১০:১৪ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার | | ১৮ সফর ১৪৪১




এসএনএন ২৪.কম এর খবর প্রকাশের পর কিশোর কুমারের পাশে উপজেলা চেয়ারম্যান

০৪ জুলাই ২০১৯, ০৬:১৪ পিএম | নকিব


আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ ‘সন্তানকে ভর্তি করাতে কিডনি বিক্রি করতে চাইলেন মা’ শিরোনামে এসএনএন২৪.কম এর খবর প্রকাশের পর অনেকে তার লেখাপড়ার দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।  

বৃহস্পতিবার (৪ ঠা জুলাই) দুপুরের দিকে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস ফারুক কিশোর কুমারের বাবা কৈলাশ চন্দ্র ও মা কিরনবালার হাতে ৪ হাজার টাকা তুলে দেন। 

জানাগেছে, ছেলে অদম্য মেধাবী চীনের এন্ডহুই প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর অব ডিগ্রী সিভিল ইঞ্জিনিযারিং (৪ বছর মেয়াদী) কোর্সে শিক্ষা বৃত্তির সুযোগ পান ছেলে কিশোর কুমার।  মা কিরন বালা ছেলের ভর্তি ও চীনে যাওয়ার টাকা সংগ্রাহ করতে না পেরে নিজের কিডনি বিক্রির সিন্ধান্ত নেন। 

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় পলাশী ইউনিয়নের কিসামত ক্ষুদ্র চন্দ্রপুর গ্রামে দিনমজুর ও কৈলাশ চন্দ্রে স্ত্রী কিরন বালা।  তাদের দুই ছেলের মধ্যে বড় কিশোর কুমার ও ছোট ছেলে মিলন দশম শ্রেণীর ছাত্র।  জায়গা জমি নেই।  পাঁচশতক জমির উপর তাদের ঘর।  

দুই ছেলে মধ্যে বড় ছেলেকে ভর্তি করার অর্থ যোগাড় করার কোন উপায় না থাকায় কিডনি বিক্রি করে ছেলেকে মানুষ করার স্বপ্ন পূরন করতে চান গর্ভধারিনী মা।  সেই সাথে স্বামীকেও একটি কিডনি বিক্রি করার অনুরোধ করছেন কিরন বালা। 

কিশোর কুমার খুব মেধাবী তার স্বপ্ন লেখাপড়া শিখে বড় হয়ে দেশের জন্য কাজ করবে।  কিন্ত সংসারে অভাব থাকায় রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর গ্রামে নানা বাড়িতে থেকে ২০০৮ সালে মহিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে ৫ম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি এবং ২০১৩ সালে একই বিদ্যালয হতে ৮ম শ্রেণীর জে এস সি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে গোল্ডেন এ প্লাস পায়।  ঔ বিদ্যালয় হতে ২০১৫ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এস এস সি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে জিপিএ ৫ পায়।  এস এস সি পাশ করে সে ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক্যাল সরকারী কলেজে টেকনোলজিঃ আরটিকিউচার এন্ড ইন্টারিয়র ডিজাইন ৪ বছর মেয়াদী কোর্সেও মেধা তালিকায় কৃতকার্য হন।  এই মহাবিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত অবস্থায় সে আন্তর্জাতিক শিক্ষা স্কুল, এন্ডনহুই প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মাআনসান,আনহুই, চায়নায়-ব্যাচেলর ডিগ্রী, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে পড়ার সুযোগ চেয়ে আবেদন করে। 

তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এন্ডহুই প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার আবেদন মঞ্জুর করে।  আগামী ১৬-৯-২০১৯ এবং ১৭-৯-২০১৯ইং তারিখের মধ্যে রেজিষ্ট্রেশন করার আহবান করে।  ৪ বছর মেয়াদী সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে রেজিষ্ট্রেশন করতে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা ফি দিতে হবে। 

কিশোর কুমারের বাবা কৈলাশ চন্দ্র বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস ফারুক ভাই আমার সন্তানের পাশে দাঁড়িছেন কৃতজ্ঞ প্রকাশ করছি।   

এ প্রসঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস বলেন, কিশোর কুমারকে নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়।  সেটা দেখে আমি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে আমার যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করার দায়িত্ব নিয়েছি।