৯:৪৯ এএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, রোববার | | ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০




এসএসসি পরীক্ষা দেয়া হলো না নাহারের

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১:০২ পিএম | সাদি


আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ফিরে এসেও পরীক্ষা দেওয়া হলো না জান্নাতুন নাহার নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর।  মঙ্গলবার লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।  পরীক্ষার্থী জান্নাতুন নাহার ওই উপজেলার কেতকীবাড়ি এলাকার আতিয়ার রহমানের মেয়ে।  সে কেতকী বাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।  পরীক্ষার্থী ও কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টরা জানান, এর আগের সবগুলো পরীক্ষা সুন্দরভাবে দিয়েছে নাহার।  কিন্তু জ্বরের কারণে মঙ্গলবার সকালে হালকা খাবার খেয়ে সে পরীক্ষা দিতে আসে। 

বাংলাদেশের ইতিহাস বিষয়ে পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ পরে হঠাৎ তার মাথা ব্যথা ও প্রচণ্ড জ্বর শুরু হয়।  এ সময় কেন্দ্রে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে একসঙ্গে দুইটা প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খাওয়ায়।  কিন্তু পেটে তেমন কোনো খাবার না থাকায় কিছুক্ষণ পর সে আরো অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।  সেসময় দায়িত্বরতরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেয়। 

সেখানে চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ বোধ করলে জান্নাতুন আবারো পরীক্ষা কেন্দ্রে ফিরে আসে নৈব্যত্তিকে অংশ নিতে।  কিন্তু অনেক অনুনয় বিনয় করলেও কেন্দ্রের দায়িত্বরতরা তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেননি।  অবশেষে কান্নাকাটি করে বাড়ি ফিরে যায় নাহার।  পরীক্ষা দিতে না পারায় সে আরো অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে জানায় নাহারের বাবা আতিয়ার রহমান।  তাকে বাড়িতে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি। 

হাতীবান্ধা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব মাহাতাব উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘মেয়েটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে এলে তাকে আবারও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি।  কিন্তু পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বরত ট্যাগ কর্মকর্তা এ নিয়ে আপত্তি তোলায় আমাদের আর কিছু করার ছিল না। '

ওই পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার হাতীবান্ধা উপজেলা মধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়েটি হাসপাতাল থেকে এসে আবারও পরীক্ষা দিতে চাইলে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে হাতীবান্ধা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানাই।  যেহেতু কোনো পরীক্ষার্থী বাইরে গেলে আর পরীক্ষা কেন্দ্রে এসে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে না, সেহেতু ইউএনও‘র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে আর পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি। 

একই কথা বলেন হাতীবান্ধা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম।