১০:৩৫ পিএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, রোববার | | ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০




এগিয়ে যাক মহুয়ারা...

১৭ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:১৪ পিএম | মাসুম


এসএনএন২৪.কম : মহুয়া কলেজে পড়ে।  প্রতিদিন তাকে লোকাল বাসে চড়ে কলেজ যেতে হয়।  সবসময় তো অার খালি সিট পায় না, তাই দাঁড়িয়েই যেতে হয়।  কিন্তু কিছু লোকের পাশে দাঁড়াতে তার শরীরটা ঘিনঘিন করে উঠে।  তাদের চোখের চাহনি, হাতের ছোঁয়া শরীরে ঘিন ধরিয়ে দেয়। 

তাদের দেখতে মহুয়ার কাছে ক্ষুদার্ত কুকুরের মতোই লাগে।  পোশাকে তাদের যথেষ্ট ভদ্রতার চাপ।  তারা ভদ্র পোশাক তো পড়ে আসে কিন্তু মনের ভদ্রতা পরিবারের কাছে রেখে আসে।  মহুয়া প্রতিদিনই কিছু না কিছু বলতে চেষ্টা করে কিন্তু ছোট থেকে শিখেছে ভালো মেয়েরা প্রতিবাদ করে না।  কিছু বলতে গিয়েও গলায় এসে আটকে যায় মহুয়ার। 

মহুয়া বাসে উঠে কোনায় দাঁড়ালেও কিছু ভদ্র মুখোশধারীরা মামনি বলে গায়ে এসে পড়ে।  একদিন সাহস করে এক লোককে বলেই দিলো, গায়ে পড়ছেন কেন।  সাথে সাথে লোকটা বলে উঠলো, তোমার মতো আমারও মেয়ে আছে।  এতোই যদি জায়গার দরকার তবে লোকাল বাস কেন সিএনজি করে যাও। 

পুরো  বাসভর্তি লোকগুলো মিটমিট করে হাসছে।  সেদিন কেউই মহুয়ার সাথে সায় দেয় নি বরং লোকটা ঠিক সে ভুল এটাই বুজিয়ে দিলো।  বাস থেকে নামতেই বুক ফেটা কান্না আসলো মহুয়ার।  এই সমাজে প্রতিবাদ করে কি লাভ।  সবাই তাকেই ভুল প্রমান করবে। 

তাই ছোটবেলায় মায়ের শিখানো বুলি আওরালো  মহুয়া, আমি ভালো মেয়ে।  ভালো মেয়ে প্রতিবাদ করে না তারা শুধু কাঁদে। 

মহুয়ারা আমাদের সমাজের এক একটি বাস্তব চিত্র।   কিন্তু একজন মহুয়াদের মাঝেই তো লুকিয়ে অাছে আমাদের কারো কন্যা, কারো বোন কিংবা কারো স্ত্রী।  আসুন, মহুয়াদের পাশে দাঁড়াই। 

লেখকঃ শাকেরা মজুমদার



keya