৬:৪৪ এএম, ১২ জুলাই ২০২০, রোববার | | ২১ জ্বিলকদ ১৪৪১




এই শীতে ঘুরে আসুন চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে

০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:২৩ পিএম | জাহিদ


তোফায়েল পাপ্পু, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) : দেশের বিক্ষাত পর্যটন নগরী হল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল।  শহরের চারদিকে সবুজের সমারোহ, পাহাড় আর উচু টিলার ত শেষ নেই।  চোখ ঘুরালেই শুধু সবুজ।  শহরের বেশির ভাগটা জুড়েই রয়েছে চা-বাগান।  দেশে দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে কক্সবাজার, সেন্টর্মাটিন, সুন্দরবন, বান্দরবনে ঘুরেছেন।  

কিন্তু ভ্রমন করেননি দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক লীলাভূমি মৌলভীবাজারের  শ্রীমঙ্গল।  এখানে আপনি যে দিকে-ই তাকাবেন দুচোখ জুড়ে দেখবেন চায়ের বাগান।  যা দেখলে চোখ জুড়ে খেলে যাবে এক অপরূপ সুন্দর ও সবুজের সমারোহ।  তাই হয়তোবা ভাবছেন কিভাবে  যাবেন শ্রীমঙ্গলে!


বাংলাদেশে  চা-বাগান মানেই শ্রীমঙ্গলে।  সাধারণত মে মাস থেকে চাপাতা সংগ্রহের মৌসুম শুরু হয় চলে অক্টোবর পর্যন্ত।  এ সময় বাগানও থাকে সবুজ-সতেজ আর কর্মচঞ্চল।  আর এ সময়টাকেই আপনি বেছে নিতে পারেন ভ্রমণের জন্য। 

‘চা-কন্যা’ ভাস্কর্য দেখে শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান ভ্রমন শুরু করতে পারেন।  বাগানে চা পাতা তুলছে এক তরুণী শ্রমিক।  এই আদলে তৈরি সাদা ভাস্কর্যটি শ্রীমঙ্গলের  প্রবেশপথেই দৃষ্টি কেড়ে নেবে।  মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন দৃষ্টিনন্দন এ ভাস্কর্যটি তৈরি করেছে সাতগাঁও চা-বাগানের সহযোগিতায় ‘চা-কন্যা’র সামনেই বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে  সাতগাঁও চা-বাগান। 

‘চা-কন্যা’ থেকে শ্রীমঙ্গল শহরের দূরত্ব বেশি নয়।  ছোট্ট শহরকে পিছু ফেলে ভানুগাছ সড়কে উঠলেই চোখে পড়বে  ফিনলের চা-বাগান। 


চা গবেষণা ইন্সটিটিউটের (বিটিআরআই) ভেতর থেকে দক্ষিণমুখী সড়কটি ধরে এগিয়ে গেলে ফিনলের চা-বাগান, এ ছাড়া আছে বিটিআরআইর নিজস্ব বাগান।  ভানুগাছ সড়কের টি-রিসোর্ট ফেলে সামনে দুটি বাঁক ঘুরে হাতের ডানের সড়ক ধরে কয়েক কিলোমিটার গেলেই জেরিন টি-এস্টেট। 

লাউয়াছড়ার  আগে হাতের ডানে জঙ্গলঘেরা পথটি চলে গেছে নূরজাহান টি-এস্টেটের দিকে।  এ পথে দেখা মিলবে আরো বেশ কিছু বাগান।  শ্রীমঙ্গল থেকে কমলগঞ্জের দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার।  পথের মধ্যেই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান।  কমলগঞ্জ থেকে আরো পাঁচ কিলোমিটার গেলে পাহাড় ঘেরা চা-বাগানের মধ্যে বিশাল মাধবপুর লেক। 


তবে চা-বাগান দেখতে দেখতেও মাধবপুর যাওয়া যায়।  এর জন্য ধরতে হবে নূরজাহান টি-এস্টেটের পথ।  বাহন হিসেবে অবশ্যই নিতে হবে জিপ।  এখান থেকেও চা-বাগান দেখতে দেখতে ভিন্নপথে ফিরতে পারেন।  ধলাই সীমান্ত থেকে ফিরতি পথে সামান্য এগিয়ে হাতের বামে বেশ পুরনো চা-বাগানের বাংলোর পাশ ঘেঁষা রাস্তা ধরে চললে, চা-বাগানের বাঁকে বাঁকে ফেরা যাবে শ্রীমঙ্গল শহরে।  শ্রীমঙ্গলে এসে যা দেখতে পারবেন সবুজ চায়ের বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বধ্যভূমি-৭১, ডিস্ট্রেন সিমেট্রি, ভাড়াউড়া লেক, মিনি চিড়িয়াখানা, বিটিআরআই চা গবেষনা কেন্দ্র, হাইল হাওর, বাইক্কা বিলসহ আরও ভ্রমন উপযোগী বিভিন্ন স্থান। 


keya