১:০১ এএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বুধবার | | ১৫ মুহররম ১৪৪০


কাঙ্ক্ষিত সেবা নেই জাককানইবি' মেডিকেল সেন্টারে

০৫ মার্চ ২০১৮, ১০:৪৩ এএম | জাহিদ


এস.এম.মহিউদ্দিন সিদ্দিকী, জাককানইবি প্রতিনিধি : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯টি বিভাগের বিপরীতে শিক্ষার্থী সংখ্যা ছয় হাজারের অধিক এবং শিক্ষক একশত একপঞ্চাশ জন, আরও রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী এই বিপুল জনবলের চিকিৎসা সেবার জন্য ডাক্তারের স্বল্পতা, ঔষধ সংকট, প্রয়োজনীয় ট্যাবলেট না থাকা, শুক্রবার ও শনিবার মেডিকেল সেন্টার বন্ধ থাকা, ২৪ ঘন্টা মেডিকেল খোলা না থাকা- সহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাথার দান মেডিকেল সেন্টার। 

জানা যায়,রাত্র ৮ টার পর থাকেন না কোনো চিকিৎসক।  শুক্রবার ও শনিবার সর্বক্ষণ বন্ধ থাকে ব্যাথার দান।  ফলে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যেতে হয় রোগীদের।  এসব বিষয়ে উদাসীন কর্তৃপক্ষ।  কোনো মাথাব্যাথা নেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।  এক প্রকার উদাসীনতা আর গড়িমসিতেই চলছে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাথার দান মেডিকেল সেন্টারটি। 

কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাথার দান মেডিকেল সেন্টার ঘুরে দেখা গেছে, নানা অবহেলার চিত্র।  মেডিকেলে প্রবেশ গেইটের সাথেই থাকে ওজন মাপার মেশিন, কিন্তু সেটা দিয়ে আদৌ ওজন মাপা যায়না, সর্বক্ষণ অকেজো থাকে ওজন মাপার মেশিনটি।  মেডিকেলে চার থেকে পাঁচজন জন রোগী দাঁড়িয়ে আছেন ডাক্তার দেখানোর জন্য, কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর রোগীদের কাছ থেকে পাওয়া গেল  প্রয়োজনীয় ঔষধ না থাকার আক্ষেপ। রোগীদের অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, বসার ও তেমন কোনো সুব্যবস্থা নেই। 

ব্যাথার দান মেডিকেল সেন্টারে জরুরী রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের জন্য  জরুরী ওয়ার্ড না থাকায় ছাত্র, ছাত্রীদের ভোগান্তির শেষ নেই।  উন্নত সেবা দেওয়ার জন্য  তেমন কোন যন্ত্রপাতি নেই।  অপরদিকে চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য যেসব যন্ত্রপাতি রয়েছে সেগুলোরও বেহাল দশা। 

ব্যাথার দান মেডিকেল সেন্টারে সর্বক্ষণিক রোগী পরিবহনের জন্য ১ টি অ্যাম্বুলেন্স  রয়েছে, যা কিনা সঠিক সময়ে পাওয়া যায় না, ফলে রোগীদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়।  প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা ও রোগ নির্ণয়ের জন্য নেই পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে গুরুতর রোগে আক্রান্ত রোগীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা প্রদানে বেগ পেতে হচ্ছে রোগীদের। 

উন্নত যন্ত্রপাতির অভাবে গুরুতর রোগে আক্রান্ত রোগীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রদানে অনেক সময় হিমশিম খেতে হয় কর্তৃপক্ষকে। 
এছাড়াও, প্যাথলজি ইউনিট, ফার্মাসিটিক্যাল ইউনিট, মেশিন, ল্যাব, এক্র-রে মেশিন, চোখের সমস্যা, ব্লাডের সমস্যা, পেটের গুরুতর পিড়া, জন্ডিস, ডেঙ্গুজ্বরের মতো গুরুতর রোগের চিকিৎসার জন্য নেই যন্ত্রপাতি। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মেডিকেল সেন্টারটি প্রথমে টিচার'স ক্লাবের সাথে,পুলিশ ফারির সামনে স্থাপন করা হয়েছিল।  পরবর্তীতে উন্নত সেবা দেওয়ার জন্য স্থান পরিবর্তন করে, নতুন করে অনেক গুলা রুম বাড়িয়ে ব্যাথার দান নামে মেডিকেল সেন্টার তৈরী করা হয়, কিন্তু পরিবর্তন হয়নি চিকিৎসা সেবার মান। 

২০১৪-১৫ সেশনের, ফাইন্যান্স আ্যন্ড ব্যাংকিং বিভাগের হাবিবুর রহমান জীবন বলেন, সব রুগের একি ঔষধ, আর তা হল নাপা, এলাট্রল।  আর জারা  ট্যাবলেট দেয়,তারা এমন ভাব করে  জেনো তাদের নিজের সম্পত্তি আমায় দিচ্ছে।  আরও বলেন, আমরা ২৪ ঘন্টা মেডিকেল সেবা ও প্রয়োজনীয় সকল রুগের ট্যাবলেট  চায়। 

অর্থনীতি বিভাগের এক ছাত্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্যাথার দান নামে মাত্র মেডিকেল সেন্টার।  "ব্যাথার দান" অামাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র মেডিকেল সেন্টার।  জরুরি মুহূর্তে ডাক্তার না থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসার ঔষধ পর্যন্ত পাওয়া যায় না।  ফাল্গুন-চৈত্র মাসে তীব্র তাপে যখন স্যালাইনের জন্য যাওয়া হয়, তাদের একটাই উত্তর অার তা হলো এখন স্যালাইন নেই। 

চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকে দেখে আসছি ডাক্তার মোটামুটি ভাবে দেখে ওষুধের স্লিপ হাতে ধরিয়ে দেন, ঔষধ চাইলে বলে ঔষধ নেই।  বাহির থেকে কিনে নিবেন। তাই উধ্বর্তন কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের দৃষ্টি অাকর্ষণ করে অামাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র মেডিকেল সেন্টারটির উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার অনুরোধ জানাচ্ছি। 

এছাড়া  একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ডাক্তার  ১০ দিনের ঔষদ লিখে দিলে,মেডিকেল থেকে দেওয়া হয় ২/৩ দিনের ট্যাবলেট। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মেডিক্যাল কর্মকর্তা জানান, মেডিকেলের জন্য বাজেট খুবই সীমিত।  যা বাজেট হয় তা দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমানের ঔষধ এবং উন্নত যন্ত্রপাতি ক্রয় করা সম্ভব হচ্ছে না।  তিনি আরও বলেন, ঔষধ দিতে কোনো ধরনের অবহেলা করা হয় না।  কিছু কিছু ঔষধ এখানে থাকে না, যার জন্য বাহির থেকে ক্রয় করতে হয়।