১:৪৬ পিএম, ২৫ মে ২০১৯, শনিবার | | ২০ রমজান ১৪৪০




বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে

উপাচার্যের সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থানসহ ১৮ দফা দাবিতে শিক্ষক সমিতির স্বারকলিপি

১৬ এপ্রিল ২০১৯, ০৫:৪১ পিএম | জাহিদ


শিপন তালুকদার, বেরোবি : বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে চ্যান্সেলর কর্তৃক প্রদত্ত নিয়োগ শর্ত অনুযায়ী সার্বক্ষনিক ক্যাম্পাসে অবস্থানকরাসহ মোট ১৮ দফা দাবিতে উপাচার্য বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি।  

মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপাচার্যের একান্ত সচিব আমিনুর রহমানের কাছে এ স্বারক লিপি প্রদান করেন সমিতির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।  

স্মারকলিপিতে তারা জানায়, নানাঘাত প্রতিঘাত পার করে কেটে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দশটি বছর।  কিন্তু দীর্ঘ সময় ধওে বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড।  বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সেশন জট নিরশনে অরগানোগ্রাম অনুযায়ী পর্যাপ্তসংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ করার কথা থাকলেও চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর কোনধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। 

এজন্য তারা উপাচার্যের অনুপস্থিতিকেই প্রধান দায়ি করে এই স্মারকলিপি দিয়েছেন।  স্মারকলিপিতে তারা আরো উল্লেখ করেন, উপাচার্যের অনুপস্থিতি, বিশ্ববিদ্যালয়ে  সদ্য  নিয়োগকৃত শিক্ষকদের ছুটি বিহীন অনুপস্থিতিতে শিক্ষা সংকট তৈরী হচ্ছে, প্রশ্নবিদ্ধ শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাসহ বিভিন্নকারণে নেতিবাচক বিভিন্ন নিউজ প্রকাশের মাধ্যমে চরম ভাবে নিঁচু হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি। 

স্মারকলিপি থেকে জানা যায়, গত ৫ই মার্চ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় সমিতির সদস্যবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান বিভিন্ন সংকটের কথা উল্লেখ করে তা সমাধানের জন্য কিছু প্রস্তাবনা রাখেন।  প্রস্তাবনা সমূহ-

১. উপাচার্য মহোদয়কে চ্যান্সেলর কর্তৃক প্রদত্ত নিয়োগশর্ত  অনুযায়ী সার্বক্ষণিক বিশ্ববিদ্যায়ে অবস্থান করতে হবে। 

২. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের দ্বিতীয় ফেজের কার্যক্রমের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 

৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সিন্ডিকেট, নিয়োগ বোর্ড, অর্থ কমিটির সভাসহ সকল সভা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান করতে হবে। 

৪. নতুন যোগদানকত শিক্ষক বৃন্দের অনিয়ম তান্ত্রিক ফাউন্ডেশন ট্রেনিং বন্ধ করে বিভাগের শিক্ষক স্বল্পতার সংকট লাঘব করতে হবে এবং শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর সকল শিক্ষা ও পেশাগত ট্রেনিং ড.ওয়াজেদ রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং ইনস্টিউট এর অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করতে হবে। 

৫. শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিখিত পরীক্ষা নিয়োগ বোর্ডের সকল সদস্যদের অংশগ্রহনের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে। 

৬. সিএসই, পরিসংখ্যান এবং রসায়ন বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত আপগ্রেডশন/প্রমশনের যোগ্যতা অর্জনকারী শিক্ষকবৃন্দের আপগ্রেড/প্রমোশন আটকে রেখে শিক্ষাকার্যে স্পৃহাহীনতা সৃষ্টিকারী হয়রানি বন্ধ করতে হবে। 

৭. অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী ইউজিসি থেকে জরুরী ভিত্তিতে শিক্ষক পদ অনুমোদন নিয়ে অস্থায়ী পদে চাকুরিরত শিক্ষকবৃন্দের চাকুরী স্থায়ীকরনসহ নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে সেশনজট দূর করতে হবে। 

৮. বিশ্বদ্যিালয়ের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণারত শিক্ষকবৃন্দের স্ববেতনে ৫ বছর সহ মোট শিক্ষাছুটি ৭ বছর নির্ধারণ করে অতি দ্রত শিক্ষাছুটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। 

৯. এনওসি ও অভিজ্ঞ সনদসহ যাবতীয় জরুরী বিষয়াদির প্রক্রিয়া দুই থেকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। 

১০. সকল পরীক্ষার পারিতোষিক ফলাফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। 

১১. বিশ্ববিদ্যালয় ট্রেজারার ও প্রো-ভিসি নিয়োগ প্রদানের জন্য পয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। 

১২. বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম ফলপ্রসু করতে অনুষদে উপস্থিত যোগ্য শিক্ষককে ডিন ও বিভাগে উপস্থিত যোগ্য শিক্ষককে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব প্রদান করতে হবে। 

১৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের গেজেট অনুযায়ী বিভাগের একাডেমিক প্লানিং কমিটি গঠন করতে হবে। 

১৪. সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য ধর্মীয় উপাসনালয় স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 

১৫. অতিদ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের গম্বুজসহ দ্বিতীয়তলার কাজ শুরু করতে হবে। 

১৬. গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের নিয়োগ অন্যান্য বিভাগের ন্যায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রণীত ২৯ নং আইনের ২৮ (২) ধারা মোতাবেক নিশ্চিত করতে হবে। 

১৭. বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মহীয়সী নারী রোকেয়া সাখাওয়াত এর প্রতিকৃতি স্থাপন করতে হবে। 

১৮. বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাংকের স্থায়ী শাখা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট স্থাপন করতে হবে।