২:০৪ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | | ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

মডেল-অভিনেত্রী রাহা তানহা খান

‘কিছু না জেনে এমন কাজ আর করব না’

০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০২:০২ পিএম | ফখরুল


এসএনএন২৪.কম:‘আমি বুঝিনি এমন কিছু হবে।  আমাদের শুটিংয়ের আগে কোনো স্ক্রিপ্ট দেয়া হয়নি।  এর আগে একই পরিচালকের আরেকটি কাজ করেছিলাম আমরা নেপালে।  সেখানে আমি স্পর্শীয়া, শামিম, তৌসিফ ভালো বন্ধু হয়ে গিয়েছিলাম।  এবারও যখন গাজীপুরের একটি রিসোর্টে শুটিং করি, ভাবলাম বন্ধুদের সঙ্গে মজা করতে করতেই শুটিং হয়ে যাবে।  কিন্তু শুটিংয়ের পর ওখানেই মনে হয়েছে, আমরা হয়তো খুব একটা ভালো কাজ করছি না। 

ডায়লগগুলো শুটিং করার সময় তো বন্ধুদের সঙ্গে মজা করে দিয়ে দিয়েছি।  কিন্তু পরে মনে হয়েছে ব্যাপারটি ঠিক হয়নি।  কারণ আমার একটা কেরিয়ার আছে, ওদেরও।  তখন আর কিছু করার ছিল না।  প্রমো দেখে মনে হয়েছে আসলেই ভুল করে ফেলেছি।  ডাবল মিনিংয়ের ডায়লগগুলো খুবই বাজে লাগছে। 

প্রমোতে আরেকটা দৃশ্যে আমার পা ধরে আছে একজন, তখন যে ডায়লগটা শোনা যায়, সেটাও এই দৃশ্যের ডায়লগ না।  ডিরেক্টরকে আমি এই দৃশ্যটা না রাখতে বলেছিলাম, কিন্তু প্রমোতেই রেখে দিয়েছে।  স্ক্রিপ্ট না দেখে, কিছু না জেনে শুধু বন্ধুদের সঙ্গে মজা হবে ভেবে আর এ রকম কাজ করব না বলে ঠিক করেছি আমি’- কথাগুলো বলছিলেন মডেল-অভিনেত্রী রাহা তানহা খান। 

যে প্রমোটি নিয়ে রাহা কথাগুলো বললেন সেটির নাম ‘আবাসিক হোটেল’।  এই ওয়েব সিরিজের নির্মাতা ইমরাউল রাফাত।  কী বুঝে তিনি এইসব অশ্লীল আর ডাবল মিনিং ডায়লগ দিয়েছেন অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মুখে, আর তারাই বা কী ভেবে এই নিম্ন শ্রেণির ডায়লগগুলো দিয়ে গেছেন- বোঝা গেল না। 

একই বিষয়ে কথা বলতে ফোন দিলেও স্পর্শীয়া কিংবা তৌসিফ কেউ ফোন ধরেননি। 

৫৮ সেকেন্ডের প্রমোটি আপলোড করা হয়েছে নতুন ইউটিউব চ্যানেল ধ্রুব টিভিতে।  প্রমোর শুরুতে লেখা ‘সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ : হেডফোন কানে দিয়ে ভিডিওটি দেখুন’।  ব্যাপারটি সম্ভবত এমন যে হেডফোন দিয়ে না দেখে লাউড স্পিকারে দেখলে (অথবা শুনলে) যারা দেখছেন, তারা এবং আশপাশের সবাই লজ্জা পাবেন। 

এই অল্প কয়েক সেকেন্ডের প্রমোতে অসংখ্য ডাবল মিনিং ডায়লগ।  সুড়সুড়ি দেয়া সেসব ডায়লগ না দিয়ে পর্ণ মুভি বানালেও অন্ততপক্ষে নির্মাতা কিংবা প্রযোজকের উদ্দেশ্য বোঝা যেত।  ওয়েব সিরিজ মানে কি যে যা খুশি বানাবে? যা খুশি ডায়লগ দিয়ে দিবে? এবং আমাদের প্রিয় কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও চোখ-কান বুজে এগুলো করে যাবেন? সত্যি সেলুকাস! কী বিচিত্র এই দেশ!

অথচ আগে ব্যাপারটি এমন ছিল যে, টিভিতে নাটক দেখে আমরা শুদ্ধ ভাষা শিখতাম, সুন্দর করে কথা বলা শিখতাম।  আর এখন! কী বানাচ্ছে এরা, আর কী দেখাচ্ছে!

যদি এমনও হতো যে নির্মাণের দিকে কারো নজর ছিল, ক্রিয়েটিভিটির দোহাই দিয়ে না হয় সেটাও মেনে নেয়া যেত।  কিন্তু এখানে ক্রিয়েটিভিটিরও তেমন কিছুই নেই।  অপসংস্কৃতি বুঝি এভাবেই ঢুকে যাচ্ছে আমাদের মজ্জায়।  একটুখানি ভিউজ-এর আশায় আমরা কত নীচে নামতে পারি- এই প্রমোটা দেখলে যে কেউ বুঝবেন।  ভিউজের জন্য তারকারা এরপর কী করবেন?

এই লেখাটির নীচে প্রমোর লিঙ্কটা দিলাম না ইচ্ছে করেই।  শুধু শুধু বাজে একটি জিনিসের ভিউজ বাড়িয়ে দেশের কোনো উপকার আমি করতে পারব না।  কেউ চাইলে নিজ উদ্যোগে দেখে নিতে পারেন। 

একটা নাটক কিংবা চলচ্চিত্র শিল্প তিলে তিলে গড়ে ওঠে।  আর সেই শিল্পটাকে ধ্বংস করে দিতে এমন কিছু নিম্নমানের কুরুচিপূর্ণ কাজই যথেষ্ট। 

এই প্রসঙ্গে কথা হয় ডিরেক্টরস গিল্ড-এর সভাপতি গাজী রাকায়েত এবং অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব নাসিম-এর সঙ্গে। 

গাজী রাকায়েত বললেন- ‘প্রমোটি যে খুবই আপত্তিকর সেটা এর নীচে দেয়া কমেন্টগুলো পড়লেই বোঝা যায়।  সরকারের এইসব বিষয়গুলোতে নজর দেয়া উচিত।  এই পরিচালক সম্ভবত ডিরেক্টর গিল্ডের মেম্বার।  এইসব বন্ধে আমরা উদ্যোগ নেবো।  আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির জন্য এটা কোনোভাবেই সুখকর নয়।  যেসব শিল্পীরা কাজ করেছে, তাদের বিষয়ে অবশ্যই শিল্পী সংঘের নেতৃবৃন্দ ব্যবস্থা নেবেন। ’

আর অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব নাসিম বললেন- ‘ভিডিওটি এখনো দেখা হয়নি।  তবে শিল্পীদের বিভিন্ন সমস্যা -সংকট সমাধানে অভিনয় শিল্পী সংঘ কাজ করে যাচ্ছে।  প্রথম থেকে আমরা শিল্পীদের সমস্যাগুলোকে সমাধানের জন্যই কাজ করে আসছি।  আমাদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়গুলো এই মাস থেকেই কার্যকর হবে।  অভিনয়শিল্পীদের প্রতি সাধারণ মানুষের একধরনের আগ্রহ থাকে, তেমনি প্রতিটি শিল্পীরও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে।  কিন্তু তা বিসর্জন দিয়ে যদি কোনো শিল্পী শিল্পকে কুৎসিত জায়গায় নিয়ে যেতে চায়, তাহলে অবশ্যই আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো। ’

অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন- ‘প্রযুক্তি এমন একটি মাধ্যম এটিকে ভলো-মন্দ উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যায়।  কিন্তু কোনোভাবেই সেটির অপব্যবহার করা ঠিক নয়।  এটি যেমনিভাবে আমাদের শিল্পীদের খেয়াল করতে হবে একইভাবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে গুরুত্বের সাথে সচেতন থাকতে হবে।  আরেকটি বিষয় হচ্ছে- দেশ-জাতি ও সমাজ-সংস্কৃতির প্রতি শিল্প-সংস্কৃতির মানুষদের একটা দায়িত্ববোধ থাকে।  সুতরাং তাদের উচিত হবে সকল অপসংস্কৃতিকে রুখে দেশজ সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দেওয়া।  যারা সেটি করছে না তারা কখনোই শিল্পের মানুষ নয়। ’ আর এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম শিল্পী বললেন- ‘এ ধরনের কাজগুলো আইসিটি অ্যাক্ট-এর ৫৭ ধারা এবং অশ্লীলতা ও পর্ণোগ্রাফি আইনের আওতায় পড়ে।  অশ্লীলতাবিরোধী টাস্কফোর্স-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। ’

গাজী রাকায়েত ভিডিওটির নীচে দেয়া যেসব বাজে কমেন্টস-এর কথা উল্লেখ করেছেন, তার থেকে মোটামুটি ভদ্র কয়েকটি কমেন্টস পাঠকদের জন্য এখানে তুলে দেয়া হলো-

‘টোটালি ফালতু থিম।  এখানে যারা অভিনয় করেছে, তাদের কাছ থেকে এটা আশা করিনি’। 

‘নাটকের থিম এমন কিছু হওয়া উচিত না যা মানুষকে খারাপ ম্যাসেজ দেয়।  ফালতু লাগলো’। 

‘কোন ছাগল যে এটা বানাইছে!’

‘লজ্জা করেনা এইসব বানায়া মিডিয়াটা নষ্ট করতে?’  

‘যেই বা** এক্টর আবার বানাইতেছে ফালতু নাটক।  এসব নাটক বানায়ে দেশের নাটকের বারটা বাজাচ্ছে’।