১২:১৩ এএম, ২০ অক্টোবর ২০১৮, শনিবার | | ৯ সফর ১৪৪০


ঐতিহাসিক বৈঠকে ট্রাম্প-কিম

১২ জুন ২০১৮, ১০:১৮ এএম | মোহাম্মদ হেলাল


এসএনএন২৪.কম : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে ঐতিহাসিক বৈঠক চলছে।  স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল সিঙ্গাপুরের স্যান্তোসা দ্বীপের হোটেল দ্য ক্যাপেলোতে এই বৈঠক শুরু হয়।  

বৈঠকের শুরুতে বিশ্বের আলোচিত এই দু’নেতা পরস্পরের সঙ্গে করমর্দন করেন।  সঙ্গে থাকা দোভাষীর মাধ্যমে কিছু কথা বিনিময়ের পর তারা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন। 

করমর্দনের পর দুই নেতা ফটোসেশনে যোগ দেন।  এ সময় বৈঠক সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা অসাধারণ একটি আলোচনায় বসতে যাচ্ছি এবং আমি মনে করি, এটি সফল হবে। ’

কিম জং উনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পেরে ট্রাম্প নিজেকে সম্মানিত মনে করছেন।  একই সঙ্গে তিনি জানান, আমাদের মধ্যকার সম্পর্ক হতে যাচ্ছে চমৎকার, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। 

এ সময় কিম বলেন, ‘আজকের এই বৈঠকে আসার পথ মোটেও সহজ ছিল না।  পুরোনো পূর্বধারণা ও অভ্যাস আমাদের অগ্রগতিতে বাধা হিসেবে কাজ করেছে।  কিন্তু, আমরা সেসবকে পরাজিত করে আজ এখানে আসতে পেরেছি। ’

বৈঠকে ট্রাম্প ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও, হোয়াইট হাউসের প্রধান কর্মকর্তা জন কেলি ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন উপস্থিত রয়েছেন।  অন্যদিকে, কিম জং উন ছাড়া তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং-হো এবং কিমের ডান-হাতখ্যাত ইয়ং-কোল উপস্থিত রয়েছেন। 

এর আগে গত রোববার এই বৈঠকের জন্য সর্বপ্রথম সিঙ্গাপুরে যান উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম।  চায়না এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে তিনি সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।  এ সময় তার পরনে ট্রেডমার্ক মাও স্যুট ছিল।  রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে এটাই কিমের সবচেয়ে দীর্ঘযাত্রা। 

কিম পৌঁছানোর প্রায় ছয় ঘণ্টা পর সিঙ্গাপুরে আসেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের আকাশযান এয়ারফোর্স ওয়ান-যোগে সিঙ্গাপুরের পায়া লিবার বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করেন।  সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণন তাকে স্বাগত জানান। 

এরপর সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি হেইন লুংয়ের সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক করেন ট্রাম্প ও কিম। 

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সুযোগ তৈরি করছে ট্রাম্প ও কিমের মধ্যকার বৈঠক।  বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র থেকে শুরু করে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলবেন এই দু’নেতা। 

ওয়াশিংটন পরিপূর্ণ, যাচাইযোগ্য ও অপরিবর্তনীয় পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের (সিভিআইডি) নিশ্চয়তা চায় উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে।  ট্রাম্প বলছেন, পিয়ংইয়ংকে পারমাণু কর্মসূচি ত্যাগ করতে হবে।  যদি তারা সেটা না করে, তবে আলোচনা গ্রহণযোগ্য হবে না। 

বৈঠক সামনে রেখে পিয়ংইয়ংও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতির কথা বলছে।  তবে কোন শর্তে কিম পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের পথে যাবেন, তা এখনো স্পষ্ট করেননি। 

বিগত দেড় বছর ধরে দু’নেতার মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন-অবনয়ন চলছে।  একজন আরেকজনকে নানা উপাধি দেয়া ছাড়া যুদ্ধের হুমকিও দিয়েছেন।  পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ নিয়ে তাদের মধ্যে একটা সময়ে ব্যাপক বাতচিৎ হয়। 


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সে সময়ে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনকে ‘খুদ রকেট মানব’ ও ‘খাটো মোটকু’ আখ্যায়িত করেছিলেন।  জবাবে কিমও ট্রাম্পকে ‘ভীত কুকুর’ ও ‘মানসিক ভারসাম্যহীন বুড়ো’ বলেছিলেন। 

অবশেষে চলতি বছরের শুরুর দিকে উভয়ই আলোচনায় বসার ব্যাপারে একমত হন।  এরই ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ কোরিয়া সফর করেন কিম।  একবার ট্রাম্প তাদের সম্ভাব্য এই বৈঠক বাতিলও করেছিলেন।  তবে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত দিনেই বৈঠকে বসলেন ট্রাম্প এবং কিম।