৬:০১ এএম, ২১ মার্চ ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৪ রজব ১৪৪০




উৎসব মুখরতা চাই

১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৯:৪৭ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : ঘূর্ণিঝড় ‘পেথাই’ এর প্রভাবে বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গায় হালকা বৃষ্টি হচ্ছে।  ফলে জেঁকে বসেছে শীত।  আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা কমে শীত আরও বাড়বে- এমনটি বলছে আবহাওয়া অধিদফতর। 

মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ঢাকায় ১২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।  চলতি মাসে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে এক থেকে দুটি মৃদু বা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।  কাজেই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা জরুরি। 

শীত এলে অনিবার্যভাবেই প্রকৃতিতে ঘটে কিছু পরিবর্তন।  হেমন্তের ফসল কাটা শেষ হয়।  নবান্নের সঙ্গে পিঠাপায়েসের আয়োজন চলে গ্রামাঞ্চলে।  এই নগরেও এখন মৌসুমী পিঠা বিক্রেতারা তাদের পসরা সাজিয়ে বসেছে।  শীত একদিকে যেমন উৎসবের আমেজ নিয়ে আসে।  অন্যদিকে তীব্র শীত জীবনযাত্রা বিপন্ন করে তোলে মানুষজনের।  বিশেষ করে দরিদ্ররা শীতের কাপড়ের অভাবে কষ্ট পায়।  এই সময় শীতজনিত নানা রোগব্যাধিও দেখা দেয়।  এজন্য শীতের জন্য আলাদা একটি প্রস্তুতি রাখা প্রয়োজন। 

শীত মৌসুমে শিশুদের ঠাণ্ডাজনিত নানা রকম রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়।  ডায়রিয়া, জ্বর, হাঁচি, কাঁশি, শ্বাসকষ্টসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয় শিশুরা।  উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইতোমধ্যেই জেঁকে বসেছে শীত।  কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে চারদিক।  কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে আসে।  দূরপাল্লার গাড়ি চলাচলও বিঘ্নিত হয়।  এ জন্য সতর্কবার্তা জারি করা উচিত।  এ সময় শৈত্যপ্রবাহেরও আশঙ্কা থাকে। 

প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে ঋতুর পরিবর্তন হবে।  এটাই স্বাভাবিক।  এ জন্য প্রতিটি ঋতুই যেন উপভোগ করা যায় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি থাকা অত্যন্ত জরুরি।  শীতজনিত রোগব্যাধি থেকে মানুষজনকে রক্ষার করার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখতে হবে।  তীব্র শীতে দরিদ্র ও অসহায় মানুষ যাতে কষ্ট না পায় সেজন্য গরম কাপড় সরবরাহ করাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। 

শুধু সরকার নয় সমাজের বিত্তবানরা এ জন্য এগিয়ে আসতে পারেন।  কবি সুকান্ত যেমন করে সূর্যের কাছে উত্তাপ চেয়েছিলেন ‘রাস্তার ধারের উলঙ্গ ছেলেটির জন্য’ তেমনিভাবে আমাদের মধ্যে এই শীতে মানবিকতার উন্মেষ ঘটাতে হবে।  আর তখনই শীত কষ্টের ঋতু না হয়ে উৎসবের ঋতু হয়ে উঠবে।