৫:৪৭ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০১৮, রোববার | | ৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


একটি পোষ্টারে ইতিহাস কথা বলে

০৬ জুন ২০১৮, ০৭:৩৪ পিএম | সাদি


জাহাঙ্গীর আলম, নেত্রকোনা প্রতিনিধি : অতীতের নাম ইতিহাস।  ইতিহাসের সে অতীত কখনো ফিরে আসে না।  তবে ইতিহাস কখনো হারিয়ে যায় না। 

কথায় আছে, ইতিহাস কথা বলে।  ইতিহাস ফিরে ফিরে আসে।  জাতির গৌরবের ইতিহাস, অহংকারের ইতিহাস, স্বাধীনতার ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বীরত্বের ইতিহাস, বিজয়ের ইতিহাস মানুষের বুকের ভিতর সমুদ্রের মতো গর্জন করে।  দেশ প্রেমের  ইতিহাস কখনো মরে যায় না।  সে জেগে থাকে রক্তের ভিতর।  রক্তের সে জাগ্রত সত্যে মানুষ জেগে ওঠে - কখনো কখনো মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতেও ভয় পার না। 

শহীদি মৃত্যু, মৃত্যু নয়।  শহীদি মৃত্যু চিরদিন বেচেঁ থাকার মৃত্যু।  অমর হওয়ার মৃত্যু।  সেই অমর হওয়ার মৃত্যুকে আমরা ব্যাপক ভাবে আলিঙ্গন করেছিলাম সেই ১৯৭১ সালে, আমাদের  মুক্তিযুদ্ধের সময়।  যে যুদ্ধে আমরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে।  সে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আমরা সে দিনের মতোই বুকের গভীরে লালন করি বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে ও অনুপ্রেরনায়। 

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর কুচক্রী মহল দীর্ঘ একুশ বছর আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে নানা চক্রান্ত করেছে।  মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি জামায়াত -শিবির-রাজাকারআলবদরদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসিয়েছে।  মন্ত্রী -এমপি বানিয়েছে।  জাতীয় পতাকাকে অবমাননা করেছে।  ৭২’ এর সংবিধান ছিন্নভিন্ন করেছে।  কিন্তু কিছুতেই বাংলাদেশের মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে সরিয়ে রাখতে পারেনি।  কুৎসিত ষড়যন্ত্রের জালে জড়িয়েও মানুষ বিভ্রান্ত হয় নি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে মানুষ ঐক্যবদ্ধ থেকেছে।  জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান ভুলে যায় নি। নেত্রকোনা-বারহাট্টা এলাকার ঘরে ঘরে প্রচারিত একটি পোষ্টার স্থানীয় জনগনের মনে করিয়ে দিলো মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর নেত্রকোনা বাসীর দু:সাহসিক ভূমিকার স্মৃতি।  কি সেই স্মৃতি? নেত্রকোনাকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মুক্ত করার গৌরবময় মুখোমুখি যুদ্ধের স্মৃতির ইতিহাসকে তুলে ধরেছেন, ১১ নং সেক্টরের ৪নং টাইগার কোম্পানীর ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কমান্ডার এবং সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতা আবু আক্কাস আহমেদ।  পোষ্টারটিতে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়েছে নেত্রকোনা দখল মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আবু খাঁ, আব্দুস সাত্তার ও আব্দুর রশিদের নাম। 

এদেরকে বলা হয়েছে “শহীদ সূর্যসন্তান। ” স্বরণ করা হয়েছে সে সব অকুতভয়া বীরদের যাদের সাংগঠনিক কর্মকান্ড ও প্রত্যক্ষ অংশ গ্রহনে নেত্রকোনা হানাদার মুক্ত হয়েছে।  বুকের সবটুকু আবেগ ঢেলে অশেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে এই ভাষায় - যাঁদের শোনিত সাহসে এই হাওর আর পাহাড়ের স্পন্দিত জনপদে উঠেছে আজ দীপ্ত স্বাধীন সূর্য তাদের প্রতি অশেষ শ্রদ্ধা। 

আব্দুল মুমিন (বঙ্গবন্ধর সহচর,মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও তৎকালীন এম এন এ), এ্যাড সাদির উদ্দীন আহমেদ (মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও তৎকালীণ এমএনএ), এম জুবেদ আলী (মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও তৎকালীণ এমএনএ), আব্বাস আলী খান (মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও তৎকালীণ এমপিএ), ডা: আকলাখ হোসাইন আহম্মেদ (মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও তৎকালীণ এমপিএ), আব্দুল মজিদ তারা মিয়া (মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও তৎকালীণ এমপিএ), হাদিস উদ্দিন চৌধুরী (মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও তৎকালীণ এমপিএ), নাজমুল হুদা (মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও তৎকালীণ এমপিএ), আব্দুল খালেক (মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও তৎকালীণ এমপিএ), ফজলুর রহমান খান (মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাবেক এমপি), নূরুল ইসলাম খান  (নেত্রকোনায় প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনকারী), আবু সিদ্দিক আহমেদ (নেত্রকোনা হানাদার দখলমুক্ত করার যুদ্ধে নেতৃত্বগণকারী এবং যুদ্ধাহত), গোলাম মোস্তফা (১১নং সাব সেক্টর ক্যাম্প ইনচার্জ এবং যুদ্ধাহত ও মুক্তিযোদ্ধাদের সেবক), ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী (জেলা ইউনিট কমান্ডার) এবং আবু আক্কাস আহমেদ। 

আবু আক্কাস আহমদে এবং এ্যাড সাদির উদ্দিন আহম্মেদ ছাড়া এই ছবিগুলির সবাই এখন চির নিদ্রায় শায়িত।  বিশিষ্ট এই মুক্তিযোদ্ধাদের আত্বার চির শান্তি কামনা করে তাদের স্মৃতিকে অম্লান রাখাই আমাদের দায়িত্ব। 

শুভ নববর্ষের সূর্যকে আবাহন জানানো হয়েছে এই বলে, “এসো নয়া সুর্য করি দীপ্ত অঙ্গীকার জনকের রক্তে ভেজা দ্রোহের বাংলায় গড়ি মানুষের অধিকার”।  নৌকার ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে “সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে নৌকায় ভোঠ দিন”।  পোষ্টারটিতে সবার উপরে সূর্যবৃত্তের মতো সাদা- লাল - সবুজের মধ্যে ছাপানো হয়েছে বঙ্গবন্ধুর সেই তজর্গী উঁচানো ছবি যা তৎকালীন ৭ কোটি মানুষকে স্বধীনতার সপথে উজ্জীবিত করেছিলেন।  আছে লাল-সবুজ পতাকার পটভূমিতে বঙ্গবন্ধুর কন্যা, দেশরত্ন, মানবতার মাতা, সফল রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাসোউজজ্জল ছবি।  যার নিচে সংযুক্ত করে ছাপানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র ও তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহৎ ও পুরানো ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়মীলীগের  সুযোগ্য সাধারণ সম্পাদক ও সফল মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি’র ছবি। 

বঙ্গবন্ধু তর্জনীয় নীচে যে ছবিটি ছাপানো হয়েছে সেটি বাংলাদেশের তারুন্যের প্রতীক, বঙ্গবন্ধুর সাথে সাহাদত বরনকারী তার বড় ছেলে শেখ কামালের।  শেখ কামালই ছিলেন, এই পোষ্টার প্রচারক আবু আক্কাস আহমেদের রাজনৈতিক গুরু, শুভাকাঙ্খি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ রাজনীতিতে পথ পদর্শক।  গুরুর প্রতি শিষ্যের শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদর্শিত হয়েছে এই পোষ্টারে। 

পোষ্টারেটির সবচেয়ে বেশি ঐতিহাসিক মূল্য এই যে, এতে ছাপানো হয়েছে ১৯৭১ সালে ৯ ডিসেম্বর নেত্রকোনা দখল মুক্ত করার সম্মুখ যুদ্ধে অংশ গ্রহনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নেত্রীত্বদানকারী ৪নং টাইগার কোম্পানির কমান্ডার আবু সিদ্দিক আহমেদ।