১০:৪০ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০১৮, শনিবার | | ৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


উপজেলা ভূমি অফিসে জনবল সংকট, দূর্ভোগে মানুষ

০৯ আগস্ট ২০১৮, ০২:৫৩ পিএম | জাহিদ


মো.আখলাকুজ্জামান, গুরুদাসপুর প্রতিনিধি : নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা ভূমি অফিসে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে সেবা কার্যক্রম।  জনবল সংকটের কারণে অফিসের দৈনন্দিন কর্মকান্ডে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।  ফলে খাজনা-খারিজ করতে আসা মানুষগুলো এক মাস ধরে দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন। 

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভূমি অফিসে সেবা নিতে এসেছেন।  ভূমি অফিস, অফিসের সামনে এবং অফিসের সেবা কেন্দ্রে বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন তারা।  উপজেলার উত্তরনাড়িবাড়ি গ্রামের সেলিম শাহ অভিযোগ করেন, খারিজের ডিসিআর পেতে এক সপ্তাহ ধরে ঘুরছেন।  কিন্তু জমাসহকারী না থাকায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন। 

একই অভিযোগ করেন ধারাবারিষা গ্রামের শিক্ষক জামাল উদ্দিন ও চাঁচকৈড় বাজারের নাজিরমোল্লা।  তাদের মত নানা সমস্যায় ভুগছেন উপজেলার মানুষ।  প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ১০০ জন মানুষ নানা রকম সেবা পেতে এসে ফিরে যাচ্ছেন।  পৌর ভূমি অফিসেও একই দূর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ। 

উপজেলা ভূমি অফিস সুত্রে জানা যায়, অফিসে ১৪ জন জনবল থাকার কথা।  তারমধ্যে কানুনগো, নাজির, জমাসহকারী, সার্টিফিকেট সহকারী, সায়রাত সহকারী, চেইনম্যান দুইজন ও প্রসেস সার্ভার পদ শূণ্য রয়েছে।  এরমধ্যে সায়রাত সহকারী ডেপুটেশনে লালপুরে দায়িত্ব পালন করছেন। 

অপরদিকে গুরুদাসপুর পৌর ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা অনীল কুমার ৩০ জুন অবসরে যাওয়ায় সেখানে বিয়াঘাট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী বাড়তি দায়িত্ব পালন করছেন।  জমাসহকারী মো. শহিদূল ইসলাম ১২ জুলাই অন্যত্র বদলি হয়ে যাওয়ায় উপজেলা ভূমি অফিসের সেবা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। 

আরও জানা যায়, কানুনগো না থাকায় খাস জমিজমা সংক্রান্ত মামলার তদন্ত, খারিজের কাগজপত্র চেকিং করা এবং আইনগত সহায়তা দেয়া যাচ্ছে না।  নাজিরের পদ শূণ্য থাকায় নেজারত শাখার কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি, বাজেট বরাদ্দ, রেকর্ড-জাবেদা নকল, রেকর্ডরুম রক্ষাণাবেক্ষণ, ডিসিআর সংরক্ষণ, সরবরাহ, কোর্টের মামলাগুলোর বিবরণী প্রতিবেদন এবং নিলাম সংক্রান্ত কাজ ব্যাহত হচ্ছে।  জমাসহকারী না থাকায় জমির খাজনা-খারিজ, ভিপি, খারিজের ডিসিআর কাটা, রেকর্ড সংরক্ষণ, ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের রিপোর্ট সংক্রান্ত কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। 

সার্টিফিকেট সহকারী না থাকায় সার্টিফিকেট মামলার প্রতিবেদন ও অডিট সংক্রান্ত কাজ হচ্ছে না।  সায়রাত সহকারী পদে লোক না থাকায় খাস পুকুর, ভিপি পুকুরসহ নদ-নদীর দেখভাল করা যাচ্ছে না।  সার্ভেয়ার না থাকায় খাসজমি তদন্ত সংক্রান্ত কাজ, অবৈধ দখল ও উচ্ছেদ, কার্যক্রম, বরাদ্দকৃত দোকান লাইসেন্স, হাট-বাজার পেরিফেরি তথ্য সংরক্ষণ, আবাসন-আশ্রায়ন, গুচ্ছগ্রাম সংক্রান্ত কার্যক্রম ও নথি সংরক্ষণের কাজ করা যাচ্ছে না। 

সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) গণপতি রায় আমাদের সময়কে বলেন, জনবল সংকটের কারণে খাজনা-খারিজ বন্ধ রয়েছে।  একই সাথে নিলাম-মামলা সংক্রান্ত নানা রকম প্রতিবেদন দেয়া নেয়াসহ অন্যান্য সেবা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে।  বিষয়টি সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরে জানানো হলেও সমাধান হচ্ছে না।  পক্ষান্তরে সরকারের রাজস্ব আদায় ব্যাহত হচ্ছে।