১০:২২ এএম, ২০ অক্টোবর ২০১৮, শনিবার | | ৯ সফর ১৪৪০


ওবামার সাক্ষাৎকার নিলেন প্রিন্স হ্যারি

২৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ০১:১৩ পিএম | সাদি


এসএনএন২৪.কম : ব্রিটেনে বিবিসির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ অনুষ্ঠান রেডিও ফোরের ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে একদিনের জন্য অতিথি সম্পাদনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন প্রিন্স হ্যারি। 

অনুষ্ঠানে তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একটি সাক্ষাৎকার নেন।  এ বছর জানুয়ারি মাসে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার পর এটা ছিল বারাক ওবামার একটি বিরল সাক্ষাৎকার। 

ওই সাক্ষাৎকারে বারাক ওবামা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দায়িত্বহীন ব্যবহার সম্পর্কে হুঁশিয়ারি দেন।  ওবামা বলেন সোশাল মিডিয়ার এ ধরনের অপব্যবহারের ফলে মানুষের জটিল বিষয় সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা জন্মাচ্ছে, ভুয়া তথ্য সমাজে ছড়াচ্ছে এবং নাগরিক সমাজের মতপ্রকাশে একটা ক্ষয়িষ্ণু মানোভাব উঠে আসছে। 

ওবামা তার উত্তরসূরী ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করে বলেছেন যারা নেতৃত্বে রয়েছেন তাদের উচিত যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মতামত পোস্ট করবেন তখন দায়িত্ব নিয়ে তা করা । 

‘আমরা যখন ক্ষমতায় থাকি বা নেতৃত্ব গ্রহণ করি তখন ইন্টারনেটে সর্বসাধারণের ব্যবহারযোগ্য একটা জায়গা কীভাবে তৈরি হতে পারে সেটা আমাদেরই ভাবতে হবে’- বলেন ওবামা। 

এই দায়িত্ব পালনের সূত্র ধরে প্রিন্স হ্যারি বলেন কীভাবে জনগণ সমাজে বদল ঘটানোর কাজটা করতে পারেন।  অনুষ্ঠানে তিনি তার বাবা প্রিন্স চার্লসেরও সাক্ষাৎকার নেন।  ২০১৮ সাল ‘দারুণ যাবে’ বলে প্রিন্স হ্যারি মনে করেন। 

‘আমি আশা করব প্রত্যেক মানুষই তাদের কাছে যেসব বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা নিয়ে ভাববেন এবং প্রত্যেক মানুষের অবদানই সমাজে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারবে। ’

ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের পঞ্চম উত্তরাধিকারী প্রিন্স হ্যারির বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট।  ইন্টারনেটের বাইরেও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ জরুরি। 

বারাক ওবামা বলেছেন, তিনি এমন একটা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন যেখানে সংশ্লিষ্ট তথ্য পরিহার করা হচ্ছে এবং মানুষ শুধু এমন জিনিস পড়ছে বা শুনছে যা শুধুই কারও ব্যক্তিগত মতামত। 

‘ইন্টারনেটের একটা ঝুঁকি হল সেখানে মানুষ সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা বাস্তবতার মুখোমুখি হতে পারে।  পক্ষপাতদুষ্ট তথ্যের আবরণ সেখানে মানুষকে গ্রাস করতে পারে। ’

‘এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল এই প্রযুক্তি আমরা কীভাবে ব্যবহার করতে পারি যেখানে ভিন্ন মানুষের কণ্ঠ, ভিন্ন ধরনের মতামত আমরা তুলে ধরব।  সেখানে একটা সমাজকে আমরা শুধু বিভক্ত করে ফেলব না, বরং ভিন্ন মতামতের আলোকে একটা অভিন্ন অবস্থান কীভাবে খোঁজা যায় সেটা দেখা’- বলেন ওবামা। 

ওবামার উত্তরসূরী ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইটার ব্যবহার করেন প্রচুর, কিন্তু ওবামা তার নাম উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছেন। 

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে যে তিনি টুইটার ব্যবহার করেন বেশি মাত্রায় এবং তিনি ফলো করেন খুবই সীমিতসংখ্যক কিছু ব্যবহারকারীকে।  তবে ট্রাম্পের যুক্তি এর মাধ্যমেই তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন। 

ওবামা বলেন উগ্র মতামত খণ্ডন করার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সরাসরি মানুষের মুখোমুখি হওয়া। 

‘অভিন্ন স্বার্থের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের জন্য খুবই শক্তিশালী মাধ্যম হলো সোশাল মিডিয়া।  এই মিডিয়া এসব মানুষকে একে অপরকে জানার ও তাদের মধ্যে যোগাযোগের সুযোগ করে দিচ্ছে। ’

কিন্তু ওবামা বলেন এরপরও ‘তাদের ইন্টারনেটের বাইরে সামাজিকভাবে মেলামেশার প্রয়োজন রয়েছে, সামাজিক পরিবেশে একে অপরকে জানার চেষ্টা খুবই জরুরি। ’

‘কারণ মূল বিষয়টা হল ইন্টারনেটে মতবিনিময় করার ক্ষেত্রে সবকিছু খুব সহজ মনে হয়, কিন্তু মানুষের সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলতে গেলে একই বিষয় অনেক জটিল হয়ে ওঠে। ’

সাবেক প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ের অনুভূতি নিয়ে খোলামেলা আলাপ করেছেন। 

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের নানা চ্যালেঞ্জের কথা, এ সময় কীভাবে পরিবারের সদস্যরাও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন।  তবে তিনি বলেন একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারাটাই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পুরস্কার। 

ওবামা বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালীন তার স্ত্রীকে কীভাবে তিনি সার্বক্ষণিকভাবে তার পাশে পেয়েছেন। 

তিনি বলেন, ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোটা তার জন্য মিশ্র অনুভূতির।  ‘অনেক কাজ বাকি ছিল’- মন্তব্য করেন ওবামা। 

তবে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের দুই কোটি মানুষ যারা আগে স্বাস্থ্য বীমার আওতায় ছিল না তারা যে এখন এই বীমা ব্যবস্থার আওতায় এসেছে এটা একটা বিরাট অর্জন। ’

কী বললেন প্রিন্স হ্যারি?

টুডে সংবাদ অনুষ্ঠান সম্পাদনা করা ছাড়াও প্রিন্স হ্যারি অনুষ্ঠানে একটি সাক্ষাৎকারও দেন, যেখানে তিনি সাময়িক ঘটনাবলীর অনুষ্ঠান সম্পাদনার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন। 

‘আমি খুব বেশি সাক্ষাৎকার নিইনি।  তবে সাক্ষাৎকার নিতে আমি খুব মজা পেয়েছি।  বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ওবামার সাক্ষাৎকার নেয়াটা দারুণ অভিজ্ঞতা, যদিও উনিই আমার সাক্ষাৎকার নিতে চাইছিলেন। ’

‘এখানে অনেক কিছু শেখার আছে।  কিন্তু বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ যেগুলো নিয়ে অনেক কিছু ভাবার আছে এবং অনেক কিছু আলোচনা করার অবকাশ আছে। ’

তার সম্পাদিত অনুষ্ঠানে প্রাধান্য পায় মানসিক স্বাস্থ্য, তরুণদের অপরাধ-প্রবণতা, জলবায়ু পরিবর্তন ও ব্রিটেনের সশস্ত্র বাহিনী সংক্রান্ত বিষয়গুলো।