ মানবসম্পদে রুপান্তরসহ সর্বক্ষেত্রে আমাদেরকে জাতি হিসেবে দুরদর্শিতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে।  আমাদের পরিচিতি ও অবয়বকে করে তুলতে হবে আরও তীক্ষ্ন, মেধাদীপ্ত ও প্রতিযোগীতা সক্ষম।  সার্বিক যোগ্যতার শক্তিতেই আমাদেরকে বিশ্বের অন্যান্য জাতির কাছ থেকে সমীহ আদায় করে নিতে হবে।  কেননা মর্যাদা ও অধিকার- দানের বিষয় নয়, যোগ্যতা ও দক্ষতা প্রদর্শনের বদৌলতে অর্জনের বিষয়। 

রোববার দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ একথা বলেন। 

তিনি বলেন, উন্নত জাতি গঠনে চাই উন্নত নাগরিক।  আর উন্নত নাগরিক গঠনে রয়েছে গুরুত্বপুর্ন দায়িত্ব ও কর্তব্য।  জাতীয় সমস্যার আলোকে কার্যকর নতুন জ্ঞাপন সৃষ্টি, উদ্ভাবন শক্তির সৃজন, প্রায়োগিক সুফলদানে সক্ষম বৈচিত্রধর্মী গবেষনার জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর অনেকখানিক নির্ভরশীল।  জাতির গঠনমুলক উচ্চমান-অভিমুখী পরিকল্পনা সফল করতে বিশ্বের অগ্রসর জাতিগুলোর সমকক্ষ হতে এবং আন্তর্জাতিক নেতৃৃত্বের আসনে উন্নীত হতে আমাদেরকে সুপরিকল্পিতভাবে কঠোর শ্রমদান করতে হবে।  বিসর্জন দিতে হবে ক্ষুদ্রস্বার্থ। 

আন্তরিক বলিষ্ট দেশপ্রেমের চেতনাজাত সুকঠিন প্রতিজ্ঞাই আমাদের কাঙ্খিত সাফল্য এনে দিতে পারে।  বৈজ্ঞানিক শিক্ষা ও তার প্রায়োগিত ব্যবহার, প্রযুক্তিদক্ষতা অর্জণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষকমন্ডলীকে প্রাজ্ঞ দিকনির্দেশনা দিতে হবে।  গড়ে তুলতে হবে জাতীয় প্রয়োজনের নিরিখে উচ্চশিক্ষিত তরুন প্রজন্ম। 

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চালের প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।  প্রান্তিক জনপদে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়নের লক্ষ্যে বেশকিছু কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে।  ইতিমধ্যে যুগোপযোগী নতুন ফ্যাকাল্টি ও নতুন অনেক বিভাগ খোলা হয়েছে।  অবকাঠামোগত সমস্যা ও সমাধানকল্পে বেশ কিছু নতুন ভবনও নির্মানাধীন রয়েছে।  এর ফলে পঠন-পাঠন, জ্ঞান সৃষ্টি ও গবেষণরা ক্ষেত্রে আরও গতিশীলতা আসবে বলে আশা করি।  প্রকতপক্ষে মানবসম্মত শিক্ষা ছাড়া উন্নত ভাবমুর্তি ও জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন দুরুহ।  আমি আশা করি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অর্থবহ ও কার্যকর শিক্ষাদানে যুগোপযোগী প্রয়াস অব্যগত রাখবে। 

আবদুল হামিদ আরও বলেন, আজ তোমরা স্বীকৃতিপ্রাপ্ত উচ্চশিক্ষিত নাগরিক, দেশের সবচেয়ে আলোকিত অংশের গর্বিত সদস্য।  দেশ ও জাতির প্রতি তোমাদের রয়েছে অনেক দায়িত্ব ও অঙ্গীকার।  তোমরা নিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে এই দায়িত্ব পালনে উন্মুখ বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।  তোমরা তোমাদের অর্জিত জ্ঞানের সফল প্রয়োগ ঘটাতে পারলে দেশ অনেক সমস্যা থেকে মুক্ত হবে এবং দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।  স্মরণ রেখো তোমাদেরকে শিক্ষিত করার জন্য রাষ্ট্র যে ব্যয় করেছে তাতে রয়েছে প্রাগ্রসর অন্যান্য সকলের সঙ্গে পিছিয়ে পড়া শ্রমজীবি কৃষিজীবি মানুষের অবদান।  এই সকল মানুষের কল্যানে তোমাদের অনেক করণীয় আছে।  ইতিবাচক হও, আত্মশক্তিতে ভরসা রাখো। 

এসো, সকলে মিলে ইতিবাচকভাবে বদলে ফেলি আমাদেকে-আগামীতে আমরা যাতে নেতৃৃত্ব দিতে পারি বিশ্বসমাজকে।  চলো আরও বেশি ভালোবাসি আমাদের জননীসম দেশকে-প্রাণপনে বুকের গভীর থেকে।  আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের উজ্জ্বল ক্রমবিকাশ, ধারাবাহিক উন্নতি ও সর্বোচ্চ সাফল্য কামনা করি। 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উপাচার্য অধ্যাপক রাশিদ আসকারী।  সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আবদুল মান্নান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বক্তব্য রাখেন। 
পরে রাষ্ট্রপতি ২০ জন পোস্ট গ্র্যাজুয়েটকে সনদ ও স্বর্ণ পদক তুলে দেন। 

সমাবর্তনে যোগ দেয়ার আগে তিনি শেখ রাসেল ও শেখ হাসিনা হলের উদ্বোধন ছাড়াও বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল ও দৃষ্টিনদন ফোয়ারা উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ। 

অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ঝিনাইদহ ১ আসনের সাংসদ আব্দুল হাইসহ বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।