১২:২০ এএম, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার | | ১৮ সফর ১৪৪১




ঐতিহ্যের টানে জাবি লিও ক্লাবের ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন

০১ জুলাই ২০১৯, ১০:৪৫ এএম | নকিব


শিহাব উদ্দিন, জাবি প্রতিনিধি : বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা ও সচেতনতা বৃদ্ধির মানসে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী গুরুত্বপূর্ণ স্থান, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও  বিমানবাহিনী জাদুঘর পরিদর্শন করেছে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লিও ক্লাব জাবি শাখা। 

লিও ক্লাব জাবি শাখার সম্মানিত উপদেষ্টা লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক ড. জেবউননেছা'র উদ্যোগে আয়োজিত হয় এই সফরটি। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির জাবি শাখার সভাপতি লোকপ্রশাসন বিভাগের ৪৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোঃ ফিরোজ হাসান, সাধারণ সম্পাদক সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৫ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোঃ হাবিবুর রহমান ও সংগঠনটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। 

পৃথিবীর মানচিত্রে ছোট একটি স্বাধীন দেশ বাংলাদেশ।  স্বাধীন বাংলাদেশের বুকে আজ স্বাধীনভাবে পতপত করে উড়ছে লাল সবুজের পতাকা।  কিন্তু এই পতাকার পেছনে রয়েছে শত সংগ্রামের ইতিহাস।  রয়েছে সুদীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ইতিহাস।  স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের সকলেরই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বীরত্বে গাঁথা বাঙালির ইতিহাস, শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস, লাখো মা-বোনদের জীবন ও সম্ভ্রম উৎস্বর্গের ইতিহাস জানা আজ সময়ের দাবি।  যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পেলাম এই স্বাধীন বাংলাদেশ, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও জানার উদ্দেশ্যে এই পরিদর্শন। 

পরিদর্শনের সময় সম্মানিত উপদেষ্টার নেতৃত্বে জাদুঘরের নিচতলায় মুক্তিযুদ্ধের উপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।  তারপর জাদুঘরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্বলিত ৪ টি গ্যালারি পর্যায়ক্রমে পর্যবেক্ষণ করা হয়।  পরিদর্শন শেষে জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়কের দ্বারা মুক্তিযুদ্ধের উপর একটি বিশেষ কুইজ পরীক্ষার ব্যাবস্থা করা হয়।  পরিক্ষা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সম্মানিত উপদেষ্টা ও জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়ক। 

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী জাদুঘর পরিদর্শন করা হয়।  পরিদর্শন শেষে জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।  আলোচনা সভায় সম্মানিত উপদেষ্টা বলেন," আমরা সকলে অনেক ভাগ্যবান যে এমন একটা আন্তর্জাতিক সংগঠনের সদস্য হতে পেরেছি।  আমাদের সকলকে যোগ্য সদস্য হিসেবে গড়ে উঠতে হবে এবং আমাদের এই সংগঠনকে আরও অনেক দূরে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।  সেজন্য আমাদের চিন্তাভাবনাকে শুধু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০০ একরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাইরের পৃথিবী সম্পর্কেও জ্ঞান অর্জন করতে হবে।  তাই যখনই সময় পাবে তখনই এমন একটি সফরের আয়োজন করবে।  এতে করে মেধা ও মন বিকশিত হবে। " এছাড়াও তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। 

প্রসঙ্গত, লিও ক্লাব হচ্ছে একটা আন্তর্জাতিক যুব সংগঠন।  এটা "Lions Clubs International" এর একটা অঙ্গ সংগঠন।  এর প্রধান অফিস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত।  এটি হচ্ছে বিশ্বের মানবসেবা প্রিয় ব্যক্তিদের একটা সংগঠন।  যারা তাদের সম্পদের একটা অংশ সমাজে অবহেলিত এবং বঞ্চিত মানুষের সেবায় ব্যয় করে (বিল গেটস্, মার্ক জাকার্বাগ, আম্মানি, এমনকি আমাদের প্রধানমন্ত্রীও এর সদস্য)।  যেমন বাংলাদেশে লায়ন্স ক্লাব স্বাস্থ্য সেবা, বিশেষ করে চক্ষু সেবা এবং ভিটামিন টিকা দেওয়ার কাজ করে।  আজ থেকে প্রায় ৫৯ বছর পূর্বে ১৯৫৭ সালে আমেরিকার পেলসেলভিনিয়া অঙ্গরাজ্যের মাল্টিপল জেলা-১৪ এর অন্তর্গত সাব-ডিসট্রিক্ট-১৪ এর অধীনে এভিংটন স্কুলের বাস্কেটবল টিমকে নিয়ে "এভিংটন স্কুল লিও ক্লাব" নামে লায়ন জিম গ্রাভারের মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম লিও ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়।  যার অভিভাবক লায়ন্স ক্লাব হিসেবে ছিল "গ্লেন-সাইড লায়ন্স ক্লাব"। 

আর বাংলাদেশে লিও ক্লাবের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৩ সালে "কমলাপুর লিও ক্লাব" প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।  যার স্পন্সর লায়ন্স ক্লাব ছিল "ধানমন্ডি লায়ন্স ক্লাব"।  লিও ক্লাব অব ঢাকা গেন্ডারিয়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় লিও ক্লাব, যা প্রতিষ্টিত হয়েছে ১৯৭৪ সালের ১৯শে জুন । 

প্রত্যেকটা লিও ক্লাবেরই একটা  স্পন্সর লায়ন্স ক্লাব থাকে।  যেমন "লিও ক্লাব অব ঢাকা গেন্ডারিয়া" এর স্পন্সর লায়ন্স ক্লাব হচ্ছে "লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা"।  বর্তমানে প্রায় ৬,০০০টি লিও ক্লাব, এবং প্রায় ২,০০০০০ জন লিও, লায়ন্স ক্লাবের সাথে বিশ্বের প্রায় ২১০ টি দেশে কাজ করছে।  যেখানে লিও ক্লাবের সংখ্যায় বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম স্থানে আছে।  কিছু কাজ করে থাকে।  যেমন - বৃক্ষ রোপণ, রক্তদান, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ( দাঁত পরীক্ষা, ডায়াবেটিক, রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা, সাধারণ রোগী দেখা, রোগের চিকিৎসা ইত্যাদি), স্কুলে বাচ্চাদের স্বাস্থ্য সচেতন করার জন্য ক্যাম্পেইন করা।  পথ শিশুদের জন্য কাজ করা ( যেমন পড়ানো, কাপড় দেওয়া, খাবার ব্যবস্থা, কাজের ব্যবস্থা করা) ঠিকা খাওয়ানো (ভিটামিন, কৃমিনাশক), সন্ত্রাস ও মাদক বিরুধী সভা - সেমিনার।  প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ত্রাণ সহায়তা সহ অন্যান্য সাহায্য সহযোগিতা করে থাকে।