৩:৫১ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, সোমবার | | ৪ মুহররম ১৪৩৯

South Asian College

এগিয়ে যাচ্ছে চা চাষে লালমনিরহাট

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৪:৪৯ পিএম | সাদি


আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : রংপুর বিভাগে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার পাশাপাশি চা শিল্পে এগিয়ে যাচ্ছে লালমনিরহাট জেলাও।  জেলার পাঁচ উপজেলায় প্রায় ২০০ একর জমিতে গড়ে উঠেছে চা বাগান।  আর এসব জমিতে চা চাষ করছেন জেলার ৭৫ জন চাষি।  তাদের বাগানে প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন চা পাতা উৎপন্ন হচ্ছে।  এছাড়া জেলায় নতুন করে আরো ৫০০ একর জমিতে চা বাগান করার প্রক্রিয়া চলছে।  চা প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য লালমনিরহাটে বাংলাদেশ ব্যাংক ও স্থানীয় চা বাগান মালিকের যৌথ উদ্যোগে গড়ে উঠেছে সোমা অ্যান্ড সোমা টি প্রসেসিং লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান। 

সোমা টি প্রসেসিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস আলম জানান, প্রথম দিকে এ অঞ্চলের চাষিদের উৎপাদিত চা পাতা বিক্রি হতো পঞ্চগড় জেলায়।  দূরে নিয়ে বিক্রি করতে চাষিদের পরিবহন খরচ মেটানোর পর তেমন একটা মুনাফা হতো না।  তাই তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করে যৌথ উদ্যোগে নিজ গ্রামে গড়ে তোলেন চা পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা।  এর কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৫ সালের নভেম্বরে।  বর্তমানে চাষিরা প্রতি কেজি ১৮ টাকা দরে কারখানায় কাঁচা চা পাতা সরবরাহ করছেন। 

জানা যায়, জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে সর্বপ্রথম চায়ের চাষ হয় হাতীবান্ধা উপজেলার পূর্ব বিছনদই গ্রামে।  ওই গ্রামের ফেরদৌস আলমের (সোমা টি প্রসেসিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক) স্ত্রী শাহানারা বেগম সোমা জীবিকার সন্ধানে একটি এনজিও প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন পঞ্চগড় জেলায়।  সেখানকার চা বাগান মালিকদের উন্নয়ন ও অগ্রগতি দেখে শখের বশে চা গাছের চারা নিয়ে বাড়ির আঙিনায় রোপণ করেন।  সেই চা গাছটি দিনে দিনে যত বড় হতে লাগল চা শিল্প গড়ে তোলার স্বপ্নটাও যেন সোমাকে তত পেয়ে বসল।  এরপর তিনি আস্তে আস্তে নিজ বাড়ির উঠানে গড়ে তোলেন চায়ের বাগান।  তারপর এনজিওর চাকরি ছেড়ে দিয়ে আত্মনির্ভরশীল হতে নিজের চা বাগানের পরিচর্যায় মনোযোগ দেন সোমা বেগম ও তার স্বামী ফেরদৌস আলম। 

এ দম্পতির একক প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা চা বাগান দেখে এ অঞ্চলের অনেকেই চা বাগান করায় আগ্রহী হয়ে ওঠে।  এসব আগ্রহী চাষিদের সুবিধার জন্য এ দম্পতির পরবর্তীতে গড়ে তোলেন দুটি চা গাছ নার্সারি।  সেখান থেকে সুলভ মূল্যে চারা সংগ্রহ করে এখন অনেক কৃষকই গড়ে তুলেছেন চা বাগান।  নতুন আরো অনেকেই এগিয়ে আসছেন চা বাগান করার পরিকল্পনা নিয়ে। 

হাতীবান্ধা উপজেলার পারুলিয়ার চা বাগান মালিক বদিউজ্জামান ভেলু বলেন, চা বাগানে একবার চারা রোপণ করে পরিচর্যা করলেই কম খরচে অনেক মুনাফা পাওয়া যায়।  তাই তামাক চাষ ছেড়ে দিয়ে দুই একর জমিতে চা বাগান করেছি।  পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা জমগ্রামের চাষি তাজুল ইসলাম ও দহগ্রামের চাষি বেলাল হোসেন জানান, স্বল্প পরিশ্রমে ও কম খরচে চা চাষ করে অধিক মুনাফা পাওয়া যায়।  তাছাড়া জেলায় টি প্রসেসিং কোম্পানি হওয়ায় বিক্রি করতেও ঝামেলা নেই। 

তাই দিন দিন এ জেলায় চা চাষির সংখ্যা বাড়ছে।  তবে জেলায় চা শিল্পের প্রসারে লালমনিরহাটে একটি চা বোর্ড গঠনে সরকারে সুদৃষ্টি কামনা করছি।  এ অঞ্চলের চা বাগানের স্বপ্নদ্রষ্টা সোমা জানান, প্রথম দিকে তিনি অনেকটা শখ করেই চা বাগান শুরু করেন।  সেই শখই তাকে একদিন চা শিল্প গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখায়।  লালমনিরহাটে চা শিল্প পুরোপুরি বিকাশ ঘটলে দেশের অর্থনীতিতে তা যথেষ্ট প্রভাব ফেলবে।  একই সঙ্গে জেলাবাসীর আর্থসামাজিক অবস্থারও ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে।