৮:২৮ পিএম, ১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার | | ১৬ জ্বিলকদ ১৪৪০




এলপিজির দাম বাড়াতে চায় বিপিসি

০৬ জুলাই ২০১৯, ১০:১৯ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম : এবার তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলএপিজি) দাম বাড়াতে চায় বাংলাদেশ পেট্রোরিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। 

অবশ্যই,  ১২ কেজি বোতলের দাম কত নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। 

তবে, বছরে এলপিজি বিক্রিতে ৩৯ কোটি টাকা লোকসান গোনার কথা জ্বালানি বিভাগকে জানিয়েছে।  অথচ গত ১০ বছরে এলপিজি সরবরাহে বিভিন্ন কৌশলের কথা বললেও এলপিজির সরবরাহ বাড়াতে পারেনি বিপিসি।  উল্টো চাহিদার তুলনায় সরবরাহের ক্ষেত্রে  প্রতিষ্ঠানটির অংশীদারিত্ব কমেছে। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে এখন বাৎসরিক এলপি গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ১০ লাখ মেট্রিক টন।  কিন্তু এরমধ্যে বিপিসি সরবরাহ করছে মাত্র ১৬ হাজার মেট্রিক টন।  ২০০৯ সালে  থেকে সরকার বলে আসছে বিপিসির মাধ্যমে এলপিজির সরবরাহ বাড়িয়ে গ্রাহক ভোগান্তি দূর করা হবে।  কিন্তু বাস্তবে বিপিসি গত ১০ বছরে কিছুই করতে পারেনি।  বরং বিপিসির সরবরাহ করা গ্যাস জেলাপর্যায়ে সরকারের পদস্থ কর্মকর্তাদের বাসা-বাড়ির রান্নার কাজেই শেষ হয়ে যায়।  সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এতে দূরই হয় না। 

২০০৯ সালে প্রথম দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী জানিয়েছিলেন, দেশে মানুষের রান্নাঘরের সংকট সামাল দিতে এলপিজি সরবরাহ কাজ করা হবে।  এজন্য চট্টগ্রাম ও মোংলায় তিন লাখ মেট্রিক টন করে দুটি এলপিজি প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হবে।  কিন্তু ১০ বছরে এই প্রকল্পের কাজই শুরু করেতি পারেনি বিপিসি। 

প্রতিষ্ঠানটির কর্মর্তারা বলছেন, চট্টগ্রামের প্ল্যান্টের বিষয়ে কোনও দিন বিপিসি আলোচনাই করেনি। আর মোংলারটি নিয়ে কিছু প্রক্রিয়াগত কাজ হয়েছে। তবে এখনও নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।  বিষয়টি নিয়ে সরকার অন্তত ৫৪টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এলপিজির লাইসেন্স দিয়েছে। এরমধ্যে ১৫ থেকে ১৬টি প্রতিষ্ঠান এখন বাজারে রয়েছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমান বলেন, ‘নতুন অর্থবছরের বাজেটে এলপিজির ভ্যাট ট্যাক্স বাবদ একটি বড় অঙ্ক যোগ হচ্ছে।  এমনিতেই লাভ ছাড়াই এলপিজি বিক্রি করে বিপিসি। ’

মো. সামছুর রহমান বলেন, ‘বাজারে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি করি আমরা।  তবে, আমাদের এলপিজির পরিমাণ কম।  এই অবস্থায় আমরা জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কাছে এলপিজির দাম বাড়াবে নাকি লোকসান গুনবে বিপিসি, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছি। ’ তিনি বলেন, ‘এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী।  ফলে জ্বালানি মন্ত্রণালয় হয়ে সিদ্ধান্ত এলে আসবে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে।  আমরা শুধু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবো।  ফলে দাম বাড়বে কিনা,  তা আমাদের ওপর নির্ভর করছে না।  তবে দাম না বাড়ালে প্রতিদিন এক থেকে দেড় লাখ টাকা লোকসান গুনতে হবে। ’

জানা গেছে, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রস্তাব যাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে।  বিপিসি বলছে দাম না বাড়ালে বছরে ৩৯ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হবে।  যেখানে সরবরাহ বাড়িয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে বিপিসির ভূমিকা রাখার কথা ছিল তার বিপরীতে বাজার তুলে দেওয়া হয়েছে বেসরকারি ব্যবসায়দের কাছে।  এখন নিজেদের সামান্য সরবরাহেও বাণিজ্যিক ধারায় পরিচালিত করতে চায় বিপিসি। 

এলপি গ্যাসের এ চাহিদার দেড়ভাগের একটু বেশি এলপিজির জোগান দেয় বিপিসি’র সহযোগী প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস লিমিটেড।  সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের সাড়ে ১২ কেজি ওজনের প্রতি সিলিন্ডার এলপি গ্যাসের মূল্য ৭০০ টাকা।  ২০০৯ সাল থেকে এ দামেই এলপি গ্যাস বিক্রি করছে তারা। 


keya